img

এনআইডি সংশোধনের নিয়মে বড় পরিবর্তন

প্রকাশিত :  ০৭:১১, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এনআইডি সংশোধনের নিয়মে বড় পরিবর্তন

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন জারি করা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী, জন্ম তারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের সব আবেদন এখন থেকে মাঠ পর্যায়ের পরিবর্তে সরাসরি এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা হবে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক মুহা. সরওয়ার হোসেনের সই করা এক অফিস আদেশে এই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর নতুন এসওপি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জন্ম তারিখ বা জন্ম তারিখসহ অন্য যে কোনো তথ্য সংশোধনের আবেদনগুলো এখন থেকে ‘ঘ’ ক্যাটাগরি হিসেবে গণ্য হবে। এর আগে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা (আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা) এসব আবেদন বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে (ক, খ বা গ) নিষ্পত্তি করার এখতিয়ার রাখতেন।

আদেশে আরও বলা হয়, প্রজ্ঞাপন জারির আগে মাঠ পর্যায়ে যে আবেদনগুলো জমা পড়েছিল এবং যেগুলোর ক্যাটাগরি আগে নির্ধারিত ছিল, সেগুলো এখন পরিবর্তন করে \'ঘ\' ক্যাটাগরিতে উন্নীত করতে হবে। এনআইডি উইংয়ের অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নথিপত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে মহাপরিচালক পর্যায়ে এগুলো নিষ্পত্তি করবেন।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ইসি তিনটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে :

১. জন্ম তারিখ সংক্রান্ত যে আবেদনগুলো আগে ‘ক-১’ থেকে \'গ\' ক্যাটাগরিতে ছিল, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে হবে।

২. প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব আবেদনের ক্যাটাগরি পরিবর্তন করে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করবেন।

৩. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সংশোধন কার্যক্রম সীমিত থাকায়, বর্তমানে জমে থাকা অনিষ্পন্ন আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন আরও জানায়, কেন্দ্রীয়ভাবে আবেদনগুলোর ক্যাটাগরি নির্ধারণ এবং ডিজি পর্যায়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ফলে এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

তবে মাঠ পর্যায় থেকে সব ফাইল প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হলে কাজের চাপ বাড়তে পারে কি না— তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে কিছুটা সংশয় রয়েছে। এদিকে আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নতুন নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

সস্তা ড্রোন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের মূল্যবান মিসাইলের মজুদ খালি করে দিচ্ছে ইরান

প্রকাশিত :  ০৮:০২, ০৫ মার্চ ২০২৬

ইরানের তৈরি সস্তা ড্রোনের মুখে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। \'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস\'-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান অত্যন্ত কম খরচে ড্রোন আকাশে পাঠাচ্ছে, আর সেগুলো ধ্বংস করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে খরচ করতে হচ্ছে আকাশচুম্বী দামের মিসাইল। ফলে পশ্চিমা দেশগুলোর মূল্যবান মিসাইল মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

হাইলীয় (Hylio) ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী আর্থার এরিকসন এই পরিস্থিতিকে একটি \'অর্থের খেলা\' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, একটি ড্রোন ভূপাতিত করার খরচ সেটি তৈরির খরচের চেয়ে বহুগুণ বেশি। এই ব্যয়ের অনুপাত গড়ে ১০:১, তবে ক্ষেত্রবিশেষে এটি ৬০ বা ৭০ গুণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ, ইরানের একটি সস্তা ড্রোন ঠেকাতে পশ্চিমাদের তার চেয়ে ৭০ গুণ বেশি দামি অস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এই অসম যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা ইউক্রেন পরিস্থিতির সাথে এর তুলনা করে বলছেন, সেখানেও মিত্ররা পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

\'সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ\'-এর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি যে পরিমাণ ইন্টারসেপ্টর মিসাইল কিনেছে তা চাহিদার তুলনায় খুবই নগণ্য। নতুন চুক্তি হলেও কারখানাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এই বিশাল ঘাটতি পূরণ করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর