img

জগন্নাথপুরের ‘দুই টাকার সেতু’তে ৩০ বছর পার

প্রকাশিত :  ১৫:৩১, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জগন্নাথপুরের ‘দুই টাকার সেতু’তে ৩০ বছর পার

জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদের ওপর এলাকাবাসীর উদ্যোগে দুই টাকা করে চাঁদা তুলে নির্মিত ডাকবাংলো সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে নলজুর নদের ওপর ১৯৮৬ সালে খাদ্য গুদামের সামনে ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের বাস্তবায়নে নলজুর সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। তৎকালীন সময়ে সেতুর স্থান নির্ধারণ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা হারুনুর রশীদ হিরন মিয়া ও জাতীয় পার্টি নেতা আছাব আলীর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। জগন্নাথপুর, ইকড়ছই ভবানীপুর যাত্রাপাশা গ্রামবাসী নলজুর নদের ডাকবাংলো এলাকায় সেতু নির্মাণের দাবি জানান। কিন্তু হবিবপুর গ্রামের লোকজন গুদামের সামনে বাস্তবায়ন করতে চান। জাতীয় পার্টি সরকারের শাসনামলে প্রভাব খাটিয়ে আছাব আলী সেতুটি গুদামের সামনে বাস্তবায়ন করেন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জগন্নাথপুর ও ইকড়ছই এলাকার মানুষ জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীকে নিয়ে বৈঠক করে ডাক বাংলা এলাকায় সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রতি রবি ও বুধবার দুই টাকা করে চাঁদা তুলে ফান্ড সংগ্রহ করেন। ব্যবসায়ীদের অনেকেই রড সিমেন্ট দিয়ে সহযোগিতা করেন। সেই থেকে সেতুটি দুই টাকার সেতু হিসেবে খ্যাতি পায়।

দুই টাকা চাঁদায় সেতুর নীচের সব পিলারের কাজ শেষ হলে ১৯৯৬ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের নির্দেশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে সেতুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করা হয়।

২০২১ সালে নলজুর নদ খননকালে সেতুর পিলারের কাছ থেকে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি উত্তোলন করায় ডাকবাংলো সেতুর দুটো অংশ দেবে যায়। এক বছর সেতু দিয়ে সবধরনের চলাচল বন্ধ থাকার পর স্টিলের পাটাতন বসিয়ে সেতুটি জোড়াতালি দিয়ে চালু করা হয়।

সেতু দিয়ে একটি অটোরিকশা চলাচল করলে একজন পথচারী পায়ে হেঁটে চলাচল করতে পারে না। এ অবস্থায় নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যাগ নেয়া হয়। গত জুন মাসে মেসার্স হাসান এন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ডাকবাংলো সেতুর কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। ১৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৮ ফুট প্রস্তে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

দুই টাকার সেতু নির্মাণ কাজের ঠিকাদার জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা নুরুল হক জানান, এ সেতুটি আমাদের আবেগ অনুভূতি মিশ্রিত। নিজেরা দুই টাকা করে চাঁদা তুলে সেতুর অধিকাংশ কাজ শেষ করি। সময়ের প্রয়োজনে সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্য আমরা সেতুটি নির্মাণ করেছিলাম গত ৩০ বছর সেতুটি উপজেলাবাসীর যাতায়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন জানান, দুই দিন হয় ডাকবাংলো সেতুটি ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। ঠিকাদার মালামাল আনতে শুরু করেছেন। আমরা সেতুর কাজ শেষ করতে নজরদারি রাখছি। অপরদিকে নলজুর নদের গুদামের সামনের আর্চ সেতুর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

হবিগঞ্জে জমির বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষে কলেজ ছাত্র নিহত, আহত অন্তত ২০

প্রকাশিত :  ১১:৩৭, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলাস্থ বেগমপুর গ্রামে সরকারী জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়া (২৩) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

নিহত মঞ্জুর মিয়া ওই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং নবীগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সরকারী জমিতে বসবাস করে আসছিলেন। একই গ্রামের হেলাল মিয়া ও মনিরুজ্জামান ওই জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকালে হেলাল ও মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়াসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মঞ্জুর মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাফি মিয়া (৩২), মুজিবুর রহমান (৩২), শামিম মিয়া (৫০), মামুন মিয়া (৩১), জুনেদ মিয়া (২৮), রুহেল মিয়া (৩৮), ইমন মিয়া (১৭), কাউছার মিয়া (২২), জুয়েল আহমেদ (৩২)সহ আরও অনেকে। বাকিরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহতের বাবা খলিলুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তারা ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন। প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল এবং ঘটনার দিন ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়ে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়।

এ বিষয়ে থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া জানান, সরকারী জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর