img

সিলেটের শাহজালাল ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

প্রকাশিত :  ১১:০০, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 সিলেটের শাহজালাল ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

ভুল চিকিৎসায় সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ ওঠছে নিয়মিতই। এবান নগরের একটি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সিলেট নগরীর মধুশহীদ এলাকার শাহজালাল ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটেছে।

শিশুটির অভিভাবকদের সূত্রে জানা গেছ, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের ৪ বছরের একটা শিশুকে প্রায় ৯ মাস আগে ভাঙ্গা পায়ে পাত লাগানো হয়েছিল। সেটি খুলতে রবিবার ক্লিনিকে এলে সুস্থ বাচ্চাকে অ্যানেস্থেসিয়া দিতে নিয়ে যাওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই ওই শিশুটিকে দ্রুত অন্য একটি ক্লিনিকে আইসিইউতে ভর্তির জন্য পাঠায় শাহজালাল ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ওই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি করতে অস্বীকার করে জানান, সে আর নেই।

এরপর তারা দ্রুত শাহজালাল ক্লিনিকে ফিরে আসলে ক্লিনিকের একজন ম্যানেজার বাচ্চাটির অভিভাবকদের হাতে ১০ হাজার টাকা দিয়ে দ্রুত চলে যেতে বলেন। কিন্তু তারা না গিয়ে নিজের স্বজনদের জড়ো করে ক্লিনিকের ম্যানেজারসহ অ্যান্যদের ঘেরাও করে রাখেন।

এসময় অভিভাবকরা ক্লিনিকে চড়াও হয়ে ভঙচুরের চেষ্টা করেন।

শিশুটির মা গণমাধ্যমকে বলেন, ১টা ইনজেকশন ৬বার দিয়েছে। এরপর শিশুটির পাত খুলে নেওয়ার সময় সে জোরে জোরে চিৎকার করে আমার কোলে ঢলে পড়ে। আমার বাচ্চাটি মারা যায়। আমাকে আইসিউতে নিয়ে যেতে বললে আমরা সেখানে নিয়ে যাই। ওরা ভর্তি করেনি। বলেছে এই বাচ্চা আর নেই।

শাহজালাল ক্লিনিকের ম্যানেজার পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে গণমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে স্বীকার করেন, তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া হিসাবে দিয়েছিলেন।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে কোতোয়ালী থানার ওসি মাঈনুল জাকির বলেন, আমাকে জানানো হয়েছে ওখানে চিকিৎসাধীন একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার স্বজনরা ঘেরাও করেছেন। এটিই আমাকে জানানো হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা কি, অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ নিবো। শাহজালাল ক্লিনিকে কোতোয়ালী থানাপুলিশের একটি টিম পুরো বিষয়টি দেখছে এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলছে।

উল্লেখ্য, শিশুটি অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন ডা. শেখ তানভির আহমেদ তালুকদার।

এরআগের রাতে নগরের ইবনে সিনা হামপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

হবিগঞ্জে জমির বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষে কলেজ ছাত্র নিহত, আহত অন্তত ২০

প্রকাশিত :  ১১:৩৭, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলাস্থ বেগমপুর গ্রামে সরকারী জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়া (২৩) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

নিহত মঞ্জুর মিয়া ওই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং নবীগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সরকারী জমিতে বসবাস করে আসছিলেন। একই গ্রামের হেলাল মিয়া ও মনিরুজ্জামান ওই জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকালে হেলাল ও মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়াসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মঞ্জুর মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাফি মিয়া (৩২), মুজিবুর রহমান (৩২), শামিম মিয়া (৫০), মামুন মিয়া (৩১), জুনেদ মিয়া (২৮), রুহেল মিয়া (৩৮), ইমন মিয়া (১৭), কাউছার মিয়া (২২), জুয়েল আহমেদ (৩২)সহ আরও অনেকে। বাকিরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহতের বাবা খলিলুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তারা ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন। প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল এবং ঘটনার দিন ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়ে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়।

এ বিষয়ে থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া জানান, সরকারী জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর