img

মাইল এন্ডে ২৩০,০০০ পাউন্ড বিনিয়োগে মাল্টি-স্পোর্টস কোর্ট ও স্টেডিয়ামের আধুনিক রূপান্তর

প্রকাশিত :  ০০:৩৭, ০৩ মার্চ ২০২৬

মাইল এন্ডে ২৩০,০০০ পাউন্ড বিনিয়োগে মাল্টি-স্পোর্টস কোর্ট ও স্টেডিয়ামের আধুনিক রূপান্তর

টাওয়ার হ্যামলেটস (লন্ডন): মাইল এন্ড পার্ক লেজার সেন্টারে সাম্প্রতিক উন্নয়নকাজে ২ লাখ ৩০,০০০ পাউন্ডেরও বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগের টেনিস কোর্টকে নতুন মাল্টি-স্পোর্টস কোর্টে রূপান্তর এবং মাইল এন্ড পার্ক স্টেডিয়ামে আধুনিকায়িত হসপিটালিটি এলাকা তৈরি। এ নিয়ে ইব ডবষষ ‘বি ওয়েল’ সেন্টারগুলোর মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৩ মিলিয়ন পাউন্ড।

১ লাখ ৩০,০০০ পাউন্ড ব্যয়ে পুরনো টেনিস কোর্টকে বহুমুখী নতুন পিচে রূপান্তর করা হয়েছে। এতে রয়েছে ২জি সারফেস, নতুন নেট, হকি গোলপোস্ট এবং বেষ্টনী। উন্নত এই কোর্ট এখন টেনিস, হকি ও নেটবল খেলার জন্য ব্যবহার করা যাবে। আগের কংক্রিট কোর্টের তুলনায় এটি বি ওয়েল সদস্য ও স্থানীয় ক্রীড়া দলের জন্য আরও ভালো খেলার অভিজ্ঞতা দেবে। মাল্টি-ইউজ নকশার কারণে একাধিক খেলাধুলা আয়োজন সম্ভব হবে এবং ব্যবহারক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।


মাইল এন্ড স্টেডিয়ামে ১ লাখ পাউন্ডেরও বেশি বিনিয়োগে আরও উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রকল্পে ফুটবল ফাউন্ডেশন এর প্রিমিয়ার লীগ স্টেডিয়াম সাপোর্ট ফান্ড থেকে আংশিক অনুদান এবং কাউন্সিলের ম্যাচ ফান্ডিং সহায়তা রয়েছে। উন্নয়নগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন খেলোয়াড়দের ওয়াকওয়ে, পেরিমিটার ফেন্সিং কভার, একটি টার্নস্টাইল এবং পূর্বে অব্যবহৃত চেঞ্জিং রুম থেকে তৈরি সম্পূর্ণ নতুন হসপিটালিটি এলাকা। নতুন এই স্থান ম্যাচের দিন ক্লাব ও দর্শকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করবে। পাশাপাশি এটি স্কুল ছুটির প্রোগ্রাম, কমিউনিটি স্পোর্টস প্রশিক্ষণ, কোচ শিক্ষা কার্যক্রম এবং মেয়র’স কাপের মতো আয়োজনের জন্যও ব্যবহার করা যাবে।

২০২৪ সালে স্পোর্টিং বেঙ্গল ফুটবল পিরামিডের স্টেপ ৪ এ উন্নীত হওয়ার পর এসব উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ক্লাবটি তাদের হোম ম্যাচ মাইল এন্ড স্টেডিয়ামে খেলে। নতুন উন্নয়নগুলো নিশ্চিত করেছে যে স্টেডিয়ামটি এখন ফুটবল ফাউন্ডেশন - এর স্টেডিয়াম গ্রেডিং মানদণ্ড পূরণ করছে। ফলে স্পোর্টিং বেঙ্গল এবং অন্যান্য স্থানীয় ক্লাবগুলো গ্রেডিং-সংক্রান্ত কোনো জরিমানা ছাড়াই উচ্চতর পর্যায়ে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে পারবে।

সেবার মান উন্নয়ন, খেলাধুলায় প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং সুস্থ কমিউনিটি গড়ে তুলতে কাউন্সিল বরাবরই বরোর বিভিন্ন লেজার সুবিধায় বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সম্প্রতি মাইল এন্ডের ফুটবল পিচগুলোতে উন্নয়নকাজ এবং হোয়াইটচ্যাপেল স্পোর্টস্ সেন্টার-এ দুটি নতুন কাস্টম-নির্মিত অংঢ়বহ এ্যাসপেন সাউনা স্থাপন করা হয়েছে, যা বি ওয়েল সদস্যদের জন্য লেজার বা অবসর সুবিধা আরও উন্নত করেছে।
বর্তমানে পপলার বাথস্  এ নারীদের জন্য আলাদা জিম ও চেঞ্জিং সুবিধা তৈরির কাজ চলছে, যা এ বছর শেষ হওয়ার কথা। এছাড়া বিভিন্ন লেজার সেন্টারে যন্ত্রপাতি উন্নয়নসহ আরও উন্নয়ন পরিকল্পনায় রয়েছে।


টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলের কালচার এন্ড লেজার বিষয়ক ক্যাবিনেট মেম্বার, কাউন্সিলর কামরুল হোসেন বলেন, “এই বিনিয়োগগুলো টাওয়ার হ্যামলেটসের সবার জন্য উচ্চমানের ও সহজপ্রাপ্য লেজার সুবিধা নিশ্চিত করার আমাদের অঙ্গীকারের প্রমাণ।’

তিনি বলেন, “আমাদের সেন্টারগুলো উন্নত করা, কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া অবকাঠামো আধুনিকায়নের মাধ্যমে আমরা বাসিন্দাদের আরও সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনে সহায়তা করছি এবং স্থানীয় ক্লাবগুলোকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছি।”

টেনিস খেলার জন্য মাল্টি-কোর্ট বুক করতে বি ওয়েল-এর ওয়েবসাইট (be-well.org.uk) ভিজিট করুন।

হকি ও নেটবল বুকিংয়ের জন্য bewell-mileend@towerhamlets.gov.uk ঠিকানায় সরাসরি মাইল এন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ফ্রান্সের পৌর নির্বাচনে লড়ছেন ৭ বাংলাদেশি

প্রকাশিত :  ০৭:৩১, ০৫ মার্চ ২০২৬

অর্ধডজনের বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন ফ্রান্সের আসন্ন মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে ।

ফ্রান্সের আসন্ন মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে অর্ধডজনের বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৫ মার্চ এবং প্রয়োজনে দ্বিতীয় দফা হবে ২২ মার্চ। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ কমিউনিটিতে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের শক্ত উপস্থিতির বার্তা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় কাউন্সিলে বাংলাদেশি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলে শিক্ষা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের বাস্তব সমস্যাগুলো সরাসরি তুলে ধরা সহজ হবে।

প্রার্থীরা কে কোথায় লড়ছেন?

রাব্বানী খান – প্যারিসের শহরতলি এস্তা পৌরসভা থেকে পুনরায় কাউন্সিলর পদে প্রার্থী। ২০২০ সালে তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরাসি হিসেবে জয় পান। দীর্ঘদিন ধরে ফরাসি ভাষা শিক্ষা ও প্রশাসনিক সহায়তার মাধ্যমে কমিউনিটিতে পরিচিত। এবারের নির্বাচনে তিনি বর্তমান মেয়র আজেদিন তাইবি প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এনকে নয়ন – ইল-দু-ফ্রঁস অঞ্চলের ভিলনভ-সুর-সেন এলাকা থেকে ‘ভিন্যু সলিদেয়ার এ পপুলেয়ার’ প্যানেল থেকে প্রার্থী। নিজ প্রতিষ্ঠিত ‘সাফ’ সংস্থার মাধ্যমে বিনা মূল্যে কমিউনিটি সেবা দিয়ে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন। ডেপুটি মেয়র পদেও তিনি প্রার্থী। নয়ন বলেন, ‘বাংলাদেশিরা এখন শুধু প্রবাসী নয়, ফ্রান্সের সক্রিয় নাগরিক হিসেবে সমাজ গঠনে অংশ নিতে প্রস্তুত।’

আকাশ বড়ুয়া – উদ্যোক্তা আকাশ বড়ুয়া লা কুরনভ শহরে স্থানীয় কমিউনিস্ট পার্টি সমর্থিত নাদিয়া ছাবুন প্যানেল থেকে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন। তিনি মনে করেন, মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করা সম্ভব।

আব্দুস সামাদ – ভিলনভ-সুর-সেন এলাকা থেকে ‘ভিন্যু সলিদেয়ার এ পপুলেয়ার’ প্যানেল থেকে প্রার্থী। নির্বাচিত হলে কমিউনিটির কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানিয়েছেন।

নাসির উদ্দীন ভুঁইয়া – লা কুরনভ এলাকায় মেয়র পদপ্রার্থী ওমারো দোকুরু প্যানেল থেকে কাউন্সিলর হিসেবে লড়ছেন। অভিবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের প্রতিনিধি হওয়ার লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।      

জুবাইদ আহমেদ – ফ্রান্স ন্যাশনাল ক্রিকেট টিমের খেলোয়াড় জুবাইদ আহমেদ এভ্রি-সুর-সেন এলাকা থেকে ফ্রন্ট পপুলেয়ার দলের প্যানেলভুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে তার অংশগ্রহণ নজর কাড়ছে।

সরুফ সোদিওল – ২০২০ সালের নির্বাচনে সাঁ-দেনি এলাকা থেকে আলোচনায় আসেন। এবারের নির্বাচনে তিনি বর্তমান মেয়র ম্যাথিউ হানোতিন প্যানেলভুক্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উল্লেখ্য, ফ্রান্সে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোট দেওয়া হয় না। ভোটাররা কোনো একক প্রার্থীর পক্ষে নয়, বরং পুরো লিস্টের পক্ষে ভোট দেন। এই লিস্ট সাধারণত একজন মেয়র প্রার্থীর নেতৃত্বে গঠিত হয় এবং এতে একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী থাকেন। প্রথম দফায় ৫০ শতাংশ ভোট পেলে সেই লিস্ট পায় অর্ধেক আসন ‘মেজরিটি বোনাস’ হিসেবে। বাকি আসনগুলো প্রপোরশনাল পদ্ধতিতে বণ্টন করা হয়। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে দ্বিতীয় দফা ভোট হয়। লিস্টের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত ও লিস্টে প্রার্থীদের ক্রম অনুযায়ী কাউন্সিলররা নির্বাচিত হন। পরে গঠিত পৌর পরিষদের সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে মেয়র হিসাবে নির্বাচন করেন। অর্থাৎ মেয়রও সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না।

কমিউনিটি এর আরও খবর