img

গোলাপগঞ্জ সোশ্যাল এন্ড কালচারাল ট্রাস্ট ইউকে’র দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা, বোর্ড ঘোষণা ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

প্রকাশিত :  ১৬:১৩, ০৩ মার্চ ২০২৬

গোলাপগঞ্জ সোশ্যাল এন্ড কালচারাল ট্রাস্ট ইউকে’র দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা, বোর্ড ঘোষণা ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

গোলাপগঞ্জ সোশ্যাল এন্ড কালচারাল ট্রাস্ট ইউকে-এর দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা, ৪১ সদস্য বিশিষ্ট বোর্ড অব ডাইরেক্টরস কমিটি ঘোষণা ও ইফতার মাহফিল বিপুল সংখ্যক ট্রাস্টিবৃন্দের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছে।

১লা মার্চ, রবিবার পূর্ব লন্ডনের একটি কমিউনিটি হলে সংগঠনের সদস্যবৃন্দের অংশগ্রহণে এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আয়োজিত সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি মোঃ দিলোয়ার হোসেন। সভা পরিচালনা ও সংগঠনের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আহমেদ জোয়ারদার। আয়-ব্যয়ের আর্থিক রিপোর্ট উপস্থাপন করেন কোষাধ্যক্ষ কাওসার আহমেদ জগলু। বার্ষিক ও আর্থিক রিপোর্টের উপর আলোচনায় সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নে সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।

অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল। নির্বাচন কমিশনার সায়াদ আহমেদ সাদের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন অপর নির্বাচন কমিশনার সেলিম উদ্দিন চাকলাদার। এ সময় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ৪১ সদস্য বিশিষ্ট বোর্ড অব ডাইরেক্টরসের নাম ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন London Borough of Tower Hamlets-এর লেবার পার্টি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম, City of Westminster-এর কাউন্সিলর, লেখক ও সাংবাদিক আব্দুল আজিজ ত্বকি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুর রহমান খান, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক স্পিকার খালিস উদ্দিন আহমেদ ও আহবাব হোসেন।

বক্তব্য রাখেন গোলাপগঞ্জ হেল্পিং হ্যান্ডস ইউকে-এর সাবেক সভাপতি তমিজুর রহমান রঞ্জু, সংগঠনের সাবেক উপদেষ্টা ছড়াকার আবু তাহের, আব্দুল বারী নাছির, আমিনুল হক জিলু, সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন, ইকবাল আহমদ চৌধুরী, হুমায়ূন কবির চৌধুরী একলিম, ফখরুল ইসলাম, হোয়াইটচ্যাপেল ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফারুক মাহফুজ আহমেদ, রফিকুল ইসলাম নজরুল, ফারুক উদ্দিন, মোহাম্মদ জামিল আহমদ, সাবেক কাউন্সিলর শাহ সোহেল আমিন ও তারিক খান, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব-এর সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির মুরাদ, সাংবাদিক সুয়েজ মিয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হুদা খান, সহ-কোষাধ্যক্ষ কামরুজ্জামান চাকলাদার, মেম্বারশিপ সেক্রেটারি কামাল উদ্দিন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আলম চৌধুরী, ক্রীড়া সম্পাদক কামরুল ইসলাম, ইসি সদস্য আব্দুল আহাদ কয়েছ, শাহীন আহমেদ, মকছুছ আহমেদ জোয়ারদার, মিছবাহ মাছুম, বোর্ড অব ডাইরেক্টরস সদস্য আব্দুল আজিজ ফারুক, আব্দুস শুকুর, রহিম উদ্দিন, সালেহ আহমদ, মারুফ আহমেদ, গোলাপগঞ্জ হেল্পিং হ্যান্ডস ইউকে’র ইসি সদস্য সুহেল আহমেদ, আব্দুন নূর, জামালুর রহমান, জিল্লুল করিম চৌধুরী, সুলতান হায়দার, মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, নজরুল ইসলাম, আব্দুল হামিদ, খালেদ শিপু, জামিল আহমদ, তারেকুজ্জামান, মোহাম্মদ ফজলুর রহমান, জুনেদ আহমদ, আতাউর রহমান সেলিম, আব্দুর রউফ, সাদেকুজ্জামান লিপু, হাসান আহমেদ, শামছুল ইসলাম শিপু, লিমন জামান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সভায় উপস্থিত সকলকে ইফতারি পরিবেশন করা হয়। ইফতারের পূর্বে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আইয়ান আহমেদ সাদ এবং মোনাজাত পরিচালনা করেন আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল।

সার্বিকভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা, বোর্ড ঘোষণা ও ইফতার মাহফিল সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ফ্রান্সের পৌর নির্বাচনে লড়ছেন ৭ বাংলাদেশি

প্রকাশিত :  ০৭:৩১, ০৫ মার্চ ২০২৬

অর্ধডজনের বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন ফ্রান্সের আসন্ন মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে ।

ফ্রান্সের আসন্ন মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে অর্ধডজনের বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৫ মার্চ এবং প্রয়োজনে দ্বিতীয় দফা হবে ২২ মার্চ। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ কমিউনিটিতে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের শক্ত উপস্থিতির বার্তা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় কাউন্সিলে বাংলাদেশি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলে শিক্ষা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের বাস্তব সমস্যাগুলো সরাসরি তুলে ধরা সহজ হবে।

প্রার্থীরা কে কোথায় লড়ছেন?

রাব্বানী খান – প্যারিসের শহরতলি এস্তা পৌরসভা থেকে পুনরায় কাউন্সিলর পদে প্রার্থী। ২০২০ সালে তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরাসি হিসেবে জয় পান। দীর্ঘদিন ধরে ফরাসি ভাষা শিক্ষা ও প্রশাসনিক সহায়তার মাধ্যমে কমিউনিটিতে পরিচিত। এবারের নির্বাচনে তিনি বর্তমান মেয়র আজেদিন তাইবি প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এনকে নয়ন – ইল-দু-ফ্রঁস অঞ্চলের ভিলনভ-সুর-সেন এলাকা থেকে ‘ভিন্যু সলিদেয়ার এ পপুলেয়ার’ প্যানেল থেকে প্রার্থী। নিজ প্রতিষ্ঠিত ‘সাফ’ সংস্থার মাধ্যমে বিনা মূল্যে কমিউনিটি সেবা দিয়ে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন। ডেপুটি মেয়র পদেও তিনি প্রার্থী। নয়ন বলেন, ‘বাংলাদেশিরা এখন শুধু প্রবাসী নয়, ফ্রান্সের সক্রিয় নাগরিক হিসেবে সমাজ গঠনে অংশ নিতে প্রস্তুত।’

আকাশ বড়ুয়া – উদ্যোক্তা আকাশ বড়ুয়া লা কুরনভ শহরে স্থানীয় কমিউনিস্ট পার্টি সমর্থিত নাদিয়া ছাবুন প্যানেল থেকে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন। তিনি মনে করেন, মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করা সম্ভব।

আব্দুস সামাদ – ভিলনভ-সুর-সেন এলাকা থেকে ‘ভিন্যু সলিদেয়ার এ পপুলেয়ার’ প্যানেল থেকে প্রার্থী। নির্বাচিত হলে কমিউনিটির কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানিয়েছেন।

নাসির উদ্দীন ভুঁইয়া – লা কুরনভ এলাকায় মেয়র পদপ্রার্থী ওমারো দোকুরু প্যানেল থেকে কাউন্সিলর হিসেবে লড়ছেন। অভিবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের প্রতিনিধি হওয়ার লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।      

জুবাইদ আহমেদ – ফ্রান্স ন্যাশনাল ক্রিকেট টিমের খেলোয়াড় জুবাইদ আহমেদ এভ্রি-সুর-সেন এলাকা থেকে ফ্রন্ট পপুলেয়ার দলের প্যানেলভুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে তার অংশগ্রহণ নজর কাড়ছে।

সরুফ সোদিওল – ২০২০ সালের নির্বাচনে সাঁ-দেনি এলাকা থেকে আলোচনায় আসেন। এবারের নির্বাচনে তিনি বর্তমান মেয়র ম্যাথিউ হানোতিন প্যানেলভুক্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উল্লেখ্য, ফ্রান্সে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোট দেওয়া হয় না। ভোটাররা কোনো একক প্রার্থীর পক্ষে নয়, বরং পুরো লিস্টের পক্ষে ভোট দেন। এই লিস্ট সাধারণত একজন মেয়র প্রার্থীর নেতৃত্বে গঠিত হয় এবং এতে একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী থাকেন। প্রথম দফায় ৫০ শতাংশ ভোট পেলে সেই লিস্ট পায় অর্ধেক আসন ‘মেজরিটি বোনাস’ হিসেবে। বাকি আসনগুলো প্রপোরশনাল পদ্ধতিতে বণ্টন করা হয়। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে দ্বিতীয় দফা ভোট হয়। লিস্টের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত ও লিস্টে প্রার্থীদের ক্রম অনুযায়ী কাউন্সিলররা নির্বাচিত হন। পরে গঠিত পৌর পরিষদের সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে মেয়র হিসাবে নির্বাচন করেন। অর্থাৎ মেয়রও সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না।

কমিউনিটি এর আরও খবর