img

মাছ ধরতে জগন্নাথপুর গিয়ে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু

প্রকাশিত :  ০৭:৫৬, ০৪ মার্চ ২০২৬

মাছ ধরতে জগন্নাথপুর গিয়ে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় শখের বশবর্তী হয়ে কুশিয়ারা নদীতে মাছ ধরতে এসে শাহিন মিয়া (৪২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাতে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শাহিন মিয়া সিলেট সদর উপজেলার মোল্লার গাঁও ইউনিয়নের সদর কলা গ্রামের মৃত হারিছ মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি একজন ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার (১ মার্চ) বিকেলে শাহিন মিয়া তার ৫ বন্ধু ও আত্মীয় স্বজন সহ জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের আলমপুর গ্রাম সংলগ্ন কুশিয়ারা নদীতে পচার বর্শি দিয়ে মাছ ধরতে আসেন। বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তারা নদীতে মাছ শিকার করেন। মাছ ধরা শেষে রাত ৯টার দিকে তারা একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা (সিলেট থ-১১-৫৬৪৪) যোগে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

পথিমধ্যে গন্ধবপুর গ্রামের পাশে পৌঁছালে শাহিন মিয়া হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। এসময় তার সাথে থাকা সফরসঙ্গীরা তাকে দ্রুত জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।

ঘটনার সময় শাহিন মিয়ার সাথে ছিলেন তার আত্মীয় ও বন্ধু সমসু মিয়া (৬২), কামরুল ইসলাম (৫৩), রাব্বি ফরাজী (৩২) এবং নুরুল আহমদ (৩৫)। শখের বসে মাছ ধরতে এসে প্রিয়জনের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় এবং নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বরকত উল্লাহ বলেন, শখের বসে মাছ ধরতে এসে মৃত্যুতে নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

হবিগঞ্জে জমির বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষে কলেজ ছাত্র নিহত, আহত অন্তত ২০

প্রকাশিত :  ১১:৩৭, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলাস্থ বেগমপুর গ্রামে সরকারী জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়া (২৩) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

নিহত মঞ্জুর মিয়া ওই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং নবীগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সরকারী জমিতে বসবাস করে আসছিলেন। একই গ্রামের হেলাল মিয়া ও মনিরুজ্জামান ওই জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকালে হেলাল ও মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়াসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মঞ্জুর মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাফি মিয়া (৩২), মুজিবুর রহমান (৩২), শামিম মিয়া (৫০), মামুন মিয়া (৩১), জুনেদ মিয়া (২৮), রুহেল মিয়া (৩৮), ইমন মিয়া (১৭), কাউছার মিয়া (২২), জুয়েল আহমেদ (৩২)সহ আরও অনেকে। বাকিরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহতের বাবা খলিলুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তারা ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন। প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল এবং ঘটনার দিন ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়ে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়।

এ বিষয়ে থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া জানান, সরকারী জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর