img

আকাশপথ বন্ধের ৬ দিনে ঢাকা থেকে ২১০ ফ্লাইট বাতিল

প্রকাশিত :  ০৫:১৯, ০৫ মার্চ ২০২৬

আকাশপথ বন্ধের ৬ দিনে ঢাকা থেকে ২১০ ফ্লাইট বাতিল

বিরাজমান যুদ্ধপরিস্থিতি ও নিরাপত্তার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েতসহ সাতটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ষষ্ঠ দিনের মতো আকাশপথ বন্ধ থাকায় আজ এক দিনেই ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ছয় দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ২১০টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ আজ সকালে ঢাকা পোস্টকে এই উদ্বেজনক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বেবিচকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থায় আকাশপথ বন্ধের প্রথম দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এরপর ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি এবং ৪ মার্চ ২৮টি ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় যুক্ত হয়। 

আজ ৫ মার্চ বাতিল হওয়া ৩৪টি ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, কুয়েত এয়ারওয়েজের ৪টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি এবং শারজাহ ভিত্তিক এয়ার অ্যারাবিয়ার সর্বোচ্চ ১০টি ফ্লাইট। এ ছাড়াও এমিরেটস, গালফ এয়ার, ফ্লাই দুবাই এবং দেশীয় বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলার ফ্লাইটও এই বাতিলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এক বিশেষ ঘোষণায় জানিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ৫ মার্চ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহ, সৌদি আরবের দাম্মাম, কাতারের দোহা এবং কুয়েতগামী তাদের সমস্ত নিয়মিত ফ্লাইট বাতিল থাকবে। 

মধ্যপ্রাচ্যের ইরান, ইরাক, বাহরাইন ও জর্ডানের মতো দেশগুলো তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় বিকল্প পথে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রী বিমানবন্দরে এসে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে জনশক্তি রপ্তানি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। 

অনেক যাত্রী তাদের টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া বা ফ্লাইটের নতুন তারিখ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং আকাশপথ পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশেষ ব্যবস্থায় আটকে পড়া যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

img

এনসিপিকে বাড়তি নারী আসন দিচ্ছে জামায়াত

প্রকাশিত :  ০৮:৫৯, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দুইজনকে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সম্ভাব্য চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন

\r\n

দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাদের দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল, যাচাই-বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।

জোটভিত্তিক বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি ও তাদের মিত্রদের ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটকে ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত হয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি আসনে বিজয়ী হওয়ায় ১টি সংরক্ষিত নারী আসন পাচ্ছে। সেই সাথে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করে আরও একটি দাবি করেছে তারা। এর অংশ হিসেবে জামায়াত তাদের কোটা থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং এনসিপির কোটায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিনকে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে দলটি।

এনসিপির একাধিক সূত্রমতে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলের পক্ষ থেকে দুইজনকে সম্ভাব্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডা. মাহমুদা মিতু ও মনিরা শারমিন। জামায়াতের কাছে আমরা একটি অতিরিক্ত আসন চেয়েছি, তারা রাজি হয়েছে। আমরা ২০ তারিখের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেব।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থিতার ব্যাপারে দলের শীর্ষ পর্যায়ে এবং আমাদের জোটের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে, এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রার্থী হতে চেয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ এবং সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের বিষয় রয়েছে, এসব প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই আমরা প্রার্থিতার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সময় হলে দলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।’

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে একটি এনসিপি পাবে। জোটের কারণে এনসিপিকে আরও একটি বাড়তি নারী আসন দেওয়া হবে। জাগপাকে একটি আসন দেওয়া হবে। এ ছাড়া জুলাই যুদ্ধে নিহত একজন শিশুর মাকে আমরা মনোনয়ন দিচ্ছি।’


জাতীয় এর আরও খবর