img

একীভূত পাঁচ ব্যাংক: সুদসহ আমানত ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও

প্রকাশিত :  ০৯:৫৮, ০৫ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:২১, ০৫ মার্চ ২০২৬

একীভূত পাঁচ ব্যাংক: সুদসহ আমানত ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও

মুনাফাসহ গচ্ছিত আমানতের পুরো টাকা দ্রুত ফেরত পাওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীরা।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা মতিঝিলের শাপলা চত্বরের প্রধান সড়ক অবরোধ করলে সেখানে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়।

ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংক নিয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর গ্রাহকেরা দীর্ঘ দিন ধরেই তাদের পাওনা আদায়ের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। আজকের কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘হেয়ার কাট’ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

আন্দোলনরত আমানতকারীদের মূল অভিযোগ হলো, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের নেওয়া একটি সিদ্ধান্তের কারণে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের ওপর মাত্র ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই নিয়মটিই ‘হেয়ার কাট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, যা সাধারণ আমানতকারীদের জন্য চরম অমানবিক ও অন্যায্য বলে মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন। 

বক্তারা উল্লেখ করেন, অনেক গ্রাহক বর্তমানে তাদের জমানো মূলধন ও মুনাফা তুলতে না পেরে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তারা অবিলম্বে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিল করে আমানতের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানান।

বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এই মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন যে, শরিয়াহভিত্তিক এই পাঁচটি ব্যাংকের মুনাফা কেটে মাত্র ৪ শতাংশ ‘সরকারি অনুকম্পা’ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি আমানতকারীদের অধিকারের পরিপন্থী। 

দাবি আদায় না হলে আগামী ১২ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও করার মতো আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভের কারণে মতিঝিল এলাকায় দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যকে সেখানে মোতায়েন থাকতে দেখা যায়।

বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের যে প্রক্রিয়া চলছে, তাতে গ্রাহকদের আস্থা ফেরানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক খাতের এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং তারা দ্রুত এই সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। 

আজকের এই ঘটনার পর মতিঝিল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।


img

এনসিপিকে বাড়তি নারী আসন দিচ্ছে জামায়াত

প্রকাশিত :  ০৮:৫৯, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দুইজনকে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সম্ভাব্য চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন

\r\n

দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাদের দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল, যাচাই-বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।

জোটভিত্তিক বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি ও তাদের মিত্রদের ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটকে ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত হয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি আসনে বিজয়ী হওয়ায় ১টি সংরক্ষিত নারী আসন পাচ্ছে। সেই সাথে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করে আরও একটি দাবি করেছে তারা। এর অংশ হিসেবে জামায়াত তাদের কোটা থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং এনসিপির কোটায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিনকে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে দলটি।

এনসিপির একাধিক সূত্রমতে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলের পক্ষ থেকে দুইজনকে সম্ভাব্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডা. মাহমুদা মিতু ও মনিরা শারমিন। জামায়াতের কাছে আমরা একটি অতিরিক্ত আসন চেয়েছি, তারা রাজি হয়েছে। আমরা ২০ তারিখের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেব।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থিতার ব্যাপারে দলের শীর্ষ পর্যায়ে এবং আমাদের জোটের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে, এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রার্থী হতে চেয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ এবং সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের বিষয় রয়েছে, এসব প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই আমরা প্রার্থিতার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সময় হলে দলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।’

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে একটি এনসিপি পাবে। জোটের কারণে এনসিপিকে আরও একটি বাড়তি নারী আসন দেওয়া হবে। জাগপাকে একটি আসন দেওয়া হবে। এ ছাড়া জুলাই যুদ্ধে নিহত একজন শিশুর মাকে আমরা মনোনয়ন দিচ্ছি।’


জাতীয় এর আরও খবর