শিশু যৌন নির্যাতন

img

মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশি জোবাইদুল আমিনকে ধরে নিয়ে গেছে এফবিআই

প্রকাশিত :  ০৬:৪২, ০৬ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৪৮, ০৬ মার্চ ২০২৬

মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশি জোবাইদুল আমিনকে ধরে নিয়ে গেছে এফবিআই

আন্তর্জাতিক শিশু যৌন শোষণ ও পাচার চক্র পরিচালনার অভিযোগে পলাতক বাংলাদেশি নাগরিক জোবাইদুল আমিন (২৮)কে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।

মালয়েশিয়া থেকে গ্রেপ্তারের পর তাকে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে এ তথ্য জানান। ২০২২ সাল থেকে বিভিন্ন অভিযোগে জোবাইদুলকে খোঁজা হচ্ছিল।

 এফবিআই জানায়, ২০২২ সাল থেকে জোবাইদুল আমিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিশুদের যৌন শোষণের একটি বড় চক্র পরিচালনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। এরপর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে মার্কিন গোয়েন্দারা তৎপরতা শুরু করে। এফবিআইয়ের কুয়ালালামপুর শাখা ও মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতায় আত্মগোপনে থাকা জোবাইদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২২ সালের জুলাইয়ে আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের একটি গ্র্যান্ড জুরি জোবাইদুল আমিনের বিরুদ্ধে ১৩টি ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে জোবাইদুল আমিনের ২০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করে শিশুদের শনাক্ত করতেন। এরপর বিভিন্ন কৌশলে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যৌনভাবে স্পষ্ট ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য করতেন।

তদন্তে আরো বলা হয়েছে, এই অপরাধ কেবল আলাস্কায় সীমাবদ্ধ ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ছাড়াও বিদেশের বিভিন্ন দেশে তার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত ছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, জোবাইদুল আমিনের বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি ও বিতরণের ষড়যন্ত্র, শিশু শোষণমূলক নেটওয়ার্ক পরিচালনা, সাইবারস্টকিং, পরিচয় জালিয়াতি এবং ওয়্যার জালিয়াতিসহ একাধিক ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে।

এফবিআইয়ের অ্যাঙ্করেজ ফিল্ড অফিসের বিশেষ এজেন্ট ইনচার্জ অ্যান্টনি জাং বলেন, এই চক্রের মাধ্যমে শত শত শিশুকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তাদেরকে ছবি পাঠাতে বাধ্য করা হতো এবং অস্বীকার করলে সেই ছবি প্রকাশ করার হুমকি দেওয়া হতো।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি এস. লেইন টাকার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে শিশুদের যৌনভাবে শোষণ করা অত্যন্ত ভয়াবহ অপরাধ। এতে শিশুদের শৈশব ধ্বংস হয়ে যায় এবং তাদের পরিবারসহ পুরো জীবন দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে কীভাবে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা যায়, এই ঘটনা তার একটি উদাহরণ।

জোবাইদুল আমিন মালয়েশিয়ার একটি মেডিকেল স্কুলে পড়াশোনা করছিলেন। ২০২২ সালে মালয়েশিয়াতেও শিশু পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।


 

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

কনসারভেটিভ পার্টির সাউথহল ইলিং শাখার বাংলাদেশী ১৪ জন প্রার্থীসহ কনজারভেটিভ কাউন্সিলরদের আনুষ্টানিক প্রচারণার সূচনা

প্রকাশিত :  ০৬:১৭, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাজ্যের আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন তথা সিটি কাউন্সিল নির্বাচনের আনুষ্টানিকভাবে প্রচারণার কার্যক্রম শুরু হলো লন্ডন বারা অফ ইলিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র সাউথ হলে। রবিবার দুপুরে কনসারভেটিভ পার্টির সাউথহল ইলিং শাখার আয়োজনে সাউথহল টাউন হলের সামনে প্রার্থী পরিচিতি ও আনুষ্টানিক প্রচারনার শুভসূচনা করা হয়।

বাংলাদেশী ১৪ জন প্রার্থীসহ কনজারভেটিভ কাউন্সিলর প্রার্থীদের শুভ সূচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইলিং কনজারভেটিভ চেয়ারম্যান ফাবিও কনট্রি , ইলিং সাউথহল কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান শাহ্ মোঃ ইব্রাহিম মিয়া, কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাহফুজ আহমেদ, কাউন্সিলর জুলিয়ান গালান্ট,কাউন্সিলর সীমা কুমার, অক্সফোর্ডের বাংলাদেশী কাউন্সিলর আব্দুল মুবিন ও অন্যান্য কমিউনিটির প্রার্থী সহ মোট ২৬ জন ক্যান্ডিডেট। এর মধ্যে ১৪ জনই বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রার্থী।

বাংলাদেশী প্রার্থীরা হলেন- শাহ্ মোঃ ইব্রাহিম মিয়া (সাউথহল ব্রডওয়ে ), ফিরোজ হায়াৎ খান ও মোঃ তোতা মিয়া (সাউথহল ওয়েস্ট ওয়ার্ড ) , বাবুল সরকার, মাঈন উদ্দিন মঈন, দুলু খান (ডোরমার্স ওয়েলস্ ওয়ার্ড), জসিম উদ্দিন মির্জা, খন্দকার আব্দুর রহমান, বাংলাদেশী কনজারভেটিভ নেত্রী ও কেন্ডিডেট সাবিকুন নাহার (সাউথহল গ্রীন), রফিক ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ সরকার, নজরুল ইসলাম (লেডি মার্গারেট ওয়ার্ড),

এবং আমিনুর রহমান (অনি) নরউড গ্রীন থেকে প্রার্থীতা করছেন।

প্রার্থীতা শুভ সূচনা অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশের মেম্বার আব্দুর রব এবং ইসলাম ভাই সহ সাউথহল বাংলাদেশী কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও ইলিং সাউথহলের কনজারভেটিভ পার্টির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রসঙ্গত, আগামী ৭ মে যুক্তরাজ‍্যের স্থানীয় নির্বাচনে কনজারভেটিভ, লেবার, গ্রীন, লিবডেমসহ একাধিক দল থেকে মেয়র-কাউন্সিলার ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।


কমিউনিটি এর আরও খবর