img

জগন্নাথপুরে হাসপাতালের ভবন থেকে পড়ে রোগীর মৃত্যু

প্রকাশিত :  ১০:২৪, ০৬ মার্চ ২০২৬

 জগন্নাথপুরে হাসপাতালের ভবন থেকে পড়ে রোগীর মৃত্যু

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতল ভবন থেকে পড়ে গিয়ে ভর্তিকৃত এক রোগী মারা গেছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, জগন্নাথপুর পৌর শহরের ইকড়ছই গ্রামের বাসিন্দা শেখ সাজ্জাদ মিয়া (৭০) গত ২ মার্চ শ্বাসকষ্ট নিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটায় তিনি বাথরুমে যেতে গিয়ে বারান্দার গ্রীল খুলে হাসপাতালের দ্বিতল ভবন থেকে নীচে পড়ে যান। শব্দ পেয়ে লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ভর্তিকৃত একজন রোগী হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকে পড়ে যায় কেউ বলতে পারে না এরচেয়ে দুঃখ কী হতে পারে। এটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তানজিব হাসান রনি জানান, ওই রোগী শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন আমরা তাকে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছিলাম। ঘটনার সময় রাতে তিনি কীভাবে বারান্দার গ্রিল খুলে রেলিং পেরিয়ে ওপর থেকে নীচে পড়লেন তা বুঝে উঠা যাচ্ছে না। তিনি চোখে দেখতে পারেন না, তাঁর কোন স্বজনও সঙ্গে ছিল না। আমরা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাই।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

হবিগঞ্জে জমির বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষে কলেজ ছাত্র নিহত, আহত অন্তত ২০

প্রকাশিত :  ১১:৩৭, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলাস্থ বেগমপুর গ্রামে সরকারী জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়া (২৩) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

নিহত মঞ্জুর মিয়া ওই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং নবীগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সরকারী জমিতে বসবাস করে আসছিলেন। একই গ্রামের হেলাল মিয়া ও মনিরুজ্জামান ওই জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকালে হেলাল ও মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়াসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মঞ্জুর মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাফি মিয়া (৩২), মুজিবুর রহমান (৩২), শামিম মিয়া (৫০), মামুন মিয়া (৩১), জুনেদ মিয়া (২৮), রুহেল মিয়া (৩৮), ইমন মিয়া (১৭), কাউছার মিয়া (২২), জুয়েল আহমেদ (৩২)সহ আরও অনেকে। বাকিরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহতের বাবা খলিলুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তারা ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন। প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল এবং ঘটনার দিন ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়ে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়।

এ বিষয়ে থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া জানান, সরকারী জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর