img

নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সাবেক র‍্যাপার বালেন্দ্র শাহ?

প্রকাশিত :  ১০:১৪, ০৭ মার্চ ২০২৬

নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সাবেক র‍্যাপার বালেন্দ্র শাহ?

নেপালের সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনা এখনো চলমান। তবে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, র‍্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা বালেন্দ্র শাহ বেশ ভালো ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। তিনি জানুয়ারি পর্যন্ত নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনের এই ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত যত ভোট গণনা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে শাহের মধ্যপন্থী রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ১৬৫টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জায়গায় এগিয়ে আছে।

এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি নেপালি।

নেপালি কংগ্রেস দ্বিতীয় অবস্থানে অনেক পিছিয়ে এবং ইউএমএল তৃতীয় স্থানে রয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফল আগামী সপ্তাহের আগেই না-ও আসতে পারে। পাহাড়ি দেশ নেপালে ভোট গণনা ঐতিহ্যগতভাবে ধীরগতির এবং দূরবর্তী অঞ্চলগুলো থেকে ব্যালট আনার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে হয়, ফলে চূড়ান্ত ফল জানতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।

বালেন্দ্র শাহ কে?

বালেন্দ্রা শাহ নাম হলেও স্থানীয়ভাবে বালেন নামে পরিচিত ৩৫ বছর বয়সী এই নেতা অবকাঠামো প্রকৌশলী হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং কয়েক বছর ধরে নেপালের হিপ হপ অঙ্গন ‘নেফপ’-এ সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

তিনি বহু গান প্রকাশ করেছেন, যেগুলোর বেশির ভাগই সামাজিক বার্তাধর্মী। এর মধ্যে অন্যতম পরিচিত গান ‘বালিদান’ যার অর্থ ‘ত্যাগম’, সেটি ইউটিউবে মিলিয়ন ভিউ পেয়েছে।

গত বছর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, পরে যা দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতার ক্ষোভে পরিণত হয়,সে সময় দেশের তরুণদের মধ্যে শাহের জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়।

সে সময় ৭৭ জন নিহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে অনেকেই পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এরপর নেপালের তৎকালীন নেতা কেপি ওলিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। তবে ৭৪ বছর বয়সী ওলি এবারও নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন এবং জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।

বালেন্দ্র শাহ প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিয়েছিলেন এবং এক পর্যায়ে কেপি ওলিকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি দেশের সাথে বেঈমানি করেছেন।

এসব বক্তব্যের কারণে সমালোচকরা প্রশ্ন তোলেন, দেশ পরিচালনার জন্য তিনি কতটা উপযুক্ত।

মেয়র হিসেবে রাজধানীর সড়কগুলো পরিষ্কার রাখতে এবং অবৈধ ব্যবসা দমনে তিনি রাস্তার হকার ও ভূমিহীন মানুষের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে পুলিশ ব্যবহার করেছেন, যার জন্য মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েন।

এসব বিষয়ে বালেন্দ্র শাহের প্রচারণা টিমের সদস্যরা বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। বালেন্দ্র শাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কেপি ওলির একই আসন ঝাপা ৫, যা ঐতিহ্যগতভাবে ওলির শক্ত ঘাঁটি। এ পর্যন্ত ভোট গণনা দেখাচ্ছে শাহ উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।

তবে প্রচারণার সময় তিনি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়া এড়িয়ে গেছেন এবং নির্বাচনের দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। সেদিন তিনি তাঁর স্বভাবসুলভ কালো সানগ্লাস পরে সাংবাদিকদের ভিড় পেরিয়ে দ্রুত চলে যান।

নেপালের গণমাধ্যম আশঙ্কা করছে, তিনি ক্ষমতায় গেলে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

নেপালিরা ঠিক কিসের জন্য ভোট দিয়েছেন?

বৃহস্পতিবার দেশের পরবর্তী নেতাকে নির্বাচিত করার পাশাপাশি নেপালিরা পার্লামেন্টের ২৭৫ সদস্য নির্ধারণের জন্যও ভোট দিয়েছেন। এটি সম্পন্ন হয়েছে সরাসরি ভোট (ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট) এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার সমন্বয়ে। প্রতিটি ভোটার দিয়েছেন দুটি করে ভোট।

মোট ১৬৫ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট পদ্ধতিতে, যেখানে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী আসনটি জিতে নেন। বাকি ১১০ জন সাংসদ নির্বাচিত হন জাতীয়ভাবে কোনো রাজনৈতিক দল কত শতাংশ ভোট পেয়েছে তার ভিত্তিতে।

মোট প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন এবং বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে কর্মকর্তারা জানান, ভোটের হার প্রায় ৬০% হতে পারে।

এই নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

গত বছরের বিক্ষোভের পর এই নির্বাচনকে পুরনো ও নতুনের লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে এগিয়ে থাকা আরএসপি, ২০২২ সালের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে চতুর্থ স্থানে ছিল।

দেশের তরুণ ভোটাররা। এদের মধ্যে ৮ লাখ প্রথমবারের ভোটার ছিলেন প্রধান ভোটার গোষ্ঠী, যাদের আকৃষ্ট করতে রাজনৈতিক দলগুলো চাকরির সুযোগ সৃষ্টি, দুর্নীতি মোকাবিলা এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নেপাল বারবার জোট সরকার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে, যার নেতৃত্বে ছিল প্রধানত তিনটি দল, যার দুটি ছিল কমিউনিস্ট দল। কিন্তু এবার কোনো দলই বড় ধরনের জাতীয় জোট করেনি, ফলে ভোটারদের কাছে দল ও প্রার্থীদের অবস্থান আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে।

এছাড়া এ নির্বাচনে নতুন অনেক দল ও নতুন মুখ দেখা গেছে, এবং এক-তৃতীয়াংশ প্রার্থীই স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়িয়েছেন। এসবই ইঙ্গিত করে যে বহু নেপালি নতুন ধারণা ও নতুন নেতৃত্বের সন্ধান করছেন, যা তাদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

যদি বালেন্দ্র শাহ নির্বাচিত হন, তবে তা নেপালের রাজনীতিতে এক ভূমিকম্পসদৃশ পরিবর্তন হবে,কারণ দশকের পর দশক ধরে একই পুরনো নেতৃত্বের অধীনে অস্থিতিশীল জোট সরকারের পর এটি হবে এক ভিন্নধর্মী মুহূর্ত।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইসলামাবাদ চুক্তির ‘গ্যারান্টার’ হওয়ার আলোচনায় চীনের নাম

প্রকাশিত :  ১৩:০৬, ১০ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ থামাতে আলোচনার পথ সুগম করতে চীন সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র ও একটি বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা। তারা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য চুক্তির ‘গ্যারান্টার’ বা জামিনদার হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে বেইজিংকে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হতে যাওয়া ইসলামাবাদ সংলাপে চীনের ভূমিকার প্রসঙ্গ সামনে আসা নিয়ে সূত্রগুলো জানিয়েছেন, ‍যুদ্ধবিরতির চুক্তিটি গত মঙ্গলবার রাতেই ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পর্দার আড়ালে চীনের ভূমিকা ছিল অপরিহার্য।

এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনার জন্য তেহরান-ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা ইসলামাবাদে বৈঠকে বসবেন। সব ঠিক থাকলে তাদের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হওয়ার কথা। 

ইসলামাবাদের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, ‘মঙ্গলবার রাতে যুদ্ধবিরতির আশা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তখন চীন হস্তক্ষেপ করে ইরানকে একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতিতে রাজি করায়।’ ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইসলামাবাদ এই প্রচেষ্টায় মূখ্য ভূমিকা পালন করলেও চূড়ান্ত সমঝোতা করতে পারছিল না। শেষ পর্যন্ত বেইজিং ইরানিদের বোঝাতে সক্ষম হয়।

চীনের ভূমিকা ও সংলাপের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশে রাজি হননি। কারও কারও গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি নেই। তবে চীনের ভূমিকার কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তিনি এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ইরানকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

চীন জামিনদার?

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে জটিল কিছু বিষয়ে সমঝোতা তৈরির চেষ্টা করতে হবে পাকিস্তানকে। এর মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার মতো বিষয়গুলো আছে।

সংলাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি কূটনৈতিক সূত্র বলেন, নৌ-চলাচল, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অন্যান্য বিষয়ে দুই পক্ষকে আলোচনায় সহায়তা করার জন্য পাকিস্তান একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে। এই বিশেষজ্ঞ দলের কয়েকজন সদস্য এএফপিকে জানিয়েছেন, পাকিস্তান আলোচনার পরিবেশ তৈরি করলেও সবার নজর এখন চীনের ভূমিকার দিকে।

আরেকটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছেন, চীনকে সম্ভাব্য চুক্তির গ্যারান্টার বা জামিনদার হওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। কারণ ইরান একজন শক্তিশালী গ্যারান্টার চায়। প্রধান বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার নাম আসার সুযোগ থাকলেও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমাদের কাছে মস্কোর গ্রহণযোগ্যতা কম। ফলে চীনই এক্ষেত্রে সবচেয়ে সুবিধাজনক বিকল্প।

সংলাপ সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, চীন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো গ্যারান্টার বা জামিনদারের ভূমিকা গ্রহণ করবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। একটি সূত্র বলেছেন, ‘তাদের (চীন) নিজস্ব কিছু বিবেচনা আছে। তারা জনসমক্ষে এই সংঘাতের মধ্যে জড়িয়ে পড়তে চায় না।’ তবে বেইজিং যে পর্দার আড়ালে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে বেশি আগ্রহী, সূত্রের মন্তব্যটি সেটির ইঙ্গিত দেয়।

ইসলামাবাদ ও তেহরানের ‘অভেদ্য ভ্রাতৃত্ব’

ইসলামাবাদ ও তেহরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চীন ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। অপরদিকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড (বিআর)’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে চীন পাকিস্তানে অবকাঠামোগত প্রকল্পে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। দুই দেশের সরকার একে অপরকে ‘অভেদ্য ভ্রাতৃত্ব’ হিসেবে অভিহিত করে।

পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির প্রধান মুশাহদ হোসেন সৈয়দ বলছেন, ঘনিষ্ঠ অংশীদার এবং প্রতিবেশী হিসেবে যুদ্ধের অবসানে পাকিস্তান ও চীন প্রথমদিন থেকেই নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে আসছে। যেহেতু ইরান ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করে না, তাই চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রধান জামিনদার হিসেবে চীনের ভূমিকা অপরিহার্য।

গত মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করে পাকিস্তান। এরপরই দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বেইজিং সফর করেন। তখন চীন এক বিবৃতিতে জানায়, তারা পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে চীন ও রাশিয়া তেহরানের জন্য ‘স্বস্তিদায়ক’ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপও নেয়। তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে ভেটো দেয়। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ওই প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল বাহরাইন। প্রস্তাবে হরমুজ খুলতে শুরুতে ‘বলপ্রয়োগ’ এবং পরে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ ব্যবস্থা তৈরির কথা ছিল।

‘কঠিন পথচলা’

শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টায় চীন খুব একটা প্রচারের আলোয় আসতে চায়নি। তারা কেবল যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টায় উৎসাহ দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং-ই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মন্ত্রীদের সঙ্গে অন্তত ২৬ বার ফোনালাপ করেছেন। বেইজিংয়ের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত ওই অঞ্চলে ‘শাটল ডিপ্লোম্যাসি’ চালিয়ে গেছেন।

বিবাদমান পক্ষগুলোর অবস্থানের মধ্যে বিশাল ব্যবধান থাকায় এই আলোচনাকে একটি কঠিন লড়াইয়ের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বড় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে লেবাননকে কেন্দ্র করে। দেশটিকে যুদ্ধবিরতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে জোর দিচ্ছে পাকিস্তান ও ইরান। তবে ইসরায়েল তাতে আপত্তি জানিয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি ও লেবানিজ কর্মকর্তাদের মধ্যে পৃথক আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ইসলামাবাদের সংলাপ নিয়ে একটি কূটনৈতিক সূত্র বলেছেন, এই আলোচনা অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল। ঐকমত্যে পৌঁছাতে হলে সব পক্ষকেই কঠিন কিছু বিষয়ে আপস ও ছাড় দিতে হবে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর