img

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে কমলগঞ্জে নারী অপহরণের চেষ্টা: সাহসী প্রতিরোধে ব্যর্থ দুষ্কৃতকারীরা

প্রকাশিত :  ০৭:৪১, ০৯ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে কমলগঞ্জে নারী অপহরণের চেষ্টা: সাহসী প্রতিরোধে ব্যর্থ দুষ্কৃতকারীরা

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিনে এক কর্মজীবী নারীকে জোরপূর্বক প্রাইভেট কারে তুলে অপহরণের চেষ্টা চালানোর ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীর সাহসী প্রতিরোধ ও চিৎকারে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় আসে এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতেও ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়ে জনমনে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

রবিবার (৮ মার্চ) ভোরে কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিগাঁও এলাকার বটতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী ফাতেমা পারভেজ নিশি শ্রীমঙ্গলের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো রবিবার ভোর প্রায় সাড়ে ছয়টার দিকে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বটতলা বাজারে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কারকে বারবার বাজার এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িতে থাকা কয়েকজন যুবক তাকে শ্রীমঙ্গল যাওয়ার কথা বলে তাদের গাড়িতে উঠতে প্রস্তাব দেয়। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন।

কিছু সময় পর বাজারে মানুষের উপস্থিতি কমে গেলে তিনি বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করেন। ঠিক সেই মুহূর্তে একই প্রাইভেট কারটি আবার তার সামনে এসে থামে। গাড়ি থেকে নেমে এক যুবক হঠাৎ তার হাত ও মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। আকস্মিক এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও তিনি সাহস হারাননি। প্রাণপণে চিৎকার শুরু করলে আশপাশে লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় দুষ্কৃতকারীরা দ্রুত গাড়িতে উঠে শ্রীমঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এদিকে তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে অপহরণ চেষ্টায় ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটির মালিকের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। 

প্রাপ্ত নিবন্ধন তথ্য অনুযায়ী গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো ক ০৩ ৯৪৯৪। গাড়িটির মালিক মো. মনসুর আলী মোল্লা, পিতা মৃত  ইউসুফ আলী মোল্লা। তার ঠিকানা গ্রাম ও ডাকঘর বাসুগাঁও তালতিয়া, থানা পুবাইল, জেলা গাজীপুর।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কমলগঞ্জে সংঘটিত ওই অপহরণ চেষ্টার ঘটনায় এই প্রাইভেট কারটি ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আউয়াল গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন তথ্য ও সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাই করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে পুলিশ আশাবাদী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয়দের মতে, ভোরের দিকে বাজার এলাকায় মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় অপরাধীরা এমন ঘটনার সুযোগ পেয়েছে। তারা এলাকায় পুলিশের টহল জোরদারসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিনে এমন ঘটনা সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সচেতন মহল মনে করছে, নারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

হবিগঞ্জে জমির বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষে কলেজ ছাত্র নিহত, আহত অন্তত ২০

প্রকাশিত :  ১১:৩৭, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলাস্থ বেগমপুর গ্রামে সরকারী জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়া (২৩) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

নিহত মঞ্জুর মিয়া ওই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং নবীগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সরকারী জমিতে বসবাস করে আসছিলেন। একই গ্রামের হেলাল মিয়া ও মনিরুজ্জামান ওই জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকালে হেলাল ও মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়াসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মঞ্জুর মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাফি মিয়া (৩২), মুজিবুর রহমান (৩২), শামিম মিয়া (৫০), মামুন মিয়া (৩১), জুনেদ মিয়া (২৮), রুহেল মিয়া (৩৮), ইমন মিয়া (১৭), কাউছার মিয়া (২২), জুয়েল আহমেদ (৩২)সহ আরও অনেকে। বাকিরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহতের বাবা খলিলুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তারা ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন। প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল এবং ঘটনার দিন ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়ে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়।

এ বিষয়ে থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া জানান, সরকারী জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর