img

ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১৭:৩৪, ০৯ মার্চ ২০২৬

ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত

যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন Dhaka University Alumni in the UK (DUAUK)-এর উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে লন্ডনের Panchakhana Dine & Events-এ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল বাসিত চৌধুরী এবং সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মোঃ কামরুল হাসান এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সৈয়দ জাফর। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত সকল অতিথি, উপদেষ্টামণ্ডলী, সিনিয়র সদস্য এবং সদস্যবৃন্দকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, পবিত্র মাহে রমজান আমাদের আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার এক মহামূল্যবান সময়।

পরবর্তীতে মঈন উদ্দিন পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন। তিলাওয়াত শেষে সভাপতি সিরাজুল বাসিত চৌধুরী তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে রমজানের তাৎপর্য এবং প্রবাসে বসবাসরত মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এরপর ইফতার ও দোয়া মাহফিল সাবকমিটির সমন্বয়ক ব্যারিস্টার এম. এ. কালাম উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

আলোচনা পর্বে রমজানের তাৎপর্য, গুরুত্ব এবং মুসলিম জীবনে এর প্রভাব নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা উপস্থাপন করেন ডঃ কামরুল হাসান। তিনি বলেন, রমজান শুধু রোজা রাখার মাস নয়, বরং আত্মসংযম, মানবিকতা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ সুযোগ।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে সকল অতিথি, উপদেষ্টা, সিনিয়র সদস্য এবং উপস্থিত সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।

পরিশেষে  মঈন উদ্দিন রমজান উপলক্ষে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন, সংগঠনের ৪ জন সিনিয়র মেম্বার আবুল  হাসেম  , মীর বেলাল শরীফ , শফীক এবং সৈয়দ ইকবালসহ মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। দোয়া শেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাহাগীর বখত ফারুক, মুহাম্মদ আবদুর রকিব এবং আবু মুসা হাসান ।

এছাড়াও সংগঠনের সিনিয়র সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দেওয়ান গৌস সুলতান, ইসমাইল হোসেন, মারুফ চৌধুরী, মাহফুজা রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান, এনামুল হক, নীলুফা ইয়াসমীন হাসান, মেসবাহ উদ্দিন ইকো, মির্জা আসাব বেগ, মুকিত চৌধুরী, আবদুল কাদের , রিপা রাকিব সুলতানা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমদাদ তালুকদার এমবিই, বিবিটিএ-এর ট্রেজারার মিসবাহ কামাল, BLA-এর সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা চৌধুরী, BLA-এর সভাপতি ব্যারিস্টার মুজিবুর রহমান, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ট্রাস্ট ফান্ডের সভাপতি অধীর দাস, কাউন্সিলর ফয়জুর রহমান, কাউন্সিলর আনোয়ার, ব্যারিস্টার নাসের আলম। 

সংগঠনের  ইফতার ও দোয়া মাহফিল সাবকমিটি এই অনুষ্ঠান সফল করার জন‍্য কঠোর পরিশ্রম করেন। বিশেষ করে মেম্বার এবং অতিথিবৃন্দদেরকে অর্ভ‍্যথনা জানাতে   মির্জা আসহাব বেগ , সৈয়দ হামিদুল হক, মাহারুন আহম্মদ মালা , সৈয়দা ফারহানা সুর্বণা, কন্কন কান্তি ঘোষ এবং ভলেন্টিয়াররা সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। 

অনুষ্ঠানটি এক আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে সম্পন্ন হয়, যা উপস্থিত সকলের মাঝে গভীর আনন্দ ও ভ্রাতৃত্ববোধের সঞ্চার করে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন ‘অকার্যকর’

প্রকাশিত :  ১০:০২, ১০ এপ্রিল ২০২৬

সাম্প্রতিক ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত অন্তত এক ডজন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানের পাল্টা হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক একদল বিশেষজ্ঞ গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই ঘাঁটিগুলোর বর্তমান অবস্থা এতটাই নাজুক যে এগুলো এখন উপকারের চেয়ে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ‘প্রজেক্ট অন মিডল ইস্ট পলিটিক্যাল সায়েন্স’-এর পরিচালক মার্ক লিঞ্চ জানান, গত এক মাসে ইরান কার্যত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের ভৌত কাঠামোকে অকেজো করে দিয়েছে। গত মাসে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনেও এই ঘাঁটিগুলোকে ‘বসবাসের অনুপযোগী’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল, যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির এই বিশালত্বের কথা স্বীকার করেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরটি বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং সেখান থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রায় ৯ হাজার সামরিক কর্মকর্তার আবাসস্থল এই নৌঘাঁটিটি ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলগত অবস্থান ধসে পড়েছে।

লিঞ্চের মতে, বাহরাইনে পুনরায় পঞ্চম নৌবহর ফিরিয়ে আনা এখন প্রায় অসম্ভব এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যে চিরাচরিত প্রভাব ছিল, তার বিকল্প কোনো পথ এখন ওয়াশিংটনের সামনে নেই। উল্লেখ্য যে, এই অঞ্চলে বাহরাইন, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশে মোট ১৯টি ঘোষিত মার্কিন সামরিক সাইট রয়েছে, যেখানে প্রায় ৫০ হাজার সৈন্য মোতায়েন ছিল।

১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর তেলের বিনিময়ে নিরাপত্তার যে লেনদেন ভিত্তিক সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে গড়ে উঠেছিল, বর্তমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তা বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট স্টাডিজের সহযোগী পরিচালক শানা আর মার্শাল জানান, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা বা ইসরায়েলের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্কের প্রচার চালানো এখন উপকারের চেয়ে দায় হিসেবে বেশি দেখা দিচ্ছে।

ইরানের হামলায় এই দেশগুলোর জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিমানবন্দর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বাধ্য হওয়া প্রমাণ করে যে, আমেরিকার ‘নিরাপত্তা ছাতা’ এখন আর কার্যকর নয়। এর আগে ১৯৯৬ সালে সৌদি আরবের খোবার টাওয়ারে হামলা এবং ওসামা বিন লাদেনের ক্ষোভের মূলে এই মার্কিন ঘাঁটির উপস্থিতিই প্রধান কারণ ছিল।

এদিকে কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্র্যাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সি মনে করেন, চলতি সপ্তাহে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনার ওপর ইরানের হামলা বন্ধের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। এই বিষয়টি দেশগুলোকে আশাহত করেছে এবং তারা নিজেদের বঞ্চিত বোধ করছে। 

পার্সি ব্যাখ্যা করেছেন, এই ঘাঁটিগুলো ইরানের হামলা ঠেকাতে সক্ষম হয়নি বরং সেগুলো নিজেরাই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা এখন ভেঙে পড়েছে এবং এর বিকল্প হিসেবে কিছু দেশ ইরানের সাথে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে ইসরায়েলের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। আব্রাহাম অ্যাকর্ডের মতো কোনো মার্কিন ছাড় ছাড়াই দেশগুলো এখন নিজেদের টিকে থাকার স্বার্থে নতুন কোনো আঞ্চলিক জোটের কথা ভাবতে পারে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই