img

কমলগঞ্জে কর্মজীবী নারীকে অপহরণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার তিন

প্রকাশিত :  ১২:৩৮, ১১ মার্চ ২০২৬

কমলগঞ্জে কর্মজীবী নারীকে অপহরণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার তিন
সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক কর্মজীবী নারীকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণচেষ্টায় ব্যবহৃত একটি সাদা প্রাইভেটকারও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সদস্য, যারা দীর্ঘদিন ধরে সিলেট অঞ্চলে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ভোরে ঘটনাটি ঘটে। সকাল প্রায় ৬টা ৪০ মিনিটে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ফাতেমা পারভেজ নিশি শ্রীমঙ্গলে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য কমলগঞ্জের বটতলা বাজারে যানবাহনের অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় একটি সাদা প্রাইভেটকার এসে তাকে শ্রীমঙ্গল যাবেন কি না জানতে চায়। তিনি রাজি না হওয়ায় গাড়িটি আশপাশে ঘোরাফেরা করতে থাকে।
কিছুক্ষণ পর নিশি বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করলে প্রাইভেটকারটি তাকে অনুসরণ করে। বাড়ির রাস্তার কাছে পৌঁছাতেই গাড়ি থেকে নেমে একজন তার মুখ চেপে ধরে জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। প্রায় ১০ থেকে ১২ হাত টেনে নেওয়া হলেও সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিনি। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে নিজেকে ছাড়িয়ে পালিয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে সক্ষম হন।

ঘটনার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হলে পুরো জেলাজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয় এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি ওঠে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী কমলগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এরপর পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা এবং শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজুর তত্ত্বাবধানে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিঠু রায়, এসআই আমির উদ্দিন, এসআই রনি তালুকদার ও এএসআই হামিদুর রহমানসহ একাধিক দল সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযান চালায়।

অবশেষে গত ১০ মার্চ সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জাকির মিয়া (২৬), কাওছার আহমদ (৩৪) ও জসিম মিয়া (৩৬)। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোবহানীঘাট এলাকার আত্মা কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত সাদা প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একাধিক অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। সিডিএমএস যাচাই করে তাদের বিরুদ্ধে চুরি ও মাদক আইনে একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তাদের সহযোগী জাহাঙ্গীর নামের আরেকজন পলাতক রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ তিনটি মামলা রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রমজান মাসের ভোরে ফাঁকা রাস্তায় একা পেয়ে ওই নারীকে অপহরণের মাধ্যমে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা রাতে শহরের সস্তা হোটেলে অবস্থান করতেন এবং ভোর হলে একটি নির্দিষ্ট প্রাইভেটকার নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন। সুযোগ পেলেই অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করতেন তারা। এই কৌশলের কারণেই দীর্ঘদিন তারা পুলিশের নজর এড়িয়ে চালিয়ে যেতেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং এর পেছনে বড় কোনো অপরাধচক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশিত :  ১০:৪৪, ১০ এপ্রিল ২০২৬

সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় খাসিয়াদের বন্দুকের গুলিতে আরেক যুবক নিহত হয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে সীমানা পিলার থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ভারতীয় খাসিয়াদের সুপারি বাগানে এই ঘটনা ঘটে। এনিয়ে ৯ দিনের ব্যবধানে একই সীমান্তে খাসিয়াদের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হলেন।

নিহত যুবকের নাম সালেহ আহমেদ জয়ধর (৩০)। তিনি কোম্পানীগঞ্জের দয়ারবাজার সংলগ্ন কারবালার টুক গ্রামের বাসিন্দা।

শুক্রবার দুপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক এ তথ্য জানিয়ে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নিহত সালেহ আহমেদ আরও দুই সহযোগীসহ মাদকের চালান আনার উদ্দেশ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন।

এ সময় তারা ভারতের অভ্যন্তরে চংকেটের বাগান ও মারকানের বাগানের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে ভারতীয় খাসিয়া সম্প্রদায় তাদের ‘সুপারি চোর’ সন্দেহে ছররা বন্দুক দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে সালেহ আহমেদ জয়ধর গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

নিহতের সঙ্গে থাকা অপর দুই যুবক সুমন মিয়া (২৫) এবং মাসুম আহম্মদ (২০) সালেহ আহমদের মরদেহ বহন করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। সঙ্গে থাকা দুই যুবক নাজিরগাঁও গ্রাম ও কারবালারটুক গ্রামের বাসিন্দা।

বিজিবি আরও জানায়, নিহত যুবকসহ তিনজন দীর্ঘদিন থেকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য আনা-নেওয়ার (চোরাচালান) কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ যাচ্ছে লাশ সুরতহাল করার জন্য।

এরআগে গত ১ এপ্রিল একই উপজেলার সাদ্দাম হোসেন নামের এক বাংলাদেশি যুবক ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে নিহত হন। নিহত সাদ্দাম হোসেন উত্তর রণীখাই ইউনিয়নের লামা উত্তমা গ্রামের বাসিন্দা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা কুটু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১ এপ্রিল সীমান্তের ১২৪৭ নম্বর পিলারের প্রায় ৬০০ গজ ভেতরে ভারতের রাজনটিলা এলাকায় সুপারি চুরি করতে যান সাদ্দাম হোসেনসহ কয়েকজন। এসময় সুপারি বাগানের মালিক খাসিয়ারা গুলি চালালে সাদ্দাম হোসেন নিহত হন ও তার সঙ্গী ফরহাদ মিয়া আহত হন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর