img

মুক্তির প্রথম দিনেই দর্শক ঢল, টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য ৩১০০ টাকা ছুইল ‘ধুরন্ধর ২

প্রকাশিত :  ১০:২৬, ২০ মার্চ ২০২৬

মুক্তির প্রথম দিনেই দর্শক ঢল, টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য ৩১০০ টাকা ছুইল ‘ধুরন্ধর ২

জৈষ্ঠ প্রতিবেদক সৈয়দ আমানউল্লাহ: ভারতের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে \"ধুরন্ধর ২\"। মুক্তির প্রথম দিনেই সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। অনেক জায়গায় টিকিটের উচ্চমূল্য থাকা সত্ত্বেও প্রেক্ষাগৃহে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া প্রথম কিস্তি ‘ধুরন্ধর’ বক্স অফিসে ঝড় তুলেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার দ্বিতীয় কিস্তিও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার মুক্তির পর প্রথম দিনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ছবিটি প্রায় ৫০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে বলে জানা গেছে। সারা ভারতে  সিনেমাটির মোট ৮,৯২৮টি শো চলছে।

রণবীর সিংহ অভিনীত এবং আদিত্য ধর পরিচালিত এই সিনেমাটি হিন্দি, তেলুগু, তামিল, কন্নড় ও মালয়ালম—এই পাঁচ ভাষায় মুক্তি পেয়েছে।

ভারতের বিভিন্ন শহরে টিকিটের দামে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। মুম্বইয়ের বোরিবলির একটি মাল্টিপ্লেক্সে আইম্যাক্স ২ডির বিশেষ রিক্লাইনার আসনের টিকিট বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৩১০০ টাকায়। একই শহরের আরেক মাল্টিপ্লেক্সে টিকিটের দাম ছিল প্রায় ২৫০০ টাকা, আর আইম্যাক্স ২ডিতে সর্বনিম্ন টিকিট পাওয়া গেছে ৪০০ টাকায়।

কলকাতাতেও সিনেমাটি দেখতে দর্শকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দক্ষিণ কলকাতার একটি মাল্টিপ্লেক্সে টিকিটের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৯০০ টাকা। তবে সোনালি, বিজলী ও নবীনা মতো সিঙ্গল স্ক্রিন হলে ১০০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যেও টিকিট পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে দিল্লিতে বিলাসবহুল রিক্লাইনার আসনের টিকিটের দাম পৌঁছেছে ২৪০০ টাকায়। তবে কিছু প্রেক্ষাগৃহে ৯৫ টাকা থেকে শুরু করে ১৭০–২৫০ টাকার মধ্যেও টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

বেঙ্গালুরুতেও সিনেমাটির ব্যাপক চাহিদা দেখা গেছে। সেখানে সর্বোচ্চ টিকিটের দাম প্রায় ২৯০০ টাকা। আবার কিছু হলে ২০০–৩০০ টাকার মধ্যেও টিকিট পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে হায়দরাবাদে টিকিটের দাম তুলনামূলক কম। তেলেঙ্গানা সরকারের নিয়ম অনুযায়ী সিঙ্গল স্ক্রিনে ১৫০–২৫০ টাকা এবং মাল্টিপ্লেক্সে ২৯৫–৩৫০ টাকার মধ্যেই টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তামিলনাড়ুতেও  টিকিটের দাম ১৬০ থেকে ২১০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

প্রথম দিনের আয়ের হিসাবে দেখা গেছে, মোট ব্যবসার প্রায় ৪৯ শতাংশ এসেছে হিন্দি সংস্করণ থেকে। সবচেয়ে কম আয় হয়েছে মালয়ালম সংস্করণে। শহরভিত্তিক আয়ের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে বেঙ্গালুরু। এরপর রয়েছে পুণে, হায়দরাবাদ, মুম্বই, জয়পুর, লখনউ, দিল্লি, চণ্ডীগড়, ভোপাল, কলকাতা ও অহমদাবাদ।

এই ছবিতে একঝাঁক তারকা অভিনেতা অভিনয় করেছে, প্রধান চরিত্র রণবীর সিং: হামজা আলী মাজারি, সঞ্জয় দত্ত: এস.পি. চৌধুরী আসলাম, অর্জুন রামপাল : মেজর ইকবাল, মাধবন। 

অজিত সান্যাল এবং অক্ষয় খান্না রেহমান ডাকাত চরিত্রে, এছাড়াও আরো যারা অভিনয় করেছেন সারা অর্জুন, রাখেশ দেবী, মানব গোহেল,সৌম্য ট্যান্ডন,যামী গৌতম।

img

প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলার রাজসাক্ষী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ

প্রকাশিত :  ১১:৩৮, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:১২, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

‘সখী, ভালোবাসা কারে কয়! সে কি কেবলই যাতনাময়...’, হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। প্রেমিক সুকেশ চন্দ্রশেখরের জন্য থানা-পুলিশ, আদালত অবধি করতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। প্রেমের টানে কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা মামলায় বিতর্কে জড়িয়ে বলিউডের শক্ত পায়ের তলার মাটিও খোয়াতে বসেছেন জ্যাকুলিন!

বহুল আলোচিত ২০০ কোটি রুপির আর্থিক জালিয়াতি মামলায় জেলে আছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ আলোচিত মামলায় এবার আদালতে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিতে পারেন প্রেমিকা অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। এর ফলে মামলার গতিপথে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

অথচ গ্রেফতারের পর থেকেই নানাভাবে জ্যাকুলিনের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করে আসছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। চিঠি লিখে তিনি দাবি করেছিলেন, তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল এবং অভিনেত্রী তার কাছ থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা চাননি—শুধু ভালোবাসাই চেয়েছেন।

সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের জীবন কেবল যাতনাময়, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন তিনি। প্রেমিকের জন্য থানা-পুলিশ, আদালত অবধি দৌড়াতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। প্রেমের টানে কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা মামলায় বিতর্কে জড়িয়ে বলিউডের শক্ত পায়ের তলার মাটিও খোয়াতে বসেছেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ!

অথচ জ্যাকুলিনের মন পেতে সুকেশ চন্দ্রশেখর ‘প্রেম যে কাঁঠালের আঠা লাগলে ছাড়ে না’- গানের মতোই আঠা হয়ে লেগে আছেন। বর্তমানে সুকেশ একাধিক জালিয়াতির মামলায় দিল্লির মান্ডোলি জেলে বন্দি রয়েছেন। জেলে বসেই প্রায় প্রতিটি বিশেষ দিনে তিনি জ্যাকুলিনকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখে আসছেন। দিয়ে যাচ্ছেন হেলিকপ্টারসহ দামি উপহার। তাতেও মন গলেনি প্রেমিকার। সর্বশেষ ভালোবাসা দিবসেও তিনি নিজেদের ভালোবাসাকে রোমিও-জুলিয়েট, হির-রাঞ্জা এবং লাইলি-মজনুর মতো কালজয়ী প্রেমের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সুকেশের দাবি—কোনো কিছুই তাদের এই বন্ধন ভাঙতে পারবে না। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে খোলা চিঠিতে সুকেশ জ্যাকুলিনকে ‘বেবি বোম্মা’ বলেও সম্বোধন করেন।

একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে সুকেশ লিখেছেন— ‘লোহার গরাদ আর এই ঠান্ডা দেয়াল আমাদের আলাদা করে রেখেছে। মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া কোনো মানুষের মতো আমি তোমাকে প্রতি মুহূর্তে মিস করছি। আজ আমার প্রতিটি হৃদস্পন্দন আমাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।’ 

সুকেশ বলেন, জ্যাকুলিন ও তার পরিবারের জন্য দেওয়া সব উপহারই তিনি স্বেচ্ছায় দিয়েছেন। এমনকি এ মামলায় জ্যাকুলিনের নাম জড়ানোকে তিনি ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলেও উল্লেখ করেন। এবার জ্যাকুলিনের জন্য তিনি একটি বিশেষ সারপ্রাইজ উপহারের ব্যবস্থা করেছেন। সেটি হলো— একটি ‘এয়ারবাস এইচ সিরিজ’ লাক্সারি হেলিকপ্টার। 

সুকেশ এর আগে কোটি কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ি উপহার তো দিয়েছেনই। জিজ্ঞাসাবাদে সেসব বিলাসী উপহারের কথা অভিনেত্রীও স্বীকার করেছেন। এবার সেই প্রেমিকাই তার বিরুদ্ধে মামলার রাজসাক্ষী হতে যাচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়—আদালতে দাঁড়িয়ে সুকেশকে নিয়ে কী ধরনের বক্তব্য দেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। তার সাক্ষ্যই নির্ধারণ করতে পারে এই বহুল আলোচিত মামলার পরবর্তী দিকনির্দেশনা।