img

ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবা: রমযানের আমল কীভাবে ধরে রাখবো?

প্রকাশিত :  ১৪:২৯, ৩১ মার্চ ২০২৬

ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবা: রমযানের আমল কীভাবে ধরে রাখবো?

শায়খ আব্দুল কাইয়ূম

আল-হামদুলিল্লাহ। রমযান আসে এবং আমাদের জীবনের পরিবেশকে বদলে দেয়। আমরা রোজা রাখি, বেশি নামাজ পড়ি, বেশি কুরআন তিলাওয়াত করি, মসজিদ ভরে যায়, আর আমাদের অন্তরে এক সুন্দর অনুভূতি জন্ম নেয়। আমরা ঈমানের মাধুর্য অনুভব করি। আমরা আল্লাহর নিকটবর্তী হয়ে যাই। কিন্তু রমযান শেষ হয়ে যায়, ঈদ চলে যায়, এবং আমাদের অনেকের মনে তখন প্রশ্ন জাগে: এখন কী হবে? এটাই আসল পরীক্ষা।

প্রতিবছর আমরা একই চিত্র দেখি এবং যদি সত্যি কথা বলি, নিজেকেও একই প্রশ্ন করতে হয়। রমযানে মসজিদগুলো পরিপূর্ণ থাকে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে কাতারগুলো ভরে যায়। কিন্তু রমযানের পরে সেই উদ্যম কমে যায়। আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হতে থাকে। অনেকেই আগের মতো মসজিদে আসা-যাওয়া বন্ধ করে দেন । কেউ নামাজে অবহেলা করেন। কেউ কুরআন তেলাওয়াত ছেড়ে দেন। কেউ আবার পরবর্তী রমযানের অপেক্ষায় থাকে, যেন ইবাদত শুধু বছরের এক মাসের জন্য।

কিন্তু আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে শুধু রমযানে ইবাদত করতে বলেননি। তিনি বলেন: “আর তোমার প্রতিপালকের ইবাদত কর, যতক্ষণ না তোমার কাছে নিশ্চিত (মৃত্যু) আসে।” (কুরআন ১৫:৯৯)। এর অর্থ হলো—রমযান শেষ হলেও ইবাদত শেষ হয় না। আল্লাহ শুধু রমযানের প্রতিপালক নন । তিনি শাওয়ালের রব, প্রতিটি মাসের রব, এবং সেই রব যাঁর কাছে একদিন আমাদের ফিরে যেতে হবে।

উলামারা বলেন, কোনো নেক আমল কবুল হওয়ার একটি লক্ষণ হলো—এর পরে বান্দা ভালো কাজে অব্যাহত থাকে। যদি রমযান কবুল হয়, তবে তার প্রভাব পরবর্তী মাসগুলোতে দেখা যাবে । হয়তো একই মাত্রায় নয়, কিন্তু ধারাবাহিকতায় । যদি সবকিছু হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এটি ভালো লক্ষণ নয়।

আল্লাহ বলেন: “তোমরা সেই নারীর মতো হয়ো না, যে নিজের শক্ত করে কাটা সুতা আবার খুলে ফেলে।” (কুরআন ১৬:৯২)

কী গভীর উদাহরণ! একজন মানুষ পরিশ্রম করে মজবুত কোনো কিছু তৈরি করল, তারপর নিজ হাতে তা ধ্বংস করে দিল। আমরা কি তাই করি না—যদি রমযানে আল্লাহর সঙ্গে একটি মজবুত সম্পর্ক গড়ে তুলে ঈদের পর তা ধীরে ধীরে নষ্ট করে ফেলি।

রমযানের পরে প্রথম যে জিনিসটি আমাদের রক্ষা করতে হবে, তা হলো সালাত । সালাত আমাদের এবং আল্লাহর মধ্যে সংযোগ। আমরা যদি নিয়মিত ও সঠিকভাবে নামাজ আদায় করি, তবে আমরা সংযুক্ত থাকব । আর যদি নামাজ অবহেলা করি, তবে যেন সেই সংযোগ কেটে যায়। কিয়ামতের দিন প্রথম যে আমলটির হিসাব নেওয়া হবে, তা হলো নামাজ । যদি তা ঠিক থাকে, তাহলে বাকি আমলগুলোও ঠিক থাকবে। আর যদি তা নষ্ট হয়, তবে বাকি আমলগুলোও নষ্ট হবে।

তাহলে আমরা কীভাবে এতে অবহেলা করতে পারি?

অনেকে রমযানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, কিন্তু রমযানের পরে তা কমিয়ে শুধু জুমা\' বা “সময় পেলে” নামাজ পড়ে থাকেন । অথচ নামাজ এমন কিছু নয়, যা আমরা শুধু অবসর সময়ে করব। বরং আমাদের দিনের কাঠামোই হওয়া উচিত নামাজকে কেন্দ্র করে। এটি আল্লাহর সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ।

আর আছে \'জামাত\'। নবী (সাঃ) সেই ব্যক্তির জন্য কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছেন, যে বিনা কারণে মসজিদে আসা থেকে বিরত থাকে। এটি প্রমাণ করে যে, জামাতের নামাজ আদায় করা—বিশেষ করে পুরুষদের জন্য—কোনো গৌণ বিষয় নয়।

আমরা কেন এমন বড় পুরস্কারের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে যাই? জামাতে নামাজ পড়লে আল্লাহ ২৫ থেকে ২৭ গুণ বেশি সওয়াব দেন। সকাল-সন্ধ্যায় মসজিদে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য আল্লাহ জান্নাতে প্রতিদান প্রস্তুত করেন। প্রতিটি পদক্ষেপে একটি গুনাহ মাফ হয় এবং একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

এত বড় সওয়াব সামনে থাকা সত্ত্বেও আমরা কেন অলস হয়ে যাই?

রমযানের পরে আমাদের উচিত কিছু না কিছু চালু রাখা—কিছু রোজা, কিছু কুরআন, কিছু ইবাদত, কিছু প্রচেষ্টা যাতে আমরা আল্লাহর নিকটবর্তী থাকতে পারি। যদিও তা ছোট হয়, তবুও তা অব্যাহত রাখা জরুরি।

নবী ﷺ বলেছেন: “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো সেইগুলো, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা সামান্য হয়।”

রমযানের পরে আমাদের এটাই দরকার—সবকিছু রমযানের মতো না হলেও, যেন পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায়। আমরা যা পারি তা চালিয়ে যাই, এবং মৃত্যু আসা পর্যন্ত ইবাদতে অটল থাকি।

আসল সফলতা হলো না যে আমরা এক মাস ইবাদত করে তারপর থেমে গেলাম। আসল সফলতা হলো—রমযান আমাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়, যাতে আমরা প্রতিটি মাসেই আল্লাহর পথে চলতে পারি।

হে আল্লাহ, আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা রমযানের পরেও ইবাদতে অব্যাহত থাকে। হে আল্লাহ, আমাদের সালাতকে হেফাজত করুন, আমাদের অন্তরকে আপনার সঙ্গে যুক্ত রাখুন, এবং আমরা যে ভালো কাজ গড়ে তুলেছি তা নষ্ট হতে দেবেন না। হে আল্লাহ, আমাদেরকে আপনার আনুগত্যে স্থায়িত্ব দিন এবং ইসলামের উপর সুন্দর পরিণতি দান করুন। আমীন

আলহামদুলিল্লাহ, রমযান আসে এবং আমাদের জীবনের পরিবেশকে বদলে দেয়। আমরা রোজা রাখি, বেশি নামাজ পড়ি, বেশি কুরআন তিলাওয়াত করি, মসজিদ ভরে যায়, আর আমাদের অন্তরে এক সুন্দর অনুভূতি জন্ম নেয়। আমরা ঈমানের মাধুর্য অনুভব করি। আমরা আল্লাহর নিকটবর্তী হয়ে যাই।

কিন্তু রমযান শেষ হয়ে যায়, ঈদ চলে যায়, এবং আমাদের অনেকের মনে তখন প্রশ্ন জাগে: এখন কী হবে?

এটাই আসল পরীক্ষা।

প্রতিবছর আমরা একই চিত্র দেখি—এবং যদি সত্যি কথা বলি, নিজেকেও একই প্রশ্ন করতে হয়। রমযানে মসজিদগুলো পরিপূর্ণ থাকে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে কাতারগুলো ভরে যায়। থাকে উৎসাহ, চেষ্টা, অঙ্গীকার। কিন্তু রমযানের পরে সেই উদ্যম কমে যায়। আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হতে থাকে। কেউ কেউ আগের মতো মসজিদে আসা বন্ধ করে দেয়। কেউ নামাজে অবহেলা করে। কেউ কুরআন ছেড়ে দেয়। কেউ আবার পরবর্তী রমযানের অপেক্ষায় থাকে, যেন ইবাদত শুধু বছরের এক মাসের জন্য।

কিন্তু আল্লাহ আমাদেরকে শুধু রমযানে ইবাদত করতে বলেননি।

আল্লাহ বলেন: “আর তোমার প্রতিপালকের ইবাদত কর, যতক্ষণ না তোমার কাছে নিশ্চিততা (মৃত্যু) আসে।” (কুরআন ১৫:৯৯)

এর অর্থ হলো—রমযান শেষ হলেও ইবাদত শেষ হয় না। আল্লাহ শুধু রমযানের রব নন। তিনি শাওয়ালের রব, প্রতিটি মাসের রব, এবং সেই রব যাঁর কাছে একদিন আমাদের ফিরে যেতে হবে।

উলামারা বলেন, কোনো নেক আমল কবুল হওয়ার একটি লক্ষণ হলো—এর পরে বান্দা ভালো কাজে অব্যাহত থাকে। যদি রমযান কবুল হয়, তবে তার প্রভাব পরবর্তী মাসগুলোতে দেখা যাবে। হয়তো একই মাত্রায় নয়, কিন্তু ধারাবাহিকতায়। যদি সবকিছু হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এটি ভালো লক্ষণ নয়।

আল্লাহ বলেন: “তোমরা সেই নারীর মতো হয়ো না, যে নিজের শক্ত করে কাটা সুতা আবার খুলে ফেলে।” (কুরআন ১৬:৯২)

কী গভীর উদাহরণ! একজন মানুষ পরিশ্রম করে কিছু মজবুত তৈরি করল, তারপর নিজ হাতে তা ধ্বংস করে দিল। আমরা কি তাই করি না—যদি রমযানে আল্লাহর সঙ্গে একটি মজবুত সম্পর্ক গড়ে তুলে ঈদের পর তা ধীরে ধীরে নষ্ট করে ফেলি?

রমযানের পরে প্রথম যে জিনিসটি আমাদের রক্ষা করতে হবে, তা হলো নামাজ। সালাত আমাদের এবং আল্লাহর মধ্যে সংযোগ। আমরা যদি নিয়মিত ও সঠিকভাবে নামাজ আদায় করি, তবে আমরা সংযুক্ত থাকব। আর যদি নামাজ অবহেলা করি, তবে যেন সেই সংযোগ কেটে যায়।

কিয়ামতের দিন প্রথম যে আমলটির হিসাব নেওয়া হবে, তা হলো নামাজ। যদি তা ঠিক থাকে, তাহলে বাকি আমলগুলোও ঠিক থাকবে। আর যদি তা নষ্ট হয়, তবে বাকি আমলগুলোও নষ্ট হবে।

তাহলে আমরা কীভাবে এতে অবহেলা করতে পারি?

অনেকে রমযানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, কিন্তু রমযানের পরে তা কমিয়ে শুধু জুমা বা “সময় পেলে” নামাজ পড়ে। অথচ নামাজ এমন কিছু নয়, যা আমরা ফাঁকা সময়ে করব। বরং আমাদের দিনের কাঠামোই হওয়া উচিত নামাজকে কেন্দ্র করে। এটি আল্লাহর সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ।

আর আছে জামাআত। নবী ﷺ সেই ব্যক্তির জন্য কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছেন, যে বিনা কারণে মসজিদে আসা থেকে বিরত থাকে। এটি প্রমাণ করে যে, মুসলমানদের সঙ্গে জামাআতে নামাজ আদায় করা—বিশেষ করে পুরুষদের জন্য—কোনো গৌণ বিষয় নয়।

আমরা কেন এমন বড় পুরস্কারের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে যাই?

জামাআতে নামাজ পড়লে আল্লাহ ২৫ থেকে ২৭ গুণ বেশি সওয়াব দেন। সকাল-সন্ধ্যায় মসজিদে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য আল্লাহ জান্নাতে প্রতিদান প্রস্তুত করেন। প্রতিটি পদক্ষেপে একটি গুনাহ মাফ হয় এবং একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

এত বড় সওয়াব সামনে থাকা সত্ত্বেও আমরা কেন অলস হয়ে যাই?

রমযানের পরে আমাদের উচিত কিছু না কিছু চালু রাখা। কিছু রোজা, কিছু কুরআন তেলাওয়াত, কিছু ইবাদত, কিছু প্রচেষ্টা যাতে আমরা আল্লাহর নিকটবর্তী থাকতে পারি । যদিও তা ছোট হয়, তবুও তা অব্যাহত রাখা জরুরি।

নবী (সাঃ) বলেছেন: “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো সেইগুলো, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা সামান্য হয়।” রমযানের পরে আমাদের এটাই দরকার—সবকিছু রমযানের মতো না হলেও, যেন পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায়। আমরা যা পারি তা চালিয়ে যাই, এবং মৃত্যু আসা পর্যন্ত ইবাদতে অটল থাকি। আসল সফলতা এই নয় যে,  আমরা এক মাস ইবাদত করে তারপর থেমে গেলাম। আসল সফলতা হলো—রমযান আমাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়, যাতে আমরা প্রতিটি মাসেই আল্লাহর পথে চলতে পারি।

হে আল্লাহ, আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা রমযানের পরেও ইবাদতে অব্যাহত থাকে। হে আল্লাহ, আমাদের সালাতকে হেফাজত করুন, আমাদের অন্তরকে আপনার সঙ্গে যুক্ত রাখুন, এবং আমরা যে ভালো কাজ গড়ে তুলেছি তা নষ্ট হতে দেবেন না। হে আল্লাহ, আমাদেরকে আপনার আনুগত্যে স্থায়িত্ব দিন এবং ইসলামের ওপর সুন্দর পরিণতি দান করুন। আমীন।


শায়খ আব্দুল কাইয়ূম : প্রধান ইমাম ও খতীব, ইস্ট লন্ডন মস্ক এন্ড লন্ডন মুসলিম সেন্টার । জুমার খুতবা, ২৭ মার্চ ২০২৬।  

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

উৎসবের উচ্ছ্বাস আর গভীর আবেগে ঢাকা ইউনিভার্সিটি আ্যলামনাই ইন দ্য ইউকের বর্ষবরণ

প্রকাশিত :  ১৮:৩২, ১৩ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:০৯, ১৩ মে ২০২৬

লন্ডন: ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে (DUAUK) অত্যন্ত আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ‘বর্ষবরণ ১৪৩৩ – বৈশাখী মেলা ও ভর্তা উৎসব’ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছে। বর্ণিল আয়োজনে বাঙালির ঐতিহ্য ধারণ করে নাচ, গান, আবৃত্তি, ফ্যাশন শো, আনন্দ উল্লাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় অনুষ্ঠানটি এক প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। গত ৯ই মে শনিবার পূর্ব লন্ডনের ‘লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমিতে’ বর্ষবরনের আয়োজন করা হয়েছিল। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরী, পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা ও অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল হাসান। সিনিয়র সহ-সভাপতি ও অনুষ্ঠান সমন্বয়কারী মেসবাহ উদ্দিন ইকো সংক্ষিপ্ত ব্ক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ জাফরসহ একটি নিবেদিতপ্রাণ টিম। চমৎকারভাবে সাস্কৃতিক পর্ব সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক এরিনা সিদ্দিকী সুপ্রভা।

সাধারণ সম্পাদক এম কিউ হাসান তাঁর বক্তব্য প্রদানকালে বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় জীবনের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ব্যবসায়িক হালখাতা, বৈশাখী মেলা, পান্তা-ইলিশ, আর লোকজ গান-বাজনার মধ্য দিয়ে এই দিনটি হয়ে ওঠে এক আনন্দঘন উৎসব। পহেলা বৈশাখ আমাদেরকে শেকড়ের সাথে যুক্ত করে, আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় বাঙালির সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা। এই উৎসব তাই শুধু উদযাপন নয়, এটি আমাদের পরিচয়ের এক গর্বিত প্রকাশ।

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কালজয়ী গান ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গান সমবেতভাবে পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। 

অনুষ্ঠানে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির নানা পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। যা বাংলা নববর্ষের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। সদস্যদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাস্কৃতিক অনুষ্ঠান মুগ্ধ হয়ে সকলে উপভোগ করেছেন। মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে উপস্থিত সকলে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।

অনুষ্ঠানে গান, নাচ, সমবেত ছড়া, প্রেম-বিরহ-রোমান্টিক কবিতা পরিবেশন,ফ্যাশনশো, ঐতিহ্যবাহী ধামাইল নৃত্য, অতিথি আপ্যায়ন এবং খাবার পরিবেশনে যারা অংশগ্রহন করেছেন এবং যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে, প্রশংসীয় উদ্যোগে একটি সফল অনুষ্ঠান হয়েছে তাঁরা হলেন: 

রীপা সুলতানা রাকীব, সৈয়দ জুবায়ের, তারেক সৈয়দ, নীলা নিকি খান, মেহেরুন আহমেদ মালা, এরিনা সিদ্দিকী, সৈয়াদা তামান্না, সৈয়দা ফারহানা সুবর্ণা, হাবিব, সৈয়দা লাভলী চৌধুরী, দেওয়ান গৌস সুলতান, ইসমাইল হোসেন, মতিন চৌধুরী, সাবিতা শামসাদ, এম কিউ হাসান, মাহফুজা রহমান, মারুফ চৌধুরী, মেসবাহ উদ্দিন ইকো, নিলুফা ইয়াসমীন হাসান, সৈয়দ হামিদুল হক, সৈয়দ জাফর, এমদাদ তালুকদার, মিজানুর রহমান, ডা. হাসনীন চৌধুরী, বিভা মোশাররফ, মাহমুদা চৌধুরী, খালেদা জামান পূর্ণি, আসমা আক্তার, নুসরাত জাহান, শাকির আহমেদ, খাদিজা আহমেদ বন্যা, কংকন কান্তি ঘোষ, শিরিন উল্লাহ প্রমুখ।

গানের সাথে একক নৃত্য পরিবেশন করে শিশু শিল্পী শ্রেয়সী রাজভি ইসলাম।

সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় আরও সংগীত পরিবেশন করে Ocopot Bangla Band UK। 

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য ও তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে আনা ঘরে তৈরি ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়। মুড়ি, চানাচুর, চটপটি, পিঠা, পুলি, পায়েস, শুঁটকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভর্তা, সরিষা ইলিশ, বিরিয়ানী, সাদা ভাত, খিচুড়ি, ডাল কোন খাবারের কমতি ছিলনা। ঘরে তৈরি সুস্বাদু খাবার সকলে তৃপ্তি সহকারে ভোজন করেছেন।

বিশেষ সম্মাননা পর্ব - ‘মাস্টার শেফ’ খেতাব:

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল “মাস্টার শেফ” সম্মাননা প্রদান। ঘরে তৈরি খাবার প্রস্তুতকারী ৩৩ জন সদস্য এবং পরিবারকে সংগঠনের লোগো সংবলিত পদক প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। এই পর্বটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল হাসান এবং সমন্বয় করেন মেসবাহ উদ্দিন ইকো। উপস্থিত সবাই পর্বটি অত্যন্ত উপভোগ করেন।

উপদেষ্টা সম্মাননা:

উপদেষ্টাদের সংগঠনের জন‍্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মঞ্চে ডেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন হাবিব রহমান (অনুপস্থিত), এস বি ফারুক, মুহাম্মাদ আব্দুব রাকীব, আবু মুসা হাসান, নাজির উদ্দিন চৌধুরী বাবর এবং সোহুল আহমেদ মকু।

নতুন সদস্যদের স্বাগত:

মঞ্চে স্বাগত জানানো হয় নতুন নিবন্ধিত সদস্যদের। তাঁরা হলেন:

রফিকুল ইসলাম (কম্পিউটার সায়েন্স), বিভা মোশাররফ (আইন), খালেদা জামান পূর্ণি (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), চৌধুরী রেজওয়ানা বাশার (মৃত্তিকা বিজ্ঞান) এবং ড. অধ্যাপক মশফিক উদ্দিন (ফাইন্যান্স), লিডস ইউনিভার্সিটি।

স্পন্সর সম্মাননা:

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয়  করে রাখার জন‍্য ‘বৈশাখী’ নামে একটি স্মরনীকা প্রকাশ করা হয়। বর্ষবরণ ১৪৩৩ উপলক্ষে প্রকাশিত বর্ণিল স্মরণিকাটি স্পন্সরদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। বিশেষভাবে মাহফুজা রহমান স্মরণিকাটির মোড়ক উন্মোচন করেন এবং অন্যান্য স্পন্সরবৃন্দ এতে অংশগ্রহণ করেন। স্মরণিকা প্রকাশনার স্পন্সরদের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁরা হলেন: মাহফুজা রহমান,  Advocacy for Green — সৈয়দ ইকবাল ও সৈয়দা তামান্না,  LURIS VINCE Solicitors — নজির উদ্দিন চৌধুরী, Liberty Law Solicitors — সোহুল আহমেদ মকু এবং MQ Hassan Solicitors — এম কিউ হাসান।

সংগঠনের সাবেক নেতৃবৃন্দকে অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে সম্মাননা জানানো হয়। সাবেক সভাপতিদের স্বীকৃতিস্বরূপ মঞ্চে ডেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন ব্যারিস্টার আনিসুর রহমান (অনুপস্থিত), দেওয়ান গৌস সুলতান, মারুফ চৌধুরী এবং প্রশান্ত পুরকায়স্থ BEM (অনুপস্থিত)। সাবেক সাধারণ সম্পাদকদেরও স্বীকৃতিস্বরূপ মঞ্চে ডেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন: মারুফ চৌধুরী, মুহাম্মাদ আব্দুর রাকীব, ইসমাইল হোসেন এবং মেসবাহ উদ্দিন ইকো। 

সাবেক কোষাধ্যক্ষদের স্বীকৃতিস্বরূপ মঞ্চে ডেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন এম এ কালাম এবং সৈয়দ হামিদুল হক। এছাড়াও “Slum in Mega City” শীর্ষক গবেষণার মাধ্যমে পিএইচডি সম্পন্ন করায় সংগঠনের সদস্য  ড. মুসফিকা আশরাফ-কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে কমিউনির অনেক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরীর পক্ষে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজবাহ উদ্দিন ইকো ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সকল সদস্য, পরিবার, অতিথি, শিল্পী, স্বেচ্ছাসেবক, স্পন্সর ও সংগঠকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটির সফল সমাপ্তির জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। নববর্ষের কেক কেটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। 

অনুষ্ঠান শেষে কারোই বাড়ি ফেরার তাড়া ছিলনা।  নববর্ষ উদযাপনের এতো চমৎকার অনুষ্ঠানের রেশ দীর্ঘদিন মনে থাকবে।

-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কমিউনিটি এর আরও খবর