img

বাংলাদেশিদের জন্য আগামী সপ্তাহে ভিসা চালু করছে ভারত: প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশিত :  ০৯:৫৭, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:০৪, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশিদের জন্য আগামী সপ্তাহে ভিসা চালু করছে ভারত: প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলাদেশিদের জন্য চিকিৎসা ভিসার সঙ্গে ব্যবসায়িক ভিসাও চালু করতে ভারত সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে এই ভিসা চালু হবে।

আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

উপদেষ্টা জানান, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু বিষয়ে ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে নিতে হলে উভয় পক্ষকেই আন্তরিক হতে হবে। ভালো মানসিকতা নিয়ে কাজ করলে এই সম্পর্ক অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব এবং বর্তমান সরকার একটি সুন্দর শুরুর অপেক্ষায় আছে। 

তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করছে এবং জনগণের শক্তিশালী ম্যান্ডেট থাকায় সরকার বৈশ্বিক অঙ্গনে আরও সুদৃঢ় অবস্থান নিতে সক্ষম হচ্ছে। গত ৭ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির দিল্লি সফরকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে এসব দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনা বলতে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই।

তিনি শেখ হাসিনাকে ‘পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভারতে তার অবস্থান করাটা একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। উপদেষ্টার মতে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ও ভিসা কেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। এর ফলে ভারত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল। 

পরবর্তীতে জরুরি চিকিৎসা ছাড়া অন্যান্য ক্যাটাগরিতে ভিসা ইস্যু করা প্রায় বন্ধ ছিল এবং বর্তমানে পর্যটক ভিসা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকরা জরুরি চিকিৎসা এবং বাণিজ্যিক প্রয়োজনে ভারতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

হৃদযন্ত্রে ব্লক, ব্রিটেনে রাষ্ট্রপতির জরুরি এনজিওপ্লাস্টি

প্রকাশিত :  ২০:০৩, ১২ মে ২০২৬

ব্রিটেনে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের হৃদযন্ত্রের একটি ধমনীতে গুরুত্বপূর্ণ ব্লক ধরা পড়েছে। এরপর জরুরিভিত্তিতে তার এনজিওপ্লাস্টি করা হয় এবং একটি স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়। অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে বঙ্গভবনের প্রেস উইং এই তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত চিকিৎসক কর্নেল ডা. এ কে এম ফয়জুল হকের বরাত দিয়ে প্রেস উইং জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে ক্যামব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. স্টিফেন হোলির তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়। পরীক্ষায় হৃদযন্ত্রের একটি ধমনীতে উল্লেখযোগ্য ব্লক শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করা হয় এবং স্টেন্ট বসানো হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি দ্রুত আরোগ্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে (এনইউএইচ) ওপেন হার্ট সার্জারি করান। এরপর থেকে হৃদযন্ত্র-সংক্রান্ত জটিলতার ফলো-আপ চিকিৎসার অংশ হিসেবে তিনি নিয়মিত ক্যামব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে আসছেন। বিশ্বমানের হৃদরোগ চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য সুপরিচিত এই হাসপাতাল বিশ্বে প্রথম সফল হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত।

রাষ্ট্রপতি গত ৯ মে ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে লন্ডনের পথে ঢাকা ত্যাগ করেন। চিকিৎসা শেষে আগামী ১৮ মে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।