প্রকাশিত :  ০৮:৩১, ১৪ জুলাই ২০১৯

এবার চাঁদের পথে এগোচ্ছে ভারত

এবার চাঁদের পথে এগোচ্ছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্চে মহাকাশে ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়ে উপগ্রহ ধ্বংসের পরীক্ষায় সফল হয়েছিল ভারত। জায়গা করে নিয়েছিল আমেরিকা, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চিনের পর। তিন মাস পেরিয়ে আবার এই তিন দেশের পর মহাকাশ গবেষণায় বড়সড় সাফল্য কব্জা করতে চলেছে ভারত। সব কিছু ঠিকঠাক চললে ৬ সেপ্টেম্বর চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামবে ইসরোর ল্যান্ডার 'বিক্রম'। সোমবার ভোররাত ২:৫১ মিনিটে শুরু হবে ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটারের সেই অভিযান- চন্দ্রযান ২। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ হবে ইসরোর 'বাহুবলী' রকেট- জিএসএলভি এমকে থ্রি-র। তার ঝুলিতেই থাকবে অরবাইটার, ল্যান্ডার, রোভার। ল্যান্ডারের নাম দেওয়া হয়েছে মহাকাশ বিজ্ঞানী বিক্রম সারাভাইয়ের নামে, রোভারের নাম প্রজ্ঞান।


চাঁদ নিয়ে ইসরোর গবেষণায় মাইলফলক হিসেবে ধরা হয় ২০০৮ সালের ২২ অক্টোবর। সে দিন যাত্রা শুরু হয়েছিল চন্দ্রযান ১-এর। দিনকয়েক পর চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছে ইতিহাস লিখেছিল ইসরোর যান। এর পর বাকি ছিল চাঁদের মাটি ছোঁয়ার চ্যালেঞ্জ। তাই প্রস্তুতি শুরু হয় চন্দ্রযান ২-এর। ভারতের আগে মাত্র তিন দেশের এই কৃতিত্ব রয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন, আমেরিকা, চিন। চলতি বছর ইজরায়েলও চাঁদে ল্যান্ডার পাঠায়। কিন্তু সেই অভিযান সফল না-হওয়ায় চতুর্থ দেশের জায়গা এখনও ভারতের জন্য খোলা। অভিযানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবটা নিখুঁত হলে তবেই কাজে লাগবে ইসরোর বিজ্ঞানীদের এতদিনের পরিশ্রম। ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন যেমন বলেই রেখেছেন, 'চাঁদের মাটিতে বিক্রমের ল্যান্ড করার শেষ ১৫ মিনিটই সবচেয়ে আতঙ্কের মুহূর্ত।'


ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ৬ সেপ্টেম্বর 'বিক্রম' নামবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে। এখনও পর্যন্ত কেউ-ই দক্ষিণ ভাগের মাটি ছুঁতে পারেনি। আমেরিকা, রাশিয়ার বেশিরভাগ যান নেমেছে উত্তর নয়তো মধ্যভাগে। চলতি বছরের শুরুতে চিনের চ্যাং-ই৪ নামে চাঁদের দূরতম প্রান্তে। ঠিকঠাক ল্যান্ডিংয়ের জন্য দক্ষিণ মেরুর আইটকেন বেসিন থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে মাঞ্জিনুস ও সিম্পেলিয়াস নামের দুই 'গর্ত' বা ক্রেটারের মাঝামাঝি জায়গায় নির্বাচন করা হয়েছে। অন্য জায়গাটিও এর কাছাকাছি। চাঁদের এই অঞ্চলটির পৃষ্ঠ মোটেই সমান নয়। উঁচু-নিচু, বোল্ডার সর্বস্ব। তাই বেশ খানিকটা সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে তবেই মাটি ছোঁবে 'বিক্রম'।


জায়গা নির্বাচনের এই কাজটা কিছুটা সেরে দিয়েছে চন্দ্রযান ১-ই। চাঁদের কক্ষপথ থেকে বহু ছবি তুলে পাঠায়। এর সঙ্গে নাসা ও জাপানের পাঠানো সাড়ে তিন হাজার ছবিও ছানবিন করে রেখেছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। যাতে একেবারে ঠিকঠাক জায়গায় নামতে পারে ল্যান্ডার।


সোমবার ভোররাতে উৎক্ষেপণের পর রকেট পৌঁছবে পৃথিবীর কক্ষপথে। বিভিন্ন খোলস ছাড়তে ছাড়তে থাকবে শুধু অরবাইটার-ল্যান্ডার। আর ল্যান্ডারের ভিতরে রোভার। পরে তা পৌঁছবে চাঁদের কক্ষপথে। শেষবেলায় চাঁদের মাটি ছোঁয়ার পথে পা বাড়াবে ল্যান্ডার। ঠিকঠাক জায়গা বেছে চার পা ছড়িয়ে দেবে মাটিতে। তার ১৫ মিনিট পর ওই অঞ্চলের প্রথম ছবি পাঠাবে। ল্যান্ডিংয়ের চার ঘণ্টা পর 'বিক্রম'-এর পেট থেকে বেরিয়ে আসবে রোভার 'প্রজ্ঞান'। তার কাজ হবে চাঁদের মাটিতে জলের খোঁজ করা, রাসায়নিকের চরিত্র বোঝা। চাঁদের বর্হিমণ্ডল নিয়েও গবেষণা চালাবে রোভার। 




Leave Your Comments


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর