img

রামিসা হত্যা : সোহেল ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিচ্ছে পুলিশ

প্রকাশিত :  ০৫:৪৯, ২৪ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:১১, ২৪ মে ২০২৬

রামিসা হত্যা : সোহেল ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিচ্ছে পুলিশ

রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ।

আজ রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান বলেন, গতকাল ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দু’জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ। 

এ ঘটনায় বুধবার ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় গত বুধবার (২০ মে) গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানান এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে।

আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্বে কোনো শত্রুতা ছিল না।

জাতীয় এর আরও খবর

img

ছাত্রদল নেতার মামলায় এনসিপি নেতা তারেক রেজা গ্রেফতার

প্রকাশিত :  ১৮:২৮, ২৪ মে ২০২৬

ছাত্রদল নেতার দায়ের করা মামলায় ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে শহরের কবি সুকান্ত সড়কের একটি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঝিনাইদহ সদর থানার পুলিশ।

জেলা এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদল নেতার মামলায় জাতীয় যুবশক্তির নেতা অয়ন রহমানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শহরের ফ্যামিলি জোন কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল এনসিপি। সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন তারেক রেজা। সেখান থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শকব (এসআই) খাইরুল ইসলাম গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদের সামনে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও এনসিপি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ২২ মে রাতেই এনসিপি নেতা তারেক রেজা বাদী হয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সভাপতি ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়কসহ আটজনের নাম উল্লেখসহ মোট ১২৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ঘটনায় ২৩ মে সকালে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এনামুল কবির বাদী হয়ে এনসিপি নেতা তারেক রেজাসহ ২২ এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৬০ জনের নামে পালটা মামলা করেন। এই মামলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অয়ন রহমান খানকে গ্রেপ্তারের পর তারেক রেজাকেও গ্রেপ্তার করল।

জাতীয় এর আরও খবর