img

সিলেটে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মায়ের মামলা, অভিযুক্তদের আস্তানায় আগুন

প্রকাশিত :  ০৭:৫৫, ২৪ মে ২০২৬

 সিলেটে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মায়ের মামলা, অভিযুক্তদের আস্তানায় আগুন

সিলেট জেলার সদর উপজেলাস্থ জালালাবাদ থানাধীন গোপাল এলাকায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা করা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে জালালাবাদ থানায় এই মামলা দায়ের করেন ওই কিশোরীর মা। এ ঘটনায় আগেই দুজনকে আটক করে পুলিশ। মামলায় আটককৃত দুজনকে আসামি করা হয়।

পরে আটককৃত সালমান শাহ (৩২) ও আলী হোসেন (৩০) ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

এদিকে, শুক্রবার রাতে ধর্ষণের ঘটনায় আটককৃত দুই যুবকের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন স্থানীয় জনতা। শুক্রবার (২২ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গোপাল এলাকায় সালমান শাহ ও আলী হোসেনের মাটির বেড়া ও উপরে ছনের চালা সম্বলিত একটি আস্তানা ছিল। যেখানে তারা জুয়া খেলা, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াতো।

শুক্রবারও (২২ মে) সন্ধ্যায় প্রতিবেশী কিশোরীকে ওই ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার সময় সেখানে আরও একজন উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করেন। পরে এই ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে উত্তেজিত জনতা তাদের আস্তানায় গিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় প্রতিবেশী পরিচয়ের সূত্রে কিশোরীকে একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার সময় সেখানে আরও একজন উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে তাদের হেফাজতে নেয়। সদর উপজেলার গোপাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী কিশোরীকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এর ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। আটককৃত দুজনের মধ্যে একজন ভুক্তভোগীর দূরসম্পর্কের চাচা। ওই ব্যক্তির মাধ্যমে আরেক অভিযুক্তের সঙ্গে কিশোরীর পরিচয় ও যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল বলে পুলিশ জানায়।

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব। তিনি বলেন, ‘স্থানীয়দের হাতে আটককৃত যুবকদের পুলিশী হেফাজতে নেওয়া হয়। রাতে স্থানীয়রা মিলে যুবকের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

তিনি জানান, ওই কিশোরী ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন। ওসিসি থেকে কিশোরীর রিপোর্ট আসার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে একদিনে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত :  ০৮:১৮, ২৪ মে ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একদিনে পানিতে ডুবে দুই শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) সকাল ও বিকেলে উপজেলার আলাদা দুটি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর সিন্দুরখান ইউনিয়নের পূর্ব নোয়াগাঁও (জানাউড়া) গ্রামের মো. ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে রাফি (৭) পরিবারের সবার অগোচরে বাড়ির পুকুরে পড়ে যায়। পরে পুকুরে তার মরদেহ ভেসে উঠলে স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আবুল খায়ের সিদ্দিকী মুরাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ​\"শনিবার সকালে শিশু রাফি ঘুম থেকে উঠে তার পরিবারের অলক্ষ্যে বাড়ির পুকুরে পড়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার নিথর দেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​এদিকে, একই দিন বিকেল ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের সোনা মিয়া সড়কের বাসিন্দা মো. ইদ্রিস আলীর ২৮ মাস বয়সী শিশুকন্যা জামিনা ফেরদৌউস জারা খেলতে গিয়ে বাসার পুকুরে ডুবে যায়। এলাকার অন্য এক শিশু বিষয়টি দেখতে পেয়ে জারার পরিবারকে জানায়। পরিবারের সদস্যরা পুকুরে খুঁজে না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে খবর দেন। খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুকুর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।

​শ্রীমঙ্গল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাভিদ রাইয়ান বিন শহীদ বলেন, ​সকালে ও বিকেলে পানিতে ডুবে যাওয়া দুই শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাদের স্বজনরা। তবে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তারা মৃত্যুবরণ করেছে। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের মৃত ঘোষণা করি।

​শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত শিশুরা পুকুরে ডুবে মারা গেছে। এ বিষয়ে পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

​একই দিনে দুই শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর