টাঙ্গাইলে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪
প্রকাশিত :
০৪:৩৮, ০৯ জুন ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ০৭:২১, ০৯ জুন ২০২৬
টাঙ্গাইলের সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা বাঁশ বোঝাই ট্রাকের পেছনে মুরগি বোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও একজন।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর ৪টার দিকে সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কের কালিয়া ঘোনারচালা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত চারজনই মুরগি বোঝাই ট্রাকের যাত্রী ছিলেন। গুরুতর আহত ব্যক্তি বাঁশের গাড়িতে ছিলেন।
নিহতরা হলেন জামালপুরের বকশিগঞ্জের আবুল হাকিমের ছেলে চালক নূরনবী (৬৪), নওগাঁর পত্মীতলার মো. পলাশের ছেলে হেলপার রফিকুল ইসলাম (১৮), নেত্রকোনার কেন্দুয়ার মো. এরশাদের ছেলে সাগর (২২), ভোলার সেলিম মিয়ার ছেলে সুমন (২৬)। আহত ব্যক্তি হলেন ঘাটাইলের লক্ষীন্দরের আফসার আলী মন্ডলের ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম (৪০)।
স্থানীয়রা জানান, বাঁশ বোঝাই ট্রাকটি ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় ঢাকাগামী একটি মুরগি বোঝাই ট্রাক বাঁশ বোঝাই ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। পরে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ খরব পেয়ে লাশ উদ্ধার করে সখিপুর থানায় নিয়ে যায়।
সখীপুর থানার এএসআই মো. আল মামুন বলেন, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পরিবারের লোকজন আসলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
‘টিআইবির প্রতিবেদনকে পত্রিকার কাটিং–নির্ভর বলার ভিত্তি নেই'
প্রকাশিত :
১৮:৩১, ০৯ জুন ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৩৫, ০৯ জুন ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংসদ ও পুলিশের প্রতিক্রিয়ায় টিআইবির ব্যাখ্যা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের প্রথম ১০০ দিন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে আলোচনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়ার জবাব দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি বলেছে, তাদের গবেষণা কোনোভাবেই শুধু পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়নি; বরং স্বীকৃত সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিভিন্ন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৯ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন : সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে আলোচনা হয়েছে, তা সংস্থাটিকে অনুপ্রাণিত করেছে।
টিআইবির মতে, এ ধরনের প্রতিক্রিয়া তাদের গবেষণা ও জনস্বার্থভিত্তিক কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ করতে সহায়তা করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যথার্থই উল্লেখ করেছেন, টিআইবি কোনো তদন্ত সংস্থা নয়। সংস্থাটি মূলত গবেষণাভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী ও সুশাসনসংক্রান্ত কাজ করে থাকে। সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গুণগত ও পরিমাণগত পদ্ধতি অনুসরণ করে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্যের উৎস প্রসঙ্গে টিআইবি জানায়, বাংলাদেশ পুলিশ এবং ৩টি সুপরিচিত মানবাধিকার সংগঠন থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব তথ্যসূত্র প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে প্রতিবেদনটি কেবল পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ কাটিংয়ের ওপর নির্ভরশীল এমন মন্তব্যের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই বলে দাবি সংস্থাটির।
টিআইবি আরও বলেছে, গবেষণার প্রয়োজনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সংগ্রহ করা হলেও তা সরাসরি ব্যবহার করা হয় না। সংশ্লিষ্ট সরকারি, বেসরকারি এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে সেগুলো বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাই প্রতিবেদনকে ঢালাওভাবে ‘পত্রিকার কাটিংনির্ভর’ বলে আখ্যা দেওয়া মূল বিষয়কে এড়িয়ে যাওয়ার একটি অযৌক্তিক প্রচেষ্টা।
বিবৃতিতে প্রশ্ন তুলে বলা হয়, দেশের জনপ্রতিনিধি, সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নিজেদের কার্যক্রম প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সে বিবেচনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে সামগ্রিকভাবে অবমূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই।
পুলিশের প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে টিআইবি বলেছে, পুলিশ কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনে তাদের মূল পর্যবেক্ষণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক-এসব বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেনি। তবে অতীত সরকারের মেয়াদের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণের যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে, তা উক্ত গবেষণার পরিধির বাইরে। ফলে সে বিষয়ে মন্তব্য করা টিআইবির জন্য যৌক্তিক নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।