img

ইসলামী ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের পাল্টাপাল্টি অবস্থান

প্রকাশিত :  ১০:০১, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:০২, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের পাল্টাপাল্টি অবস্থান

এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন সময়ে নিয়োগ পাওয়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের চাকরিচ্যুত ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তারা পুনর্বহালের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছেন। এ দাবিতে তারা মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

অন্যদিকে একই স্থানে 'সচেতন গ্রাহক ফোরাম'-এর ব্যানারে কয়েকশো গ্রাহক 'এস আলমের লুটেরাদের ষড়যন্ত্র' লেখা ব্যানার নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে সকাল ৯টা থেকে উভয় পক্ষ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে চলে যান।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা চাকরি পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে বলেন, কোনো তদন্ত ছাড়াই তাদের সবাইকে একসঙ্গে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অন্যদিকে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর অভিযোগ, এস আলমের নিয়ন্ত্রণের সময়ে অনিয়ম ও জাল সনদের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

চাকরিচ্যুত কর্মীদের একজন বলেন, চাকরি হারানোর পর দীর্ঘদিন ধরে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গঠিত নতুন পরিচালনা পর্ষদ তাদের চাকরিচ্যুত করেছে। 

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

img

সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের জন্য সুসংবাদ, আজ থেকে চালু হচ্ছে নতুন পদ্ধতি

প্রকাশিত :  ০৭:০৬, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:১৫, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূল টাকা পেতে ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বরের কারণে বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি কমাতে আজ মঙ্গলবার থেকে চালু হচ্ছে অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস)। নতুন এই ব্যবস্থায় সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় বিনিয়োগকারীর দেওয়া ব্যাংক হিসাব নম্বর টাকা পাঠানোর আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে। ফলে ভুল হিসাব নম্বরের কারণে মুনাফা বা মূল টাকা পেতে যে জটিলতা তৈরি হয়, তা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে এ ব্যবস্থা কার্যকর হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এটি চালু করছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ‘স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি (এসপিএফএমএস)’ কর্মসূচির আওতায় এ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। সরকারের ১১টি জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মধ্যে ৯টির লেনদেন বর্তমানে ন্যাশনাল সেভিংস স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এনএসসি সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

এনএসসি সিস্টেমে বর্তমানে নিবন্ধিত একক গ্রাহক ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ২২৪ জন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে মুনাফা ও মূল অর্থ পরিশোধ করা হয়। একই সময়ে গড়ে প্রায় ৮ হাজার নতুন সঞ্চয়পত্র ইস্যু হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের ব্যবস্থা আগে থেকেই থাকলেও এবার যুক্ত হলো ব্যাংক হিসাব যাচাই।

আগে গ্রাহকের দেওয়া হিসাব নম্বরই সরাসরি সিস্টেমে যুক্ত করা হতো। কোনো সংখ্যা ভুল হলে ইএফটি ফেরত আসত এবং তথ্য সংশোধন করে আবার টাকা পাঠাতে হতো। এতে বিনিয়োগকারীর ভোগান্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাজের চাপ বাড়ত। ভুল নম্বরের কারণে একজনের প্রাপ্য অর্থ অন্যের হিসাবে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও ছিল।

নতুন ব্যবস্থায় হিসাব নম্বর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট তফশিলি ব্যাংকের মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে। প্রথমে হিসাবটি সঠিক ও সচল কিনা এবং পরে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বরের সঙ্গে হিসাবধারীর তথ্য মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। ফলে লেনদেনের আগেই ভুল বা অসামঞ্জস্য শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

নতুন সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় এবং পরবর্তী সময়ে ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন বা সংশোধনের ক্ষেত্রেও এভিএস ব্যবহার করা হবে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর জানিয়েছে, এভিএস চালুর ফলে ভুল হিসাব নম্বরের কারণে ইএফটি ফেরত আসার ঝুঁকি কমবে, বিনিয়োগকারীর ভোগান্তি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অতিরিক্ত কাজ কমবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ নিরাপদে ও নির্ভুলভাবে প্রকৃত হিসাবধারীর হিসাবে পাঠানো সহজ হবে।

অর্থ বিভাগের মতে, এভিএস জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ডিজিটাল সেবা আধুনিকায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর ফলে সঞ্চয়পত্রের লেনদেন আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য হবে এবং গ্রাহকের অর্থ দ্রুত ও সঠিক সময়ে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।