img

ইশরাককে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার দাবিতে নগর ভবনে বিক্ষোভ

প্রকাশিত :  ০৮:১০, ১৫ মে ২০২৫

ইশরাককে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার দাবিতে নগর ভবনে বিক্ষোভ

আদালতের রায়ের পর নির্বাচন কমিশন থেকে গেজেট হলেও এখনও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ নিতে পারেননি বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। তাঁকে শপথ পড়ানোর দাবিতে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো নগর ভবনের সামনে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ কর্মসূচি। দ্রুত শপথের ব্যবস্থা না করলে জনগণ মেয়র হিসেবে শপথ পড়াবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় বিক্ষোভ থেকে।

এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ মানুষ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থক। সকাল থেকেই মিছিল নিয়ে ঢাকা দক্ষিণের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা থেকে এসে জড়ো হতে থাকেন নগর ভবনের সামনে। তারা স্লোগান দেন নগর ভবন এলাকায়। বিক্ষুব্ধদের দাবি, অবিলম্বে ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হবে।

বক্তারা বলেন, সরকার যদি ইশরাক হোসেনকে শপথ পড়াতে এখনও গড়িমসি করে, তাইলে এবার আর তাদের শপথ আয়োজনের অপেক্ষা করবেন না। এবার জনগণ নিজেরাই তাদের মেয়রকে শপথ পড়িয়ে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন। একদিন আগে বুধবারও ইশরাক হোসেনকে শপথ পড়ানোর দাবিতে নগরভবনের ভেতরে-বাইরে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক হাজার মানুষ।

২৭ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন মেয়র হিসেবে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের নাম ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ পাওয়ার পর এই গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি। এর আগে ২৭ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০২০ সালের নির্বাচনে ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণার ফল বাতিল করে বিএনপি নেতা ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম।

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়। তাতে উত্তরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম এবং দক্ষিণে ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হন। নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফল বাতিল চেয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেছিলেন ইশরাক।

img

ডেপুটি স্পিকারের পদটি এখনো বিরোধীদলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৮:২৭, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:২৩, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে আবারও তাদের ডেপুটি স্পিকারের পদটি গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “পদটি এখনো বিরোধীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, তারা চাইলে যেকোনো সময় এটি গ্রহণ করতে পারেন।”

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং একটি সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বিরোধী দলের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে বিরোধী দল ও সরকারি দলের গন্তব্য এক ও অভিন্ন। সংসদে গঠনমূলক বিতর্কের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র এগিয়ে যায়। যেসব বিষয়ে আমাদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে, দেশের স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেসবের সমাধান খুঁজে নেব।”

প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন যে, কোনো একটি দল ব্যর্থ হওয়া মানে সমগ্র বাংলাদেশ ব্যর্থ হওয়া। তিনি বলেন, “আমরা কেউ কাউকে ব্যর্থ করতে চাইব না। আলোচনার মাধ্যমেই আমাদের এই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। চলুন আমরা সিদ্ধান্ত নেই, আমাদের সংসদীয় আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন নিশ্চিত করা।” এ সময় তিনি বিরোধী দলীয় নেতাসহ সকল সংসদ সদস্যকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তার প্রবাস জীবনের স্মৃতিচারণ করে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার ছেলে বর্তমানে ব্রিটেনে থাকেন। আমাকেও একসময় রাজনৈতিক কারণে সেখানে থাকতে হয়েছে। প্রবাসে থাকাকালীন ওখানকার স্কুলগুলো দেখে আমার খুব কষ্ট হতো। ভাবতাম, আমার দেশের স্কুলের শিক্ষার্থীরা কবে এমন সুন্দর পরিবেশে স্কুলে যাবে।’

তিনি জানান, আগামী জুলাই মাস থেকে সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগ, ড্রেস এবং জুতা প্রদান করবে। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক ও সম্মানজনক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই তার সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

কৃষি ও পানির নিরাপত্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খাল খনন কর্মসূচি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এটি কেবল সেচ সুবিধার জন্য নয়, বরং সারা দেশে পানির সংকট দূর করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করা।