img

আস্থার বার্তা দিচ্ছে শেয়ারবাজার: সেক্টর রোটেশনে ফিরছে স্থিতিশীলতা!

প্রকাশিত :  ১৯:১৬, ০১ জুলাই ২০২৫

আস্থার বার্তা দিচ্ছে শেয়ারবাজার: সেক্টর রোটেশনে ফিরছে স্থিতিশীলতা!

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আবার ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গত কয়েক দিনের লেনদেন ও খাতভিত্তিক লাভের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে—বাজার একটি গতিশীল ও সুষম কাঠামো ফিরে পাওয়ার পথে রয়েছে। আজকের বাজার পরিস্থিতি এবং “টপ সেক্টর বাই গেইনার” গ্রাফের আলোকে বলা যায়, আগামীকাল অর্থাৎ ২ জুলাই ২০২৫ তারিখে শেয়ারবাজারে একটি স্থিতিশীল এবং আংশিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা প্রত্যাশিত।

খাতভিত্তিক ইতিবাচক প্রবণতা

টেক্সটাইল খাত:

বাজারে সর্বাধিক সক্রিয়তা দেখা গেছে টেক্সটাইল খাতে। DSSL, AIL এবং Shepherd Industries-এর মতো কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এই ধারা আগামীকালও অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের অন্যতম রপ্তানিনির্ভর এই খাতটি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণে সফল হয়েছে।

ইঞ্জিনিয়ারিং খাত:

ইনফ্রাস্ট্রাকচার খাতে চাহিদা বৃদ্ধির প্রত্যাশায় ইঞ্জিনিয়ারিং খাতেও ইতিবাচক লেনদেন লক্ষ্য করা গেছে। বিদেশি প্রকল্পে অগ্রগতি এবং অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কার্যক্রম এ খাতটিকে দৃঢ় ভিত্তি দিচ্ছে।

ব্যাংকিং খাত:

Midland ও BRAC ব্যাংকের দৃঢ় পারফরম্যান্স ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে। Islami Bank ও Uttara Bank-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিবাচক ফলাফলও এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।

আইটি খাত:

AGNI Systems-এর উচ্চ লেনদেন প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপটে এই খাতের অগ্রগতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চাপের মুখে থাকা খাতসমূহ

ফুড অ্যান্ড অ্যালাইড:

Lovello-এর ৫.১৯% দরপতনসহ একাধিক কোম্পানির দুর্বল পারফরম্যান্স দেখা গেলেও, এই খাতে লেনদেন তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। এটি সম্ভবত একটি \'সংশোধন পর্যায়ে\' রয়েছে। তবে বিক্রির চাপ কমলে খাতটি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রাখে।

ইনস্যুরেন্স খাত:

Central Insurance-এর নেতিবাচক প্রবণতা এই খাতকে কিছুটা চাপে ফেলেছে। তবে SEAPEARL-এর মতো হোটেল ও রিসোর্টভিত্তিক কোম্পানির ইতিবাচক পারফরম্যান্স খাতটির ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখছে।

ফার্মাসিউটিক্যালস খাত:

Orion-এর দরপতনের বিপরীতে Asiaticlab ও IBP-এর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা খাতটিকে একটি মিশ্র অবস্থানে রেখেছে। এই খাতে বিনিয়োগকারীদের সচেতন ও সতর্ক থাকা জরুরি।

সেক্টর রোটেশন: এক ইতিবাচক সংকেত

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, বিনিয়োগকারীরা এক খাত থেকে মুনাফা তুলে অন্য খাতে বিনিয়োগ করছেন—এটি শেয়ারবাজারে ‘সেক্টর রোটেশন’ প্রক্রিয়ারই ইঙ্গিত। AGNI, Midland ও Lovello-এর মতো লিকুইড শেয়ারে উচ্চ লেনদেনের মাধ্যমে বাজারে তারল্য বজায় রয়েছে।

বেশিরভাগ শেয়ারের চার্ট অনুযায়ী অবস্থান “Up” ও “Eql” স্তরে রয়েছে, যা বাজারের স্থিতিশীল প্রবণতা নির্দেশ করে।

আগামীকালের বাজার পূর্বাভাস (২ জুলাই ২০২৫)

সূচক: সামান্য ঊর্ধ্বমুখী অথবা স্থিতিশীল থাকতে পারে

সক্রিয় খাতসমূহ: টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্যাংক ও আইটি খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা

সংশোধনধর্মী খাত: ফুড ও ইনস্যুরেন্স খাতে কিছুটা মৃদু সংশোধন চলতে পারে

বিনিয়োগকারীদের জন্য করণীয়

স্বল্পমেয়াদে: টেক্সটাইল ও ব্যাংক খাতের সক্রিয় শেয়ারের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া যেতে পারে,

মধ্যমেয়াদে: আইটি ও ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে,

সতর্কতা: বাজার এখনও পুরোপুরি ঊর্ধ্বমুখী না হলেও স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে, তাই লাভ সংরক্ষণের মানসিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। 

বর্তমানে দেশের শেয়ারবাজার একটি সম্ভাবনাময় ও সহনশীল অবস্থানে রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ, সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সহায়ক পদক্ষেপ, এবং খাতভিত্তিক গতিশীলতা—সব মিলিয়ে বাজারে একটি ধীরে ধীরে আস্থার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ থেকে প্রতীয়মান হয়, আগামীকালও বাজার এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, যেখানে সচেতনতা ও ধৈর্যের মাধ্যমে লাভবান হওয়া সম্ভব।

img

বর্তমানে বাংলাদেশে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ৭৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি

প্রকাশিত :  ১১:২১, ২১ এপ্রিল ২০২৬

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণ ৭৮.০৬৭ (আটাত্তর দশমিক শূন্য ছয় সাত) বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বলে  উল্লেখ করেছেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ১৮তম দিনের প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব তথ্য জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা প্রশ্ন রেখে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিদেশি ঋণের পরিমাণ কত; উক্ত ঋণ পরিশোধে এই পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এই পর্যন্ত কোনো ঋণ পরিশোধ করেছে কি না; করলে, তা কী?

আমির খসরু বলেন, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাস পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮.০৬৭ (আটাত্তর দশমিক শূন্য ছয় সাত) বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সরকারের পক্ষে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করে থাকে। প্রতি অর্থবছর বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের জন্য ঋণের আসল ও সুদ বাবদ সম্ভাব্য মোট ব্যয় কত হতে পারে তার একটি প্রক্ষেপণ তৈরি করা হয় এবং সে পরিমাণ অর্থ ঋণ পরিশোধ বাবদ বাজেটে সংস্থান রাখা হয়। বাজেট বরাদ্দ ব্যবহার করেই সারাবছর পরিশোধ সূচি অনুসরণ করে ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯০.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।

অর্থনীতি এর আরও খবর