img

ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে কংগ্রেসের উদ্যোগ

প্রকাশিত :  ০৬:১৫, ০৪ মার্চ ২০২৬

ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে কংগ্রেসের উদ্যোগ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এ সপ্তাহে দ্বিদলীয় যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি করতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে সামরিক অভিযান সীমিত করার লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেটে এই প্রচেষ্টা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। কারণ অতীতে যুদ্ধ ঘোষণার অধিকার কংগ্রেসে ফিরিয়ে আনার অনুরূপ উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম এনপিআর জানায়, বেশিরভাগ ডেমোক্র্যাট সদস্য এবং কয়েকজন রিপাবলিকান ক্যাপিটল হিলে এই প্রচেষ্টার সমর্থন করছেন। ইরানে ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার এই পদক্ষেপ গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর আরও জোরদার হয়েছে। ওই হামলায় প্রথমবারের মতো আমেরিকান সেনাদের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

কংগ্রেসের এই প্রস্তাবগুলো যদি পাস হয়, তাহলে প্রেসিডেন্টের একতরফা সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত হবে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রিপাবলিকান-সংখ্যাগরিষ্ঠ সিনেটে এর সফলতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রস্তাবগুলোকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বর্ণনা করেছে।

ইরানে সাম্প্রতিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। কংগ্রেসের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশনীতিতে সংসদের ভূমিকা পুনরুদ্ধারের একটি প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

img

ডেপুটি স্পিকারের পদটি এখনো বিরোধীদলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৮:২৭, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:২৩, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে আবারও তাদের ডেপুটি স্পিকারের পদটি গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “পদটি এখনো বিরোধীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, তারা চাইলে যেকোনো সময় এটি গ্রহণ করতে পারেন।”

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং একটি সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বিরোধী দলের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে বিরোধী দল ও সরকারি দলের গন্তব্য এক ও অভিন্ন। সংসদে গঠনমূলক বিতর্কের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র এগিয়ে যায়। যেসব বিষয়ে আমাদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে, দেশের স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেসবের সমাধান খুঁজে নেব।”

প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন যে, কোনো একটি দল ব্যর্থ হওয়া মানে সমগ্র বাংলাদেশ ব্যর্থ হওয়া। তিনি বলেন, “আমরা কেউ কাউকে ব্যর্থ করতে চাইব না। আলোচনার মাধ্যমেই আমাদের এই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। চলুন আমরা সিদ্ধান্ত নেই, আমাদের সংসদীয় আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন নিশ্চিত করা।” এ সময় তিনি বিরোধী দলীয় নেতাসহ সকল সংসদ সদস্যকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তার প্রবাস জীবনের স্মৃতিচারণ করে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার ছেলে বর্তমানে ব্রিটেনে থাকেন। আমাকেও একসময় রাজনৈতিক কারণে সেখানে থাকতে হয়েছে। প্রবাসে থাকাকালীন ওখানকার স্কুলগুলো দেখে আমার খুব কষ্ট হতো। ভাবতাম, আমার দেশের স্কুলের শিক্ষার্থীরা কবে এমন সুন্দর পরিবেশে স্কুলে যাবে।’

তিনি জানান, আগামী জুলাই মাস থেকে সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগ, ড্রেস এবং জুতা প্রদান করবে। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক ও সম্মানজনক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই তার সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

কৃষি ও পানির নিরাপত্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খাল খনন কর্মসূচি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এটি কেবল সেচ সুবিধার জন্য নয়, বরং সারা দেশে পানির সংকট দূর করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করা।