img

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ও ছালেহ শিবলী

প্রকাশিত :  ১২:৫৪, ০৫ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ও ছালেহ শিবলী

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও প্রেসসচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (শিবলী)। আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর রুল ২৮(৪) অনুসারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক তথ্য প্রেস, মিডিয়া অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রচার ও প্রদানের ক্ষেত্রে মাহদী আমিন ও আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (শিবলী) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে মাহদী আমিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন। নির্বাচনের সময় তিনি গুলশানের দলের নির্বাচনী কার্যালয়ে নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন।

মাহদী আমিন শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, যুব ও নারী ক্ষমতায়ন এবং ৩১ দফার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার বিষয়ে দেশে বিভিন্ন সভা, সেমিনার, কর্মশালা, সমাবেশ ও নীতি প্রণয়নে অবদান রেখেছেন। ২০১৪ সালে তিনি বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা হন।

২০২৪ সালে মাহদী আমিন বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগে বহুমুখী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দক্ষিণ এশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নীতিমালার সঙ্গে যুক্ত মাহদী আমিন দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ছালেহ শিবলী কর্মজীবনে বার্তা সংস্থা ইউএনবি, দৈনিক মানবজমিন, বাংলাবাজার পত্রিকা, চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০০৪ সালে তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন।

তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকাকালীনও তার প্রেসসচিব ছিলেন ছালেহ শিবলী। চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে কলকাতা উপ-হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ছালেহ শিবলীও কয়েক দশক ধরে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন।

img

ডেপুটি স্পিকারের পদটি এখনো বিরোধীদলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৮:২৭, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:২৩, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে আবারও তাদের ডেপুটি স্পিকারের পদটি গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “পদটি এখনো বিরোধীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, তারা চাইলে যেকোনো সময় এটি গ্রহণ করতে পারেন।”

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং একটি সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বিরোধী দলের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে বিরোধী দল ও সরকারি দলের গন্তব্য এক ও অভিন্ন। সংসদে গঠনমূলক বিতর্কের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র এগিয়ে যায়। যেসব বিষয়ে আমাদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে, দেশের স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেসবের সমাধান খুঁজে নেব।”

প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন যে, কোনো একটি দল ব্যর্থ হওয়া মানে সমগ্র বাংলাদেশ ব্যর্থ হওয়া। তিনি বলেন, “আমরা কেউ কাউকে ব্যর্থ করতে চাইব না। আলোচনার মাধ্যমেই আমাদের এই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। চলুন আমরা সিদ্ধান্ত নেই, আমাদের সংসদীয় আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন নিশ্চিত করা।” এ সময় তিনি বিরোধী দলীয় নেতাসহ সকল সংসদ সদস্যকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তার প্রবাস জীবনের স্মৃতিচারণ করে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার ছেলে বর্তমানে ব্রিটেনে থাকেন। আমাকেও একসময় রাজনৈতিক কারণে সেখানে থাকতে হয়েছে। প্রবাসে থাকাকালীন ওখানকার স্কুলগুলো দেখে আমার খুব কষ্ট হতো। ভাবতাম, আমার দেশের স্কুলের শিক্ষার্থীরা কবে এমন সুন্দর পরিবেশে স্কুলে যাবে।’

তিনি জানান, আগামী জুলাই মাস থেকে সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগ, ড্রেস এবং জুতা প্রদান করবে। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক ও সম্মানজনক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই তার সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

কৃষি ও পানির নিরাপত্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খাল খনন কর্মসূচি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এটি কেবল সেচ সুবিধার জন্য নয়, বরং সারা দেশে পানির সংকট দূর করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করা।