img

সৌদি থেকে আসছে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

প্রকাশিত :  ০৬:০৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬

সৌদি থেকে আসছে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

‘এমটি নিনেমিয়া’ নামে একটি ট্যাংকার সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আগামী ৪ বা ৫ মে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত বলেন, ‘আশা করছি  ১ লাখ  টন ক্রুড ওয়েল (অপরিশোধিত তেল) বহনকারী ট্যাংকারটি ৪ বা ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে।’

তিনি জানান, এমটি নিনেমিয়া নামের ওই ট্যাংকারটি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর উপকূল হয়ে বাংলাদেশে আসছে।

এ অপরিশোধিত তেল  আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, জাহাজটি মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর থেকে যাত্রা করেছে। এর আগের রাতে এতে তেল বোঝাই করা হয়।

তিনি জানান, সাধারণত সৌদি আরব থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে জাহাজের ১৪ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে।

ক্রুড ওয়েলবাহী জাহাজ আসার ফলে রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি ঘিরে অনিশ্চয়তা দূর হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরো জানান, ‘নর্ডিক পোলাক্স’ নামে আরেকটি জাহাজ ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে এখনো হরমুজ প্রণালিতে আটকে আছে। জাহাজটি বর্তমানে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করলেও ইরানের বিশেষ ছাড়পত্র না পাওয়ায় এটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে।

এর মধ্যে বিপিসি-কে ৯২ শতাংশ আমদানি করতে হয়।

বাকি ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস থেকে পাওয়া যায়। সরবরাহকৃত জ্বালানির মধ্যে ইআরএল (ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড) প্রতিবছর ১৫ লাখ টন ক্রুড ওয়েল শোধন করে, যা দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে।

বিপিসি জানায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক ব্যবহার হয়েছে পরিবহন খাতে।

মোট বিক্রিত জ্বালানির ৬৩.৪১ শতাংশ পরিবহন খাতে ব্যবহৃত হয়েছে। এ ছাড়া কৃষিতে ১৫.৪১ শতাংশ, শিল্পে ৫.৯৬ শতাংশ, বিদ্যুতে ১১.৬৭ শতাংশ, গৃহস্থালিতে ০.৯৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ২.৫৯ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে।

২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ৭৫ টন, যা মোট জ্বালানি তেল বিক্রির ৬৩.৬৪ শতাংশ। ফার্নেস ওয়েল বিক্রি হয়েছে ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮ টন, যা ১২.৮৫ শতাংশ। পেট্রোল বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ টন, যা ৬.৭৭ শতাংশ এবং অকটেন বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৫৩ টন, যা ৬.০৮ শতাংশ।

এ ছাড়া কেরোসিন বিক্রি হয়েছে ৬৭ হাজার ৪৭৭ টন, যা মোট জ্বালানি তেলের ০.৯৯ শতাংশ। জেট ফুয়েল বিক্রি হয়েছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৪ টন, যা ৮.০১ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ব্যবহৃত হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৬৯ টন, যা মোট পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহার্যের ১.৬৬ শতাংশ।

img

গতি ফিরলো শেয়ারবাজারে, দুই মাসের সর্বোচ্চ লেনদেন

প্রকাশিত :  ০৯:৩৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬

অব্যাহত দরপতনের ধারা কাটিয়ে ২১ এপ্রিল থেকে ঘুরে দাঁড়ানো শেয়ারবাজারে উত্থান প্রবণতায় আজও গতি সঞ্চার হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় বুধবার লেনদেন শেষে দেখা গেছে, গত দুই মাসের মধ্যে টাকার অংকে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। একই সঙ্গে সূচক বৃদ্ধির পাশাপাশি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরও বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের প্রভাবে সাময়িক নেতিবাচক চাপ তৈরি হলেও লেনদেন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। বরং সতর্কভাবে বিনিয়োগ করলে ইতিবাচক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪১.১৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৯৮.৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৩.২৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৫.৮৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২০.৩২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৪.৫০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯১টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২১৩টির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে, ১২১টির দর কমেছে এবং ৬৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

লেনদেনের দিক থেকেও দিনটি ছিল উল্লেখযোগ্য। ডিএসইতে প্রায় ১ হাজার ৫৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা গত দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল গত ২ ফেব্রুয়ারি, যেখানে টাকার অংক ছিল ১ হাজার ২২২ কোটি ৩০ হাজার। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৯২৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা। সেই হিসেবে একদিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১২৭ কোটি ৮ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ৩৩ কোটি ২৯ লাখ টাকার তুলনায় কম।

সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৩০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১১টির দর বেড়েছে, ৯৫টির কমেছে এবং ২৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে, সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬.৭৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৭৩০.৭৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যেখানে আগের দিন সূচকটি ২৭.৭৬ পয়েন্ট বেড়েছিল।

অর্থনীতি এর আরও খবর