img

৬ নবজাতকের মৃত্যু : আদ্-দ্বীনের জবাবে সন্তুষ্ট নয় সরকার

প্রকাশিত :  ০৮:১০, ১০ জুন ২০২৬

৬ নবজাতকের মৃত্যু : আদ্-দ্বীনের জবাবে সন্তুষ্ট নয় সরকার

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া কারণ দর্শানোর জবাবে সন্তুষ্ট নয় সরকার। এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।

আজ বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া কারণ দর্শানোর যে জবাব দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাতে সরকার সন্তুষ্ট নয়। সবই অস্পষ্ট তথ্য দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত ২৭ মে ভোরে হাসপাতালটির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতক কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায়। এ ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব পালনে একাধিক গাফিলতির বিষয় উঠে আসে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডটি নবজাতক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের জন্য উপযোগী ছিল না। সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ঘাটতি ছিল এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও ছিল অপর্যাপ্ত ও অনিয়মিত।

এ ছাড়া ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক ওয়ার্ডে উপস্থিত ছিলেন না বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়। নবজাতকদের অবস্থার অবনতি ঘটার পরও সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে আরও উঠে আসে, জন্মের পর নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল এবং তাদের বিশেষায়িত চিকিৎসা বা ইনকিউবেটরের প্রয়োজন ছিল না। তবে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি ছিল। পাশাপাশি হাসপাতালের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার বিষয়ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৪ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের সই করা চিঠিতে এ শোকজ জারি করা হয়।


বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

কক্সবাজারে ডাকাতির পর মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশিত :  ১৩:৫২, ০৯ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় ডাকাতির পর এক গৃহবধূ ও তার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- রেজাউল, মেহেদী, বাবু, কেফায়েত ও তানজিদ, মোহাম্মদ তারেক। তারা একই উপজেলার বাসিন্দা। 

স্থানীয়রা জানায়, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র দল ব্যবসায়ীর বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ব্যবসায়ীর অনুপস্থিতিতে বাড়িতে থাকা তার স্ত্রী ও দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে তারা।

পরে গুরুতর আহত মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। 

ওই গৃহবধূর ছোট ভাই বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার ভাগ্নিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

ঘটনার খবর পেয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশের নেতৃত্বে একাধিক পুলিশ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

ওসি জানান, জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


বাংলাদেশ এর আরও খবর