img

কোন দেশ সফর করা হবে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ, অন্য কেউ নয়: হুমায়ুন কবির

প্রকাশিত :  ১০:৪৬, ২০ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:১১, ২০ জুন ২০২৬

কোন দেশ সফর করা হবে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ, অন্য কেউ নয়: হুমায়ুন কবির

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, কোন দেশ সফর করা হবে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ, অন্য কেউ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রে যাব, প্রয়োজনে চীনেও যাব। ভারতের সঙ্গে পরিবেশ অনুকূল হলে ভারতেও যাব। আমরা কোথায় যাব, সেটা অন্য কেউ নির্ধারণ করবে না। কারণ আমরা বৈধ সরকার, জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার। আমাদের কাউকে খুশি করার জন্য নাচতে হবে না।

আজ শনিবার (২০ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আমি শুধু এটুকুই বলব—এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সব বড় অংশীদার দেশের সঙ্গে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ওয়াশিংটন, বেইজিং, ইউরোপ কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—সব ক্ষেত্রেই আমরা ভারসাম্য রেখে এগোচ্ছি। এটি সম্ভব হয়েছে কারণ আমরা দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জনগণের বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি। ফলে আমরা এখন শক্ত অবস্থান থেকে কথা বলতে পারি, দর-কষাকষি করতে পারি। গত পনেরো বছরে কোনো সরকার তা পারেনি, কারণ জনগণের আস্থা ও বৈধতা তাদের ছিল না।

হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর অবশ্যই ভালো হবে। চীন আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। আর মালয়েশিয়া হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া সফরেরও তাৎপর্য রয়েছে। সেখানে আমাদের বেশ কিছু কৌশলগত স্বার্থ জড়িত আছে। আমরা আসিয়ানের সদস্যপদের জন্য আবেদন করছি। ভবিষ্যতে ‘কম্প্রিহেনসিভ অ্যান্ড প্রগ্রেসিভ অ্যাগ্রিমেন্ট ফর ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ’ বা সিপিটিপিপি বাজারেও প্রবেশের চেষ্টা করব। এসব বিষয়ও আলোচনায় থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমরা এখন বৈশ্বিক অঙ্গনে একটি সক্রিয় পক্ষ—যে নরম শক্তি, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নিজের অবস্থানকে প্রভাবশালী করে তুলতে চায়। আমরা সব অংশীজনের সঙ্গে অর্থবহভাবে যুক্ত হব, কিন্তু সবার আগে অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ।

তিনি বলেন, আশা করি এই সফর সফল হবে। প্রথম সফর মালয়েশিয়া, দ্বিতীয় সফর চীন। এরপর আরও সফর হবে। তবে প্রতিটি সফরই হবে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ২৭ জন, আর চীন সফরে ২৮ জন উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর সফর। যাদের প্রয়োজন শুধু তাদেরই নেওয়া হবে। আগের মতো বড় বড় দল নিয়ে বিদেশে ঘুরতে যাওয়া, সরকারি অর্থ অপচয় করা, সেই সংস্কৃতি এখন আর নেই। এখন প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে কাজের প্রয়োজন ও জনগণের টাকার জবাবদিহির ভিত্তিতে।

‘প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন— যাদের মালয়েশিয়ায় প্রয়োজন, তারা মালয়েশিয়া যাবেন; যাদের চীনে প্রয়োজন, তারা চীন যাবেন। শুধু বিমানভর্তি লোক নিয়ে সফররের সেই সময় শেষ। এখন প্রতিটি পয়সা খরচ হবে জনগণের স্বার্থে, বিচক্ষণতার সঙ্গে। এটাই এই সরকারের অবস্থান। জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হবে, কারও ব্যক্তিগত আগ্রহ বা বিলাস পূরণে নয়। সুতরাং, আমরা বিশ্বাস করি মালয়েশিয়া ও চীন দুই সফরই সফল ও ফলপ্রসূ হবে এবং বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে’, বলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

জাতীয় এর আরও খবর

img

এমপি হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে লন্ডনে মামলা

প্রকাশিত :  ১৮:১৮, ২০ জুন ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আবদুল্লাহসহ চার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ।

গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত কেমব্রিজ থানায় মামলাটি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, এনসিপি নেতা এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী ও শাহীন আলম। তাদের মধ্যে জাকির চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। এ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

আজ শনিবার (২০ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স।

এতে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ ও পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের সমর্থকরা হাসনাত আবদুল্লাহ এবং তার সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার ও হয়রানির পর এবার নতুন নাটক শুরু করেছে। তারা হাসনাত আবদুল্লাহ, এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী, শাহীন আলমসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ‘বেধড়ক পেটানোর’ অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্য পুলিশের মূল্যবান সময় নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তা এবং যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত সংস্থা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে পতিত আওয়ামী লীগ আগেও ব্যর্থ হয়েছে, এবারও হবে। অক্সফোর্ড ইউনিয়নে হাসনাত আব্দুল্লাহর ঐতিহাসিক বক্তব্য, যুক্তরাজ্য জুড়ে প্রবাসীদের সঙ্গে তার সফল মতবিনিময় এবং সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে তারা বারবার চেষ্টা করলেও প্রতিবারই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর