img

৭ দাবিতে মহাখালী-তেজগাঁও সড়কে গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবরোধ

প্রকাশিত :  ০৭:৪৪, ১৬ জুন ২০২৬

৭ দাবিতে মহাখালী-তেজগাঁও সড়কে গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবরোধ

বকেয়া বেতন, অর্জিত ছুটির ভাতা পরিশোধসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানীর মহাখালী-তেজগাঁও সংযোগ সড়ক অবরোধ করেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।  আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাধারণ যাত্রী ও কর্মস্থলগামী মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই শত শত গার্মেন্টস শ্রমিক মহাখালী ও তেজগাঁও সংযোগ সড়কের ওপর বসে পড়েন। শ্রমিকদের এই আকস্মিক অবরোধের কারণে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

বিক্ষোভরত গার্মেন্টস শ্রমিকরা তাদের পাওনা আদায়ে ৭টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো—

১. চলতি বছরের গত মে মাসের বকেয়া বেতন অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।

২. ২০২৫ সালের অর্জিত ছুটির টাকা প্রদান করতে হবে।

৩. ডিসেম্বর-২০২৫ এর বকেয়া এরিয়া বিলের টাকা বুঝিয়ে দিতে হবে।

৪. নোটিশ পে-বিল পরিশোধ করতে হবে।

৫. প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী পরবর্তী ৪ মাস তথা ১২০ দিনের বেতন-ভাতা অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে।

৬. শ্রম আইন অনুসরণ করে সব শ্রমিক-কর্মচারীর সার্ভিস বেনিফিট ১০০ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে।

৭. শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হয়রানি (যেমন: পুলিশি মামলা, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার) করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।  

তেজগাঁও থানার ওসি মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, সকাল ১০টার পরপরই নাসা গ্রুপের শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে তেজগাঁও-মহাখালী সড়কের লাভ রোড সংলগ্ন পয়েন্টে নামেন। তাদের অবরোধের কারণে সড়কের দুইপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তারা সড়কেই অবস্থান করছিলেন। 


জাতীয় এর আরও খবর

img

ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন, শুক্রবারের মধ্যে খুলছে হরমুজ প্রণালি: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৭:৫৭, ১৫ জুন ২০২৬

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান দীর্ঘদিনের তীব্র উত্তেজনা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার পর এক নাটকীয় মোড় দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি ‘সম্পূর্ণভাবে স্বাক্ষরিত’ হয়েছে। তবে এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করা হয়েছে কি না, কিংবা চুক্তির মূল শর্তগুলো আসলে কী, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কোনো তথ্য বা ব্যাখ্যা দেননি।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে ট্রাম্প এই বড় ঘোষণা দেন। বিশ্ব রাজনীতির অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, চুক্তিটি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

এ সময় ট্রাম্প আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে আশ্বস্ত করে একটি বড় প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী শুক্রবারের (১৯ জুন) মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত করা হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও সংক্ষিপ্ত ঘোষণা বৈশ্বিক রাজনীতি এবং জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কারণ বিশ্ব খনিজ তেলের একটি বিশাল অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। তবে ট্রাম্পের এই একক দাবির পর ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা চুক্তির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে এই চুক্তির স্থায়িত্ব এবং এর পেছনের প্রকৃত শর্তাবলি জানতে বিশ্বনেতারা এখন তেহরানের বিবৃতির দিকে তাকিয়ে আছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা


জাতীয় এর আরও খবর