img

দিল্লির বিমানবন্দর থেকে ফেরত আসছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশিত :  ০৬:১০, ১৫ জুন ২০২৬

দিল্লির বিমানবন্দর থেকে ফেরত আসছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ভারতের নয়াদিল্লির বিমানবন্দর থেকে ফেরত এসেছেন। আগাম অবহিত করার পরও দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে ফিরে আসছেন তিনি।

গতকাল রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ডা. জাহেদ। সোমবার (১৫ জুন) থেকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার।

জানা গেছে, ওই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে উপদেষ্টার অংশগ্রহণের বিষয়ে গত শুক্রবার দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল।

কিন্তু সন্ধ্যায় দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে রহস্যজনক কারণে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। তাকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়টি স্পষ্ট করেনি।

এমন পরিস্থিতিকে আত্মসম্মানে আঘাত হিসেবে দেখে পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে দেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন জাহেদ উর রহমান। তবে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে বারবার ভারতে প্রবেশের অনুরোধ জানালেও তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। 

রাতেই তিনি তৃতীয় একটি দেশ হয়ে দেশে ফিরে আসার ফ্লাইট ধরেন। সব ঠিক থাকলে সোমবার দুপুরের আগেই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

 


জাতীয় এর আরও খবর

img

সীমান্তে শূন্যরেখায় আটকে থাকা ১২ জনের আকুতি ‘আমাদের বাঁচান’

প্রকাশিত :  ০৬:২০, ১৫ জুন ২০২৬

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কথিত পুশইনের শিকার ১২ জন বাংলা ভাষাভাষী নারী, পুরুষ ও শিশু গত শুক্রবার ভোর থেকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন। খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার অভাবের পাশাপাশি তীব্র গরম, রোদ ও বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় তাদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নীল রঙের একটি পলিথিনের ওপর গাদাগাদি করে বসে আছেন কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশু। দুটি শিশু ঘুমিয়ে আছে, একটি শিশুকে কোলে নিয়ে বসে আছেন এক নারী, আরেকটি শিশুকে অসুস্থ দেখাচ্ছিল। স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশুটি জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।

ভিডিওতে এক ব্যক্তি ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে শিশুদের নিয়ে আমরা টিকতে পারছি না। আপনারা আমাদের জন্য একটা ব্যবস্থা করুন। না হলে আমাদের বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিন। আমরা আর সহ্য করতে পারছি না। শিশুদের নিয়ে আমরা খুবই অসহায় অবস্থায় আছি।’

তিনি আরও দাবি করেন, তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আপনারা যাচাই করে দেখুন, আমরা এ দেশের নাগরিক নাকি রোহিঙ্গা। তদন্ত করে বিষয়টি নিশ্চিত করুন।’

ওই ১২ জন নিজেদের চাপাইনবাগঞ্জ , সাতক্ষীরা এবং ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ভোরে প্রাগপুর বর্ডার এলাকায় ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলারের পাশ দিয়ে বিএসএফ ওই ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা বিষয়টি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) জানায়। পরে বিজিবি ও স্থানীয়দের তৎপরতায় তাদের আবার সীমান্তের শূন্যরেখায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর থেকে সীমান্তঘেঁষা মাথাভাঙ্গা নদীর তীরসংলগ্ন একটি পাটখেতের পাশে তপ্ত রোদ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দারা মাঝেমধ্যে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো পার হয়ে তাদের খাবার ও পানি পৌঁছে দিচ্ছেন। রোববার পর্যন্ত টানা তৃতীয় দিনের মতো তারা সেখানে অবস্থান করছেন।

এদিকে, শুক্রবারের পুশইন ও পুশব্যাকের ঘটনায় শনিবার সকালে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে বিজিবি-৪৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, বিএসএফ ওই ১২ জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। আপাতত বিষয়টি অমীমাংসিত রয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর