img

‘টিআইবির প্রতিবেদনকে পত্রিকার কাটিং–নির্ভর বলার ভিত্তি নেই'

প্রকাশিত :  ১৮:৩১, ০৯ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৩৫, ০৯ জুন ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংসদ ও পুলিশের প্রতিক্রিয়ায় টিআইবির ব্যাখ্যা

‘টিআইবির প্রতিবেদনকে পত্রিকার কাটিং–নির্ভর বলার ভিত্তি নেই'

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের প্রথম ১০০ দিন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে আলোচনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়ার জবাব দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটি বলেছে, তাদের গবেষণা কোনোভাবেই শুধু পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়নি; বরং স্বীকৃত সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিভিন্ন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন : সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে আলোচনা হয়েছে, তা সংস্থাটিকে অনুপ্রাণিত করেছে।

টিআইবির মতে, এ ধরনের প্রতিক্রিয়া তাদের গবেষণা ও জনস্বার্থভিত্তিক কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ করতে সহায়তা করবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যথার্থই উল্লেখ করেছেন, টিআইবি কোনো তদন্ত সংস্থা নয়। সংস্থাটি মূলত গবেষণাভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী ও সুশাসনসংক্রান্ত কাজ করে থাকে। সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গুণগত ও পরিমাণগত পদ্ধতি অনুসরণ করে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্যের উৎস প্রসঙ্গে টিআইবি জানায়, বাংলাদেশ পুলিশ এবং ৩টি সুপরিচিত মানবাধিকার সংগঠন থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব তথ্যসূত্র প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে প্রতিবেদনটি কেবল পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ কাটিংয়ের ওপর নির্ভরশীল এমন মন্তব্যের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই বলে দাবি সংস্থাটির।

টিআইবি আরও বলেছে, গবেষণার প্রয়োজনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সংগ্রহ করা হলেও তা সরাসরি ব্যবহার করা হয় না। সংশ্লিষ্ট সরকারি, বেসরকারি এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে সেগুলো বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাই প্রতিবেদনকে ঢালাওভাবে ‘পত্রিকার কাটিংনির্ভর’ বলে আখ্যা দেওয়া মূল বিষয়কে এড়িয়ে যাওয়ার একটি অযৌক্তিক প্রচেষ্টা।

বিবৃতিতে প্রশ্ন তুলে বলা হয়, দেশের জনপ্রতিনিধি, সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নিজেদের কার্যক্রম প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সে বিবেচনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে সামগ্রিকভাবে অবমূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই।

পুলিশের প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে টিআইবি বলেছে, পুলিশ কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনে তাদের মূল পর্যবেক্ষণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক-এসব বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেনি। তবে অতীত সরকারের মেয়াদের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণের যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে, তা উক্ত গবেষণার পরিধির বাইরে। ফলে সে বিষয়ে মন্তব্য করা টিআইবির জন্য যৌক্তিক নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।


জাতীয় এর আরও খবর

img

‘গরিবের হোটেল’ মাহিমা রেস্টুরেন্টে প্রতি শুক্রবারে ৩শ অসহায় মানুষ পাচ্ছেন বিনামূল্যে খাবার

প্রকাশিত :  ০৯:৫৮, ২৭ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:২৮, ২৭ জুলাই ২০২৬

মাহিমা রেস্টুরেন্টে। কেউ ডাকেন গরিবের হোটেল। সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরস্থ উপজেলার ব্যারিস্টার মির্জা আব্দুল মতিন মার্কেটে অবস্থিত হোটেলটিতে প্রতি শুক্রবার গড়ে ৩শ অসহায়, গরিব, মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে খাবার খাওয়ান হোটেল মালিক। সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী মেহমানখানা পরিচালনা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. মকবুল হোসেন ভূঁইয়া।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জগন্নাথপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইকড়ছই গ্রামের বাসিন্দা মৃত জালাল আহমদের ছেলে মো. মকবুল হোসেন ভূঁইয়া। ২০১৭ সালের একটি দৃশ্য তার জীবনভাবনা বদলে দেয়। একটি রেস্টুরেন্ট থেকে একজন অসহায় ব্যক্তিকে খাবার না দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা দেখে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত হন। তখনই মনে মনে সিদ্ধান্ত নেন, নিজের সামর্থ্য হলে ক্ষুধার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।

শুরুতে প্রতি শুক্রবার মাত্র ৫০ জন মানুষকে খাওয়ানোর লক্ষ্য থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। শুধু শুক্রবারই নয়, সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোতেও ৫ থেকে ১০ জন অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে খাবার পরিবেশন করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে রেস্টুরেন্টের কর্মীদের।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সরজমিনে মাহিমা রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই হোটেলের বাবুর্চি ও কর্মচারীদের ব্যস্ততা। জুমার নামাজ শেষ হতেই রেস্টুরেন্টে আসতে শুরু করেন রিকশাচালক, ভিক্ষুক, দিনমজুর এবং স্থানীয় মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীরা। কর্মচারীরা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও আনন্দের সাথে সবার টেবিলে খাবার পৌঁছে দেন।

খাবার খেতে আসা রিকশাচালক কামরুল ইসলাম ও সেলিম হোসেন জানান, অন্য যেকোনো রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেতে অন্তত ১০০ থেকে ২০০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু এখানে প্রতি শুক্রবারে কোনো টাকা ছাড়াই তারা মানসম্মত খাবার খেতে পারেন। মাদরাসার কয়েকজন এতিম শিক্ষার্থী জানায়, শুক্রবার এলেই তারা এই রেস্টুরেন্টে ভালো খাবারের আশায় আসে। কোনো সপ্তাহে গরুর মাংস, কোনো সপ্তাহে মুরগির মাংস কিংবা মাছ-ডাল দিয়ে তাদের আপ্যায়ন করা হয়।

এ উদ্যোগের নেপথ্য কারণ জানতে চাইলে মাহিমা রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. মকবুল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আমি লোকদেখানোর জন্য কিছু করি না। আমার নবী-রাসূলের নামে আমি যেন আল্লাহর সন্তুষ্টি পাই তাই গরিব, অসহায়, ফকিরদের জন্য এই খাবারের ব্যবস্থা করা। এই কাজে আমি কারো সহযোগিতা নিই না। আল্লাহ আমাকে যতদিন তৌফিক দেন আমি ততদিন এভাবেই মানুষকে খাবার দিয়ে যাবে। আমার হোটেলে যদি ৫শ মানুষও আসে আমি তাদের খাওয়াব ইনশাআল্লাহ। হোটেলে যারা খেতে আসছেন তাদের কেউ রিকশাচালক, কেউ ভিক্ষুক কেউবা আবার দিনমজুর। এছাড়াও আশপাশের মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকেও আসছে। একটু ভালো খাবার খাওয়ার আশায় প্রতি শুক্রবার তাদের ছুটে আসা।

রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি শরিফ আহমেদ, কর্মচারী সুজন ও বিশু জানান, নিজেরা আর্থিক সাহায্য করতে না পারলেও এই মহৎ কাজে বাড়তি শারীরিক পরিশ্রম ও সেবা দিতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি তাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মকবুল হোসেন ভূঁইয়ার এই মানবিক উদ্যোগটি পুরো উপজেলায় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সমাজে অনেক বিত্তবান মানুষ থাকা সত্ত্বেও অনেকে এমন উদ্যোগে এগিয়ে আসেন না। তাঁর এই কাজ দেখে সমাজের অন্যান্য সামর্থ্যবান ও বিত্তবান ব্যক্তিরাও অসহায় মানুষের সেবায় এগিয়ে আসবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।

জাতীয় এর আরও খবর