img

মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে ছাতার মধ্যে ছিল বোমা, খুললেই ঘটতো বিস্ফোরণ

প্রকাশিত :  ১৮:৫৪, ২৪ জুলাই ২০২৬

মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে ছাতার মধ্যে ছিল বোমা, খুললেই ঘটতো বিস্ফোরণ

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের সড়ক থেকে একটি ছাতার ভেতরে রাখা সন্দেহজনক বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খবর পেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।

এই আকস্মিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে সাময়িকভাবে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় সময়মতো বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে শাপলা চত্বরের কাছে মেট্রো স্টেশনের নিচের অংশে পথচারীরা সন্দেহজনক ছাতাটি দেখতে পান। প্রথমে স্থানীয়ভাবে খবর ছড়ায় যে দুষ্কৃতকারীরা সড়ক লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেছে। তবে পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে স্পষ্ট করেন যে এটি সাধারণ কোনো পেট্রোল বোমা ছিল না।

পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া বস্তুটি মূলত ছাতার ভেতরে কৌশলে সেট করা একটি পাইপ বোমা ছিল। কেউ ছাতাটি খোলার চেষ্টা করলেই সরাসরি বিস্ফোরণ ঘটার মতো ভয়াবহ পরিকল্পনা নিয়ে এটি সেখানে রাখা হয়েছিল। ডিএমপির বিশেষায়িত দল অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পাইপ বোমাটি নিষ্ক্রিয় করায় সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার পেছনের অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করেছে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন

প্রকাশিত :  ১৫:০১, ২৪ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৫৯, ২৪ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

এর আগে, শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে পদত্যাগপত্র জমা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। 

পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন লিখেন, আমি মোঃ সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।

নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোন সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।

আমি গুরুতর অসুস্থ উল্লেখ করে সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি বলেন, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরিক্ষায় অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। 

এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই জানিয়ে তিনি বলেন, রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।

জাতীয় এর আরও খবর