img

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ, যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৪:০৮, ২৩ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ, যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মধ্যে ফোনালাপের কোনো তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পায়নি। যদি সেটা সত্যি হয়ে থাকে অবশ্যই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্ত করবে, সরকারও সেটা তদন্ত করবে।

মার্কিন দূতের ঢাকা সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের বহুপাক্ষিক সম্পর্ক আছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। সেগুলো আরও সুগম হবে এবং আমরা আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আমাদের ডিপ্লোমেসি, ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি সব কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, নিয়ে যাওয়া হবে, সেটাই আলোচনা হবে বলে আমার আমি মনে করি।

ভারতে ছাত্র আন্দোলন চলছে। দেশটিতে অনেক বাংলাদেশি রয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ আছে কি না? 

জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে আমাদের এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় থাকুক সেটাই আমরা চাই। একটি গণতান্ত্রিক সরকার ও রাষ্ট্র হিসেবে আমরা আশা করব, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে; তারা তাদের জনগণের অবস্থান দেখবে এবং সমস্যা সমাধানের দিকে দ্রুত আগাবে।

বাংলাদেশি পাসপোর্টের মানের কোনো অবনমন হয়নি বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জানান, ভিসা সমস্যার সঙ্গে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়া সম্পর্কিত।

সাংবাদিকদের শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশি পাসপোর্টের মানের কোনো অবনমন হয়নি। আমরা সাড়ে ৪ মাস হয়েছে সরকার গঠন করেছি। এর আগের থেকেই ভিসার সমস্যাগুলো বিশেষ করে আমাদের যারা বাংলাদেশি ভাইয়েরা যেসব যেসব দেশগুলোতে তারা কর্মরত আছে, সেসব দেশে যেমন- আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া; এসব দেশগুলোতে ভিসা বন্ধ আছে।’

ভিসা বন্ধ থাকার বিভিন্ন কারণ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এগুলো নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জরুরি ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গত দুই তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা একাধিকবার মিটিং করেছি।’

ভিসা সংক্রান্ত ব্যাপারগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। 


জাতীয় এর আরও খবর

img

মোদির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, এবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক

প্রকাশিত :  ১৭:৪৭, ২৩ জুলাই ২০২৬

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকরা প্রায় এক মাস ধরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। এরপরও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পূরণ না হওয়ায় এবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের এই কর্মসূচিতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ বৃহস্পতিবার সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা দেশজুড়ে কর্মসূচির ডাক দিয়ে বলেন, দিল্লির বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে হবে। চলুন এই বিক্ষোভকে জাতীয় স্তরে নিয়ে যাই। অনুগ্রহ করে ২৪ জুলাই (শুক্রবার) সারা দেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করুন। 

এদিকে আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দাবিও বৃহৎ পরিসরে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে অভিজিত বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি উপেক্ষা করা হলে বিক্ষোভ আরও বাড়বে। সরকার ব্যবস্থা না নিলে এই আন্দোলন শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

অভিজিত বলেন, ‘মোদিজিকে আবারও অনুরোধ করছি, আপনি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করুন। না হলে বিষয়টা আপনার পদত্যাগের দাবি পর্যন্ত গড়াবে।’ 

শিক্ষামন্ত্রীকে অযোগ্য ও ব্যর্থ উল্লেখ করে অভিজিত বলেন, একজন মন্ত্রীকে বাঁচানোর চেয়ে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর স্বার্থ আগে দেখা উচিত। ছাত্রছাত্রীর চেয়ে একজন অযোগ্য মন্ত্রী বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন না। যদি ব্যর্থ ও অযোগ্য মন্ত্রীকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে মনে রাখবেন, ভারতের নির্বাচনে কেউ আপনাদের ভোট দেবে না।

পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেছেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আরেক দফায় আলোচনা করতে প্রস্তুত। বৈঠকের স্থান হিসেবে তিনি নিজের অফিস কিংবা বাসভবনের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে সিজেপির পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, পরবর্তী দফার আলোচনা হয় বিক্ষোভস্থলে, নয়তো কোনো নিরপেক্ষ জায়গায় করতে হবে। 

পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দিল্লির সংসদ মার্গ-টলস্টয় লেন এলাকায় বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখেছেন হিন্দুস্থান টাইমসের সাংবাদিকরা। সেখানে বিক্ষোভকারী ও পুলিশ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। উভয়ের মাঝে কেবল দড়ির ব্যারিকেড ছিল। এক পর্যায়ে পুলিশের দিকে বোতল ছোড়া হলে উত্তেজনা বাড়ে।

আন্দোলন দমাতে দিল্লির মধ্যাঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সময়সীমাও বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে মধ্যরাত পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে নিজের বাসভবনে বৈঠকের ডাক দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাত দিয়ে হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, বৈঠকে অন্য বিরোধী দলগুলোর নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা। তবে এর আগেই রাহুলের বাসভবনের সামনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

সম্ভাব্য বাজে পরিস্থিতি এড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লেখার কথা জানিয়েছেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর যাতে বলপ্রয়োগ না করা হয়, সেজন্য তিনি মোদিকে চিঠি লিখেছেন।

আন্না হাজারে বলেন, সহিংসতা দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। সহিংসতা কাজ আরও বাড়িয়ে দেবে।


জাতীয় এর আরও খবর