২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশিত :
০৯:২০, ২৩ জুলাই ২০২৬
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘ফিকি এফডিআই কনফারেন্স-২০২৬: ড্রাইভিং ফরেন ইনভেস্টমেন্ট ফর জবস অ্যান্ড প্রসপারিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও ইনভেস্টরস এক্সপোতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে যেমন নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিপুল সম্ভাবনাও। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নিরাপদ ও টেকসই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার সরলীকরণ, বিনিয়োগ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পমেয়াদি নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বিদেশি বিনিয়োগ চায়।
তারেক রহমান বলেন, দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ভ্যাট ও কর ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মোদির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, এবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক
প্রকাশিত :
১৭:৪৭, ২৩ জুলাই ২০২৬
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকরা প্রায় এক মাস ধরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। এরপরও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পূরণ না হওয়ায় এবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের এই কর্মসূচিতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ বৃহস্পতিবার সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা দেশজুড়ে কর্মসূচির ডাক দিয়ে বলেন, দিল্লির বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে হবে। চলুন এই বিক্ষোভকে জাতীয় স্তরে নিয়ে যাই। অনুগ্রহ করে ২৪ জুলাই (শুক্রবার) সারা দেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করুন।
এদিকে আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দাবিও বৃহৎ পরিসরে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে অভিজিত বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি উপেক্ষা করা হলে বিক্ষোভ আরও বাড়বে। সরকার ব্যবস্থা না নিলে এই আন্দোলন শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
অভিজিত বলেন, ‘মোদিজিকে আবারও অনুরোধ করছি, আপনি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করুন। না হলে বিষয়টা আপনার পদত্যাগের দাবি পর্যন্ত গড়াবে।’
শিক্ষামন্ত্রীকে অযোগ্য ও ব্যর্থ উল্লেখ করে অভিজিত বলেন, একজন মন্ত্রীকে বাঁচানোর চেয়ে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর স্বার্থ আগে দেখা উচিত। ছাত্রছাত্রীর চেয়ে একজন অযোগ্য মন্ত্রী বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন না। যদি ব্যর্থ ও অযোগ্য মন্ত্রীকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে মনে রাখবেন, ভারতের নির্বাচনে কেউ আপনাদের ভোট দেবে না।
পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেছেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আরেক দফায় আলোচনা করতে প্রস্তুত। বৈঠকের স্থান হিসেবে তিনি নিজের অফিস কিংবা বাসভবনের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে সিজেপির পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, পরবর্তী দফার আলোচনা হয় বিক্ষোভস্থলে, নয়তো কোনো নিরপেক্ষ জায়গায় করতে হবে।
পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দিল্লির সংসদ মার্গ-টলস্টয় লেন এলাকায় বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখেছেন হিন্দুস্থান টাইমসের সাংবাদিকরা। সেখানে বিক্ষোভকারী ও পুলিশ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। উভয়ের মাঝে কেবল দড়ির ব্যারিকেড ছিল। এক পর্যায়ে পুলিশের দিকে বোতল ছোড়া হলে উত্তেজনা বাড়ে।
আন্দোলন দমাতে দিল্লির মধ্যাঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সময়সীমাও বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে মধ্যরাত পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে নিজের বাসভবনে বৈঠকের ডাক দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাত দিয়ে হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, বৈঠকে অন্য বিরোধী দলগুলোর নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা। তবে এর আগেই রাহুলের বাসভবনের সামনে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
সম্ভাব্য বাজে পরিস্থিতি এড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লেখার কথা জানিয়েছেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর যাতে বলপ্রয়োগ না করা হয়, সেজন্য তিনি মোদিকে চিঠি লিখেছেন।
আন্না হাজারে বলেন, সহিংসতা দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। সহিংসতা কাজ আরও বাড়িয়ে দেবে।