img

পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন করলেন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১১:৩২, ২০ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫০, ২০ জুলাই ২০২৬

পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন করলেন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, ২০ জুলাই ২০২৬: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ পিলখানাস্থ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তর পরিদর্শন করেছেন। 

আজ সকাল ১১টায় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরে পৌঁছালে বিজিবির একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক এবং চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে পিলখানাস্থ শহীদ শাকিল আহমেদ হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। সভায় বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেসিও, অন্যান্য পদবির সদস্য এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সারাদেশে বিজিবির বিভিন্ন রিজিয়ন, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও সীমান্ত ফাঁড়িতে (বিওপি) কর্মরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্স (ভিটিসি)-এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

মতবিনিময়কালে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদস্যদের দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান এবং মানবপাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে বাহিনীর শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থেকে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার, সীমান্তবর্তী জনগণের আস্থা অর্জন, দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে মানবিক ভূমিকা পালন এবং সর্বক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিজিবি সদস্যরা ভবিষ্যতেও শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে যাবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মতবিনিময় সভা শেষে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। 

অত:পর মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিলখানাস্থ বিজিবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিশেষ করে সীমান্ত গৌরব, ২০০৯ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এবং দীপ্ত সীমান্ত বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন এবং সীমান্ত কুঞ্জ এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণ করেন।

পরিদর্শন শেষে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম তিনি বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শনে এসে বাহিনীর অপারেশনাল, প্রশাসনিক, প্রশিক্ষণ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেছেন। 

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাহিনীর সাংগঠনিক সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সীমান্তে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ডগ স্কোয়াডের ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিজিবির ডগ স্কোয়াডের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক যানবাহন, অস্ত্র, সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের পাশাপাশি প্রশাসনিক অবকাঠামো, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও তিনি জানান।

মাননীয় মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বিজিবি মানবিক দায়িত্ব পালনের যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিজিবির কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও সম্প্রসারিত করা হবে।

মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে মাননীয় মন্ত্রী বলেন, সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাত, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এবং মাদক চোরাচালানের ঝুঁকি বিবেচনায় ১০৯ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করছে। পাশাপাশি ল্যান্ডমাইন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় মাইন ডিটেকশন যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে বিজিবিকে সরবরাহ করা হয়েছে।

পুশ-ইন প্রসঙ্গে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইন করতে দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও সীমান্তবর্তী জনগণের সহযোগিতায় সব ধরনের পুশ-ইনের অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হন, তবে প্রচলিত দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশের মাধ্যমে তালিকা পাঠানোর পর জাতীয়তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বাইরে কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবির সাহসিকতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিজিবিতে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পদক প্রদান করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে পুশ-ইন প্রতিরোধে অসাধারণ ভূমিকা রাখা সদস্যদের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য পদকের পাশাপাশি অতিরিক্ত সম্মাননা বা প্রণোদনার বিষয়টি বিজিবির মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে বিবেচনা করা হবে। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি



জাতীয় এর আরও খবর

img

সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৬:৫৩, ২০ জুলাই ২০২৬

সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়ে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, যেভাবেই হোক গ্রামের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে হবে। তাদের জন্য সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা ও পর্যাপ্ত ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে।

আজ সোমবার (২০ জুলাই) বিকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এটিই প্রথমবার কোনো প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অডিটোরিয়ামে গিয়ে বৈঠক করলেন।

প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত ও সহজ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতালে গিয়ে যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সবাই সহজে চিকিৎসা পান এবং চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও যেতে না হয়। একইসঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের আরও আন্তরিক হতে হবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে আরও কয়েকটি বিষয়ে নির্দেশনা দেন। বৈঠকের শুরুতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাসে স্বাস্থ্য খাতের অর্জন সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান।

জবাবে তারা জানান, আগের সরকারগুলো স্বাস্থ্যখাতকে একেবারে খাদের কিনারে নিয়ে গিয়েছিল। এতে প্রান্তিক মানুষের জন্য যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ও আলোচনা হয়। সেখানে বলা হয়, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক থাকলেও রোগীরা সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা পান না এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

কিডনি রোগীদের চিকিৎসার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জেলা পর্যায়ে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের কথা জানান। বর্তমানে যেখানে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে, সেগুলো ৫০ শয্যায় সম্প্রসারণ করা হবে।

পাশাপাশি আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন তিনি।

বৈঠকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো স্থাপনের বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা। এ সময় তারা অবকাঠামোর নকশাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালক ও শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


জাতীয় এর আরও খবর