আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই, কখনও সংস্কারের কথা বলিনি
প্রকাশিত :
০৭:১০, ১৭ জুলাই ২০২৬
বিএনপি সংবিধান সংশোধন করতে চায় বলে জানিয়েছে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি দাবি করেন, বিএনপি কখনও সংবিধান সংস্কারের কথা বলেনি।
আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভায় এই কথা জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, \'আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব। প্রত্যেকটি অক্ষর আমরা পালন করব। এটা হচ্ছে আমাদের কমিটমেন্ট
সংবিধান সংস্কার বা সংশোধন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, \'আমরা বরাবরই বলে এসছি, আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই। আমরা সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি।\'
তিনি বলেন, \'আমরা চাই না জুলাই শুধু ক্ষমতার যাওয়ার জন্য আরেকটা হাতিয়ারি পরিণত হোক। জুলাইয়ের আন্দোলন শুধু ওই জুলাই মাসেরই আন্দোলন নয়।
জুলাইয়ের আন্দোলন দীর্ঘকাল ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে লড়াই হয়েছে সেই লড়াইয়ের ফলশ্রুতি।\'
বিরোধীদলের অনেকে বিভিন্ন রকম মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে: জয়সোয়াল
প্রকাশিত :
১৭:২১, ১৭ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ ভারতের সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের আবেদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আমরা জানতে পেরেছি, শেখ হাসিনা ও অন্য অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ আবারও ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে। তা ছাড়া শেখ হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে কি না?
জবাবে জয়সোয়াল বলেন, ‘আমরা প্রত্যর্পণের জন্য একটি অনুরোধ পেয়েছি। যেমনটি আমরা আগে বলেছিলাম, অনুরোধটি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইনগত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে অনুরোধটি বিবেচনা করা হবে।’
আরেক সাংবাদিক বাংলাদেশের করা আরেকটি প্রত্যর্পণের অনুরোধ নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তারা এক ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সব কাগজপত্র পাঠিয়েছেন। ওই ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়ে ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে আছে। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রাক্কালে একজন রাজনীতিবিদকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আপনাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে সেটার বর্তমান অবস্থা কী?
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। প্রত্যাবর্তনের যেকোনো অনুরোধ আইনগত বিষয় ও বিচারপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে।
গণ–অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তার পর থেকে সেখানে অবস্থান করছেন তিনি। জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান।
এ বিষয়ে গত ১৪ জুলাই রণধীর জয়সোয়ালের কাছে সাংবাদিকরা প্রশ্ন রাখেন-শেখ হাসিনার নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের আলোচনা হয়েছে কি না। এর জবাবে সেদিন তিনি বলেন, ‘যেকোনো প্রত্যর্পণই আইনি বিষয়। আইনি প্রক্রিয়াতেই এর নিষ্পত্তি হবে।’
শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের মনোভাবের কোনো বদল ঘটেনি বলেও উল্লেখ করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।