শেখ হাসিনা পরিবার ও ১০ শিল্প গ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ: বিএফআইইউ প্রধান
প্রকাশিত :
০৭:৫৩, ১৫ জুলাই ২০২৬
পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ১০ শিল্প গ্রুপের দেশে-বিদেশে থাকা ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউর বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
বিএফআইইউ প্রধান বলেন, যৌথ তদন্তের আওতায় থাকা এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেশের মধ্যে থাকা ৫৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকার বিদেশি সম্পদ জব্দ হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে যে সম্পদ চুরি হয়ে গেছে তা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ বছরের শেষে সম্পদ উদ্ধারের বিষয়ে সুখবর দেওয়া যাবে।’
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা দলমতের দিকে তাকাই না। সন্দেহজনক হলেই ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কেউ করে থাকলে সেটাও সামনে আসবে।’
অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে শেখ হাসিনা পরিবার ও ১০ শিল্প গ্রুপের অবৈধ সম্পদ অর্জন, কর ফাঁকি ও অর্থপাচার খতিয়ে দেখতে যৌথ তদন্ত দল কাজ শুরু করে। গ্রুপগুলো হলো- এস আলম, বেক্সিমকো, নাবিল, সামিট, ওরিয়ন, নাসা, বসুন্ধরা, ডা. ইকবালের প্রিমিয়ার, সিকদার ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের আরামিট গ্রুপ।
তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে এরই মধ্যে সম্পদ জব্দ ছাড়াও মামলা, বিদেশ থেকে সম্পদ ফেরত আনতে আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ চলছে।
শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধার সঠিক তালিকা প্রণয়নে রাজনীতিকরণ হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশিত :
১৫:৩৭, ১৫ জুলাই ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১৫:৪৫, ১৫ জুলাই ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার পর প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব যাদের ওপর ছিল, তারা সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছেন।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে যখন দেশ স্বাধীন হলো এ সময় যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এ দায়িত্ব যাদের ছিল তারা সেটিকে সঠিকভাবে না করে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছে, নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে এ তালিকা করেনি।’
এরই মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এ তালিকা প্রণয়নে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন করে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে আমরা চেষ্টা করব সঠিক যারা মুক্তিযোদ্ধা, সঠিক যারা শহীদ তাদেরকে চিহ্নিত করার জন্য।’
বুধবার (১৫ জুলাই) পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
একাত্তরের শহীদ পরিবারের ও গণহত্যার সঠিক তালিকা প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা রুহুল আমীন দুলালের এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তার দলের নির্বাচনি অঙ্গীকার মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যাগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয় গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ।’
তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার ও সকল শহীদের একটি নির্ভুল ও গ্রহনযোগ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে।’
দলীয়করণমুক্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার বিষয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে আপনাকে একটু আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গঠিত দল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং শুধু তাই নয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দ্বারা গঠিত এই দল। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনে প্রাণে বিশ্বাস করে যে, মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের পবিত্র একটি দায়িত্ব রয়েছে। সে কারণেই আমি বলেছিলাম, দেশ স্বাধীনের পরে তাদের দায়িত্ব ছিলো সঠিকভাবে শহীদদের ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা, তারা সেটিকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছে, তারা সেটা নিরপেক্ষভাবে সঠিকভাবে করেনি।’
তিনি বলেন, ‘পরবর্তিতে বিভিন্ন সময়ে এই লিস্ট তৈরিতে বিভিন্ন রকম সমস্যা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সরকার চেষ্টা করছে যাতে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদেরকে নিয়ে একটির পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরি করতে পারি।’
এর আগে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকাল তিনটায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথম ত্রিশ মিনিট ছিলো প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নোত্তর পর্ব।
প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিলো ৭টি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন। এরমধ্যে তিনি নির্ধারিত ত্রিশ মিনিটে তিনটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ও এই সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।