img

বরিশাল পৌঁছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৬:১৪, ১৩ জুলাই ২০২৬

বরিশাল পৌঁছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
একদিনের সফরে বরিশাল পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি সফরে বরিশালে পৌঁছে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নতুন খনন করা সরিকল খালের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি।

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবন থেকে সড়কপথে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে পৌঁছান তিনি। বরিশালে এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম সফর।

সফরসূচি অনুযায়ী সকালে সড়কপথে বরিশালে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে একযোগে প্রায় দুই হাজার গাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন, যা শেষ মুহূর্তে সফরসূচিতে যুক্ত হয়েছে।

এরপর প্রধানমন্ত্রী বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন এলাকার বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে দ্বিতীয় দফায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সেখানে জিআই স্বীকৃত বরিশালের আমড়া গাছ ও নারিকেল গাছের চারা নিজ হাতে রোপণ করবেন। পাশাপাশি খালপাড়জুড়ে শতাধিক দেশীয় ফলজ, বনজ ও ফুলের গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

বিকেলে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক নেতারা, স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, বরিশাল সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ দলীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে দলীয়ভাবে কোনো তোরণ, ব্যানার বা ফেস্টুন ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনা মেনেই আয়োজন করা হয়েছে ব্যতিক্রমী এক কর্মসূচি। গৌরনদী থেকে বরিশাল নগর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে মানবপ্রাচীর তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাবেন বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমানের এটি প্রথম বরিশাল সফর। তাই নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে। তবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়-এমন কোনো আয়োজন করা হয়নি। সড়কের দুই পাশে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হবে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা, যান চলাচল, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সার্বিক সমন্বয়ে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর কাজ করছে। শিল্পকলা একাডেমিতে রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন বিএনপির পক্ষ থেকে করা হলেও প্রশাসন প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বরিশাল সফরকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই সফরের মাধ্যমে বরিশালের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নতুন দিকনির্দেশনা আসবে।

কর্মসূচি শেষ করে আজ সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

জাতীয় এর আরও খবর

img

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ সংসদীয় কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

প্রকাশিত :  ১৯:০৪, ১৩ জুলাই ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে জাতীয় সংসদ। সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে সংসদ অধিবেশনে এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। তবে এই উদ্যোগকে জনগণের রায়ের পরিপন্থী এবং ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবিকে পাশ কাটানোর চেষ্টা আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধী দল। এর প্রতিবাদে অধিবেশনকক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।

সংসদ নেতা তারেক রহমানের পক্ষে সোমবার চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম সংসদে এই বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। মূলত কমিটি ১৭ সদস্যের হওয়ার কথা ছিল। তবে বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি পদে তারা কোনো সদস্যের নাম জমা না দেওয়ায় আপাতত পদগুলো শূন্য রেখেই ১২ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। চিফ হুইপ সংসদকে জানান, বিরোধী দলের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনার পরও তারা নাম দেয়নি। তবে ভবিষ্যতে তারা নাম দিলে নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি পুনর্গঠন করা হবে।

কমিটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করা হয়েছে। অন্য সদস্যরা হলেন—চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন, মীর হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা, মাহমুদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. অলিউল্লাহ।

চিফ হুইপ প্রস্তাবটি উত্থাপন করার পর ফ্লোর নিয়ে এর তীব্র বিরোধিতা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তারা কখনোই এই কমিটিতে নাম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেননি এবং প্রথম অধিবেশন থেকে তাদের যে অবস্থান ছিল, সেখানেই তারা অনড় রয়েছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তারা জাতির কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংসদ সদস্যের পাশাপাশি গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। শফিকুর রহমান বলেন, ‘ওইটাকে যদি বাইপাস করার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়, তাহলে আমরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা আমাদের আগের অবস্থানেই আছি।’

জনগণের অভিপ্রায়কে কোনোভাবেই অপমান বা অগ্রাহ্য করা উচিত নয় মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু জনগণের রায়কে সম্মান করা হচ্ছে না, তার প্রতিবাদে আমরা ওয়াকআউট করছি।’ এরপর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা একযোগে অধিবেশন ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গঠিত কমিশনের তৈরি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মৌলিক সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে এবং দলটি প্রচলিত প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী জোটের দাবি হলো, সাধারণ সংশোধনী নয়, বরং সনদের প্রস্তাবগুলো হুবহু বাস্তবায়নে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করতে হবে। পরবর্তীতে সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিরোধীদের দাবির পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়। কিন্তু গণভোটের রায়ের পর বিরোধী সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপি জোটের সংসদ সদস্যরা তা থেকে বিরত থাকেন। ফলে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

জাতীয় এর আরও খবর