img

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বসতির পণ্যে নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে ইইউ

প্রকাশিত :  ০৯:১৪, ১৩ জুলাই ২০২৬

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বসতির পণ্যে নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে ইইউ

ইসরায়েলের অবৈধ বসতি (সেটেলমেন্ট) এলাকায় উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ লক্ষ্যে সোমবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করছেন।

বৈঠকের শুরুতে ইইউ-এর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেছেন, পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি আসলেই অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে সদস্যরা সবাই একমত। বর্তমানে সেখানে যা ঘটছে, তা মূলত ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ কার্যকরের সম্ভাবনাকে আরও অসম্ভব করে তুলছে।

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোর ওপর ইতোমধ্যে আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও স্পেনসহ বেশ কয়েকটি দেশ নিজস্ব বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন যাতে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেয়, সে বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলো বর্তমানে চাপ দিচ্ছে। এই চাপের মুখে গত সপ্তাহে ইইউ-এর নির্বাহী বিভাগ অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত বা বন্ধ করার জন্য বেশ কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরে।

সোমবার কাজা কালাস জানান, অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করার বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে অনেক দাবি ও অনুরোধ এসেছে। বিকল্প প্রস্তাবের ওপর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে থেকে জোরালো সমর্থন পাওয়া যায় কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়।

কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, সোমবারের বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা কম। তবে এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো, নিষেধাজ্ঞার প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সমর্থন যাচাই করা।

বাণিজ্য সীমিত করতে আগ্রহী দেশগুলো আলোচনার এই ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এমনকি কিছু কূটনীতিক ইউরোপীয় কমিশনের বিরুদ্ধে বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখার বা গড়িমসি করারও অভিযোগ এনেছেন। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো বলেন, যে বিকল্পগুলো সামনে আনা হয়েছে তা কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধানের চেয়ে বরং কালক্ষেপণের উপায় বলে মনে হচ্ছে।

এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মতি প্রয়োজন, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভোটই যথেষ্ট তা নিয়ে ব্রাসেলসে মতভেদ আছে। কূটনীতিকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান দুই দেশ জার্মানি ও ইতালি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বা দ্বিধায় আছে।

ইসরায়েল ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেম বাদে এই অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি ৫ লাখের বেশি ইসরায়েলি অবৈধভাবে বসতি গড়ে বসবাস করছেন।


জাতীয় এর আরও খবর

img

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ সংসদীয় কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

প্রকাশিত :  ১৯:০৪, ১৩ জুলাই ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে জাতীয় সংসদ। সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে সংসদ অধিবেশনে এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। তবে এই উদ্যোগকে জনগণের রায়ের পরিপন্থী এবং ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবিকে পাশ কাটানোর চেষ্টা আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধী দল। এর প্রতিবাদে অধিবেশনকক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।

সংসদ নেতা তারেক রহমানের পক্ষে সোমবার চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম সংসদে এই বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। মূলত কমিটি ১৭ সদস্যের হওয়ার কথা ছিল। তবে বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি পদে তারা কোনো সদস্যের নাম জমা না দেওয়ায় আপাতত পদগুলো শূন্য রেখেই ১২ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। চিফ হুইপ সংসদকে জানান, বিরোধী দলের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনার পরও তারা নাম দেয়নি। তবে ভবিষ্যতে তারা নাম দিলে নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি পুনর্গঠন করা হবে।

কমিটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করা হয়েছে। অন্য সদস্যরা হলেন—চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন, মীর হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা, মাহমুদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. অলিউল্লাহ।

চিফ হুইপ প্রস্তাবটি উত্থাপন করার পর ফ্লোর নিয়ে এর তীব্র বিরোধিতা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তারা কখনোই এই কমিটিতে নাম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেননি এবং প্রথম অধিবেশন থেকে তাদের যে অবস্থান ছিল, সেখানেই তারা অনড় রয়েছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তারা জাতির কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংসদ সদস্যের পাশাপাশি গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। শফিকুর রহমান বলেন, ‘ওইটাকে যদি বাইপাস করার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়, তাহলে আমরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা আমাদের আগের অবস্থানেই আছি।’

জনগণের অভিপ্রায়কে কোনোভাবেই অপমান বা অগ্রাহ্য করা উচিত নয় মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু জনগণের রায়কে সম্মান করা হচ্ছে না, তার প্রতিবাদে আমরা ওয়াকআউট করছি।’ এরপর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা একযোগে অধিবেশন ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গঠিত কমিশনের তৈরি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মৌলিক সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে এবং দলটি প্রচলিত প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী জোটের দাবি হলো, সাধারণ সংশোধনী নয়, বরং সনদের প্রস্তাবগুলো হুবহু বাস্তবায়নে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করতে হবে। পরবর্তীতে সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিরোধীদের দাবির পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়। কিন্তু গণভোটের রায়ের পর বিরোধী সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপি জোটের সংসদ সদস্যরা তা থেকে বিরত থাকেন। ফলে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

জাতীয় এর আরও খবর