শেখ হাসিনা ও দলের নির্বাসিত নেতারা ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতের কাছে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করবেন
মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, লন্ডন ১০ জুলাই ২০২৬ : বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে টেলিফোনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ তিনি এবং তাঁর দলের সিনিয়র নেতারা স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরবেন এবং আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন। দেশে পৌঁছার পরপরই তাঁদের গ্রেফতার করা হতে পারে, এমন কি, তাঁদের মেরেও ফেলা হতে পারে, তা সত্বেও তিনি ও দলের নেতারা বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন। এ ব্যাপারে ঢাকার কর্তৃপক্ষের সাথে তাঁর কোন যোগাযোগ হয়নি বলেও তিনি জানিয়েছেন।
কিন্তু দেশে ফিরে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কোন তারিখ শেখ হাসিনা এখনও বলেননি অথবা কোন আদালতে কখন তিনি আত্মসমর্পণ করবেন, তা-ও তিনি বলেননি এই সাক্ষাৎকারে।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আমি ন্যায় বিচরে বিশ্বাস করি। আমি মনে করি, আমার বিষয়টি যখন আদালতের প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হবে, তখনই সবার কাছে প্রমাণিত হয়ে যাবে যে, এই আদালত কতোটা প্রহসনমূলক।
শেখ হাসিনা বলেন, জেলে যেতে হলেও আমি ভয় করি না, এর আগেও আমি বেশ কয়েক বার গ্রেফতার হয়ে জেলে ছিলাম।
শেখ হাসিনা বলেন, একটি সরকার যখন লম্বা সময় ধরে দায়িত্বে থাকে, তখন ভুল হতে পারে। কোন সরকারই ভুলের উর্ধ্বে নয়। কিন্তু একটি সরকারের কাজ ভুল না শুদ্ধ; ভালো না মন্দ তা বিচারের দায়িত্ব জনগণের। আমি জনগণের ওপরই এই বিচারের দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছি।
শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার এবং ন্যায়বিচার-কোন গোপন আলোচনার বিষয় হতে পারে না। ঢাকার কর্তৃপক্ষের সাথে তাঁর কোন যোগাযোগ নেই বলেও শেখ হাসিনা দাবি করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তারা আমাকে দোষি সাব্যস্ত করতে পারে, আমি হয়তো নির্বাচনে আর অংশ নিতে না-ও পারি। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম কেন নিষিদ্ধ করবে? আমরা যদি খুব খারাপ করে থাকি, তাহলে এ বিষয়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আমি ফেরার পর তারা আমাকে গ্রেফতার করতে পারে, আমাকে মেরেও ফেলতে পারে, কিন্তু তাহলেও আমাকের দেশে ফিরতে হবে। আমাদের দলের নেতা-কর্মীরা দেশে চরম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। আমি চাই, আমার মৃত্যু হোক দেশের মাটিতে, যে মাটিতে আমার বাবা-মায়ের রক্ত ঝরেছে, যেখানে তাঁদের দাফন হয়েছে।
দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বা ফিরে গেলে কখন যাবেন, সে নিয়ে বিদেশী কোন সরকারের সাথে তাঁর কোন কথা হয়নি বলেও শেখ হাসিনা জানান।
এই প্রথম শেখ হাসিনা দেশে ফেরার একটি টাইমটেবল উল্লেখ করলেন। সেই সাথে আরও দুটো বিষয় তিনি প্রথমবারের মতো উল্লেখ করলেন। এগুলো হচ্ছে, তিনি দেশে ফিরে আদালতের কাছে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করবেন এবং নির্বাসনে যাওয়া আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারাও একইভাবে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ঢাকার কর্তৃপক্ষ আমাকে ফেরত নিতে চায়, আমাকের ফেরত পাঠানোর জন্যে তারা ভারতের কাছে একের পর এক চিঠি পাঠাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি নিজেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।



















