img

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশিত :  ১১:২১, ০৮ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে একটি মাদরাসা চাপা পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনায় অন্তত সাত শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অনেক রোহিঙ্গা শিশু ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে।

উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট ও স্থানীয়রা। তবে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাৎক্ষণিক দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-০৩ (ব্লক অ-০৩) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ক্যাম্পের বাসিন্দা স্বেচ্ছাসেবক রফিক ৭ শিশুর মরদেহ উদ্ধারের কথা কালের কণ্ঠকে জানান।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৭ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বহু শিক্ষার্থী মাটির নিচে চাপা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন।’

প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্প সূত্রে জানায়, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের মাদরাসার ওপর পড়ে।

সে সময় মাদরাসায় বহু শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করছিল। আকস্মিক পাহাড়ধসে ভবনটি মাটিচাপা পড়ে গেলে ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা আটকা পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। এ পর্যন্ত দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল উদ্ধার কাজ করছে। ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।’ তবে ক্যাম্পের বাসিন্দা রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক রফিক কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ৭ জন শিশুর মরদেহ উদ্ধারের কথা।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো বহু শিক্ষার্থী আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জাতীয় এর আরও খবর

img

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহত বেড়ে ৮, জীবিত উদ্ধার ১৪

প্রকাশিত :  ১৩:২০, ০৮ জুলাই ২০২৬

একটানা ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মসজিদুল কুবা মহিলা মাদরাসা ও হেফজখানায় পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহেতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের সবাই ১২-১৩ বছর বয়সী কিশোরী। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। 

এর আগে ঘটনার পরপর তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিস ও ক্যাম্প প্রশাসনের সমন্বিত তৎপরতায় চলা উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত ৮ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলো—রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)। উম্মে নেজাতুল ও উম্মে সালমা সহোদর বোন, তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩ এর বাসিন্দা। অপর দুজন ক্যাম্প-৫ এর বাসিন্দা।

নিহত বাকি চারজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ক্যাম্প প্রশাসন।

হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফায়ার সার্ভিস এবং ক্যাম্প প্রশাসনের আওতাধীন সিসিসিএম স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় পরিচালিত উদ্ধার অভিযান বিকেল ৫টার দিকে শেষ হয়েছে। ঘটনাস্থলে এপিবিএন সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয় পুরো উদ্ধার কার্যক্রম ও দুর্ঘটনা-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা তদারকি করছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন বলছে, ওই মাদরাসায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল। ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড় ধসের আশঙ্কায় অনেকে বেরিয়ে যায়। তবে একেবারেই পাহাড়-লাগোয়া একটি কক্ষে হঠাৎ মাটি এসে পড়ে। ফলে ওই কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা আটকা পড়ে এবং মাটিচাপা পড়ে। যাদের অধিকাংশই মারা গেছে।

ক্যাম্প-৫ এর বাসিন্দা মৌলভি ইউনুস জানান, মাদরাসা ছুটি হওয়ার সময় বাকি ছিল আর কয়েক মিনিট, এর মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে যায়। মাটি ভরাট করে মাদরাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

এর আগে গত সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে ভারী বর্ষণের কারণে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী শিশুসহ প্রাণ হারান ৮ জন। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত গত তিন দিনে কক্সবাজারে ভারী বর্ষণের ফলে ২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

জাতীয় এর আরও খবর