img

সাজেকে আটকা ৫ শতাধিক পর্যটক, রিসোর্ট ভাড়া নিচ্ছেন না মালিকরা

প্রকাশিত :  ০৯:০৫, ০৮ জুলাই ২০২৬

সাজেকে আটকা ৫ শতাধিক পর্যটক, রিসোর্ট ভাড়া নিচ্ছেন না মালিকরা

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের একাধিক স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় সাজেক ভ্যালিতে প্রায় পাঁচ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে আটকে পড়া পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রিসোর্ট ভাড়া না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্থানীয় রিসোর্ট মালিকরা।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। তবে ঘোষণার আগেই শত শত পর্যটক সেখানে অবস্থান করায় তারা আপাতত ফিরতে পারছেন না। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ‎সাজেকে যাতায়াতের একাধিক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একই কারণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা ও লংগদু-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধস এবং কোথাও কোথাও সড়কের মাটি সরে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

‎এদিকে মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লংগদু-দীঘিনালা সড়কের মেরুং এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সময়ে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের নানিয়ারচরের কেঙ্গেলছড়ি এলাকায়ও সড়কের ওপর পানি ওঠায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দুর্ভোগ বেড়েছে।

‎সাজেক কটেস অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ সাজেকের দপ্তর সম্পাদক এস এম জিয়াউল হক (যুবরাজ) বলেন, বাঘাইহাট ও মাচালং এলাকার নিচু এলাকায় সড়কে পানি উঠায় সাজেকে প্রায় ৫ শতাধিক পর্যটক আটকে পড়েছেন। সমিতির পক্ষ থেকে আটকে পড়া পর্যটকদের কাছ থেকে শুধুমাত্র পানি এবং ইউটিলিটি বিল নেওয়া হবে। এছাড়া খাবার দোকানগুলো সীমিত খরচে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করবে।

এভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এ কারণে প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় এর আরও খবর

img

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহত বেড়ে ৮, জীবিত উদ্ধার ১৪

প্রকাশিত :  ১৩:২০, ০৮ জুলাই ২০২৬

একটানা ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মসজিদুল কুবা মহিলা মাদরাসা ও হেফজখানায় পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহেতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের সবাই ১২-১৩ বছর বয়সী কিশোরী। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। 

এর আগে ঘটনার পরপর তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিস ও ক্যাম্প প্রশাসনের সমন্বিত তৎপরতায় চলা উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত ৮ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলো—রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)। উম্মে নেজাতুল ও উম্মে সালমা সহোদর বোন, তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩ এর বাসিন্দা। অপর দুজন ক্যাম্প-৫ এর বাসিন্দা।

নিহত বাকি চারজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ক্যাম্প প্রশাসন।

হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফায়ার সার্ভিস এবং ক্যাম্প প্রশাসনের আওতাধীন সিসিসিএম স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় পরিচালিত উদ্ধার অভিযান বিকেল ৫টার দিকে শেষ হয়েছে। ঘটনাস্থলে এপিবিএন সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয় পুরো উদ্ধার কার্যক্রম ও দুর্ঘটনা-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা তদারকি করছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন বলছে, ওই মাদরাসায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল। ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড় ধসের আশঙ্কায় অনেকে বেরিয়ে যায়। তবে একেবারেই পাহাড়-লাগোয়া একটি কক্ষে হঠাৎ মাটি এসে পড়ে। ফলে ওই কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা আটকা পড়ে এবং মাটিচাপা পড়ে। যাদের অধিকাংশই মারা গেছে।

ক্যাম্প-৫ এর বাসিন্দা মৌলভি ইউনুস জানান, মাদরাসা ছুটি হওয়ার সময় বাকি ছিল আর কয়েক মিনিট, এর মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে যায়। মাটি ভরাট করে মাদরাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

এর আগে গত সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে ভারী বর্ষণের কারণে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী শিশুসহ প্রাণ হারান ৮ জন। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত গত তিন দিনে কক্সবাজারে ভারী বর্ষণের ফলে ২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

জাতীয় এর আরও খবর