img

পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থীরা পাবেন বিশেষ সুযোগ: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১১:৪৩, ১৫ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থীরা পাবেন বিশেষ সুযোগ: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

দেশব্যাপী চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বৈরী আবহাওয়া বা অনিবার্য কারণে যেসব পরীক্ষার্থী কোনো বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ ঘোষণা করেছে সরকার।

একই সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে ভুলের ঘটনায় দায়ীদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রী এসব কথা জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ এ সারাদেশের ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ ৫টি জেলা তথা-চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বাইরেও দেশের কিছু জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরীক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়া ও বহুবিধ কারণে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন পরীক্ষাপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।

যেহেতু এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, তাই বিশেষ বিবেচনায় এই বিশেষ সুযোগ প্রদান করা হল।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়ী ব্যক্তিদের ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এসময় তিনি বলেন, আমি আবারও আশ্বস্ত করছি পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র ৬ ও ৭নং প্রশ্নে যে ভুল হয়েছে, তার জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।


জাতীয় এর আরও খবর

img

শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধার সঠিক তালিকা প্রণয়নে রাজনীতিকরণ হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৫:৩৭, ১৫ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:৪৫, ১৫ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার পর প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব যাদের ওপর ছিল, তারা সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে যখন দেশ স্বাধীন হলো এ সময় যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এ দায়িত্ব যাদের ছিল তারা সেটিকে সঠিকভাবে না করে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছে, নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে এ তালিকা করেনি।’

এরই মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এ তালিকা প্রণয়নে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন করে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে আমরা চেষ্টা করব সঠিক যারা মুক্তিযোদ্ধা, সঠিক যারা শহীদ তাদেরকে চিহ্নিত করার জন্য।’ 

বুধবার (১৫ জুলাই) পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

একাত্তরের শহীদ পরিবারের ও গণহত্যার সঠিক তালিকা প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা রুহুল আমীন দুলালের এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তার দলের নির্বাচনি অঙ্গীকার মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যাগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয় গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ।’

তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার ও সকল শহীদের একটি নির্ভুল ও গ্রহনযোগ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে।’

দলীয়করণমুক্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার বিষয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক  প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে আপনাকে একটু আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গঠিত দল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং শুধু তাই নয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দ্বারা গঠিত এই দল। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনে প্রাণে বিশ্বাস করে যে, মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের পবিত্র একটি দায়িত্ব রয়েছে। সে কারণেই আমি বলেছিলাম, দেশ স্বাধীনের পরে তাদের দায়িত্ব ছিলো সঠিকভাবে শহীদদের ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা, তারা সেটিকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছে, তারা সেটা নিরপেক্ষভাবে সঠিকভাবে করেনি।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তিতে বিভিন্ন সময়ে এই লিস্ট তৈরিতে বিভিন্ন রকম সমস্যা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সরকার চেষ্টা করছে যাতে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদেরকে নিয়ে একটির পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরি করতে পারি।’

এর আগে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকাল তিনটায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথম ত্রিশ মিনিট ছিলো প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নোত্তর পর্ব।

প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিলো ৭টি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন। এরমধ্যে তিনি নির্ধারিত ত্রিশ মিনিটে তিনটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ও এই সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।

জাতীয় এর আরও খবর