img

প্রধানমন্ত্রীর মুখে ‘মধু’, অন্তরে ‘ছলনা’: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশিত :  ১৮:৫৯, ১৮ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:১৫, ১৮ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর মুখে ‘মধু’, অন্তরে ‘ছলনা’: নাহিদ ইসলাম

গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় অনুযায়ী ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন না হলে আবারও গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের পথ বেছে নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, গণভোটে ‘জুলাই সনদ’-এর পক্ষে স্পষ্ট জনসমর্থন থাকলেও সরকার তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

আজ শনিবার (১৮ জুলাই) বিকালে বরিশাল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী গণভোট ও জুলাই সনদের পক্ষে প্রচার চালালেও নির্বাচনের পর ৭০% জনগণের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দিইনি। তবে প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় সে ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা এই মুহূর্তে এমন কর্মসূচির পক্ষে ছিলাম না। কিন্তু সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিস্থিতিকে সেদিকে ঠেলে দিচ্ছেন।’

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণ আপনাকে ক্ষমতা দিয়েছে, তার মানে এই নয় যে যা খুশি তাই করবেন বা জনগণের সঙ্গে ছলনা করবেন।’

বিএনপির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি গত ১৬ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, কিন্তু দুঃখের বিষয় ৫ আগস্ট পর থেকে তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে লড়াই করে যাচ্ছে। আসল কথা হচ্ছে বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল না। তারা লড়াই করেছিল ক্ষমতার জন্য। তারা গণঅভ্যুত্থানে আমাদের সাথে লড়াই করেছিল ক্ষমতার জন্য, নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য।’

‘নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছে। এখন তারা পরিবর্তনের কথা বলে না। সংস্কারের কথা বলে না। এখন তারা ৩১ দফার কথা বলে না। বরং তারা এখন বলছে তারা না কি, কখনো সংস্কারের কথা বলেনি অথচ তাদের ৩১ দফার প্রথম দফা ছিল সংবিধান সংস্কর কমিটি গঠন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংস্কারের নামে কোনো প্রহসন মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং নতুন গণপরিষদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

জাতীয় এর আরও খবর

img

প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন আগামী মাসে, মিলবে যেসব সুবিধা

প্রকাশিত :  ১৬:১৩, ১৮ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:১৬, ১৮ জুলাই ২০২৬

আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ড’-এর পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার। প্রথম পর্যায়ে প্রবাসী ডেবিট কার্ড চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড সম্পর্কিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড বিষয়ক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কার্ডে থাকবে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বিশেষ সুবিধা। এই কার্ড প্রদানে সরকারের উদ্দেশ্যে হচ্ছে, প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা, ক্ষমতায়ন, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান, ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়া।

নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। প্রবাসী কার্ডও সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার। তারই অংশ হিসেবে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন। এগুলো হচ্ছে— দেশে-বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার ও বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে কমপ্লিমেন্টারি মিট এন্ড গ্রিট সেবা, বিমানের টিকেট ও হোটেল বুকিংয়ে ডিসকাউন্ট, দেশে-বিদেশে ন্যায্যমূলে গাড়ি বুকিং ও সিগনেচার কার্ডে এয়ারপোর্ট পিক এন্ড ড্রপ সেবা, সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ ও বেসরকারিতে ডিসকাউন্ট সুবিধা, কার্ডধারীর মৃত্যুতে বিনা খরচে লাশ পরিবহন, প্রবাস ফেরতদের পুনর্বাসনের সুযোগ ও বীমা সুবিধা, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি, লাইসেন্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া। 

এছাড়া, রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং ও ঋণ সুবিধা, কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি টাকা পাঠানোসহ সহজে লেনদেন। এনআইডি, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবায় অগ্রাধিকার, ব্যাংক ও সরকার প্রদত্ত অন্যান্য সুবিধা দেওয়া।

শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, প্রবাসী কার্ড পরীক্ষামূলভাবে উদ্বোধন হবে আগামী মাসের মাঝামাঝিতে। প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ডের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

উপ-প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে সময়োপযোগী ও আধুনিক করতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

একই সঙ্গে বিশ্বে যেসব বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছে, তারা যাতে প্রবাসী কার্ডের আওতায় আসে সেজন্যও প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখতে বলেছেন বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, মাহদী আমিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


জাতীয় এর আরও খবর