img

প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নতুন সরকারের বড় সুযোগ : সিপিডি

প্রকাশিত :  ০৭:২৪, ১২ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৫০, ১২ জুন ২০২৬

প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নতুন সরকারের বড় সুযোগ : সিপিডি

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নতুন সরকারের জন্য টেকসই কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় সুযোগ।

রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আজ (শুক্রবার) আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এ কথা বলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অ্যাধাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানটির আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রস্তাবিত এই বাজেট সরকারের প্রথম বাজেট। এই বাজেটটি এমন সময়ে দেওয়া হয়েছে যখন অর্থনীতি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে এবং গত প্রায় চার বছর থেকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। তার পাশাপাশি দেখছি আমাদের প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়েছে, দুর্বল ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান হচ্ছে না, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি রয়েছে এবং ব্যাংকিং খাত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মোটামুটি অবস্থায় রয়েছে, প্রেসারে ছিল কিন্তু মোটামুটি ভালো হয়েছে, তবে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এখন একটা ক্রিটিক্যাল সময়— আমাদের জ্বালানি সংকট। এই প্রেক্ষিতে বাজেটকে মানবিক, গণতান্ত্রিক মানবিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ বাজেট বলা হয়েছে। 

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের অন্তর্নিহিত দর্শন হলো মানব উন্নয়ন, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক খাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সিপিডির মতে, বাজেটের এই দৃষ্টিভঙ্গি অনেকাংশে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ এবং সামাজিক খাতের উন্নয়নের বিষয়গুলোতে মিল রয়েছে। বাজেটের সাফল্য আকারের ওপর নয়, বরং বাস্তবায়নের মানের ওপর নির্ভর করবে। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবায়ন দুর্বল হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায় না।

সিপিডি বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলছে, বাজেটের লক্ষ্য অর্জনে শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। এমন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যেগুলো দক্ষতার সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং জনগণের কাছে দৃশ্যমান ফলাফল পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই বাজেট নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও বটে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শনের এটিই সরকারের প্রথম বড় সুযোগ। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার যদি কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দিতে পারে, তাহলে তা দেশের অর্থনীতিকে আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এর আগে গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর বিপরীতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার ফলে সামগ্রিক বাজেটে নিট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা (যার মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা) এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

বাজেট বাস্তবায়ন করে সবার ভাগ্য বদলাতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৬:৫৯, ১৩ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকসহ দেশের সবার ভাগ্য বদলাতে সরকার কাজ করছে  । প্রস্তাবিত বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দু’দিন আগে আমরা বাজেট উত্থাপন করেছি। যারা দেশ সম্পর্কে চিন্তা করে তারা বলেছে- এই বাজেটে দেশের মানুষের উপকার হবে। এই বাজেট জনগণের পক্ষের বাজেট। 

শনিবার রাতে চকরিয়া পৌর বাসটার্মিনালে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেটে নিত্যপণ্যের ওপর ট্যাক্স উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ বাজেটের বিপক্ষে রাস্তায় নেমে মিছিল করেছে। যারা জনগণের বাজেট নিয়ে সমালোচনা করে, তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে না।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছরে কক্সবাজারের গুরুত্ব অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকদিন পরেই মাতারবাড়ী বন্দর চালু হবে। আগামী দিনে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কক্সবাজার-চট্টগ্রাম সড়কটি অন্তত ৬ লেন হওয়া উচিত। এ সময় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ৪ থেকে ৬ লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়ে শিগগির এর কাজ শুরু হবে। 

লবণ চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লবণ চাষিরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম পায় না। আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা একটি দাম নির্ধারণ করব, যাতে লবণ চাষিরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়।

চকরিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত এ সভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন- স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিএনপি এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। 


জাতীয় এর আরও খবর