img

একনেকে ৩৮৯১ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন, আটকে গেল খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প

প্রকাশিত :  ০৮:২২, ০৯ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:২২, ০৯ জুন ২০২৬

একনেকে ৩৮৯১ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন, আটকে গেল খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় ১০টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি নতুন প্রকল্প, তিনটি সংশোধিত প্রকল্প এবং দুটি মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়া প্রকল্প। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ’, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ’, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন’ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউজ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিফট সংযোজন’ প্রকল্প।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২’, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকা সিএমএইচে ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’ এবং দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন প্রকল্পের সংশোধিত সংস্করণ, পাশাপাশি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সম্বলিত আরও ছয়টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। এর মধ্যে ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসন, ডাকসেবা সম্প্রসারণ, ঢাকা সেনানিবাসে এমইএস ট্রেনিং সেলের অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিশুবিবাহ প্রতিরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় এবং খুলনায় পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্প রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের ১২ তম এবং বর্তমান সরকারের চতুর্থ একনেক সভায় মোট ১২টি প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। তবে সভায় যাচাই বাছায় শেষে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন না পাওয়া বাকি দুটির মধ্যে একটি বহুল আলোচিত চীনা ইকোনমিক জোন প্রকল্প অন্যটি খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক (তৃতীয় সংশোধন) প্রকল্পটি।

একনেকের আলোচ্যসূচিতে থাকা খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক (তৃতীয় সংশোধন) প্রকল্পটি অনুমোদন পায়নি। সভায় প্রকল্পটির বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্বের কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বহুল আলোচিত চীনা ইকোনমিক জোন প্রকল্পটি সময়ের স্বল্পতার কারণে সভায় আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আগামী একনেক সভায় প্রকল্পটি উত্থাপন করা হতে পারে এবং তখন অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।


জাতীয় এর আরও খবর

img

‘টিআইবির প্রতিবেদনকে পত্রিকার কাটিং–নির্ভর বলার ভিত্তি নেই'

প্রকাশিত :  ১৮:৩১, ০৯ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৩৫, ০৯ জুন ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংসদ ও পুলিশের প্রতিক্রিয়ায় টিআইবির ব্যাখ্যা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের প্রথম ১০০ দিন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে আলোচনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়ার জবাব দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটি বলেছে, তাদের গবেষণা কোনোভাবেই শুধু পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়নি; বরং স্বীকৃত সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিভিন্ন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন : সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে আলোচনা হয়েছে, তা সংস্থাটিকে অনুপ্রাণিত করেছে।

টিআইবির মতে, এ ধরনের প্রতিক্রিয়া তাদের গবেষণা ও জনস্বার্থভিত্তিক কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ করতে সহায়তা করবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যথার্থই উল্লেখ করেছেন, টিআইবি কোনো তদন্ত সংস্থা নয়। সংস্থাটি মূলত গবেষণাভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী ও সুশাসনসংক্রান্ত কাজ করে থাকে। সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গুণগত ও পরিমাণগত পদ্ধতি অনুসরণ করে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্যের উৎস প্রসঙ্গে টিআইবি জানায়, বাংলাদেশ পুলিশ এবং ৩টি সুপরিচিত মানবাধিকার সংগঠন থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব তথ্যসূত্র প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে প্রতিবেদনটি কেবল পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ কাটিংয়ের ওপর নির্ভরশীল এমন মন্তব্যের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই বলে দাবি সংস্থাটির।

টিআইবি আরও বলেছে, গবেষণার প্রয়োজনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সংগ্রহ করা হলেও তা সরাসরি ব্যবহার করা হয় না। সংশ্লিষ্ট সরকারি, বেসরকারি এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে সেগুলো বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাই প্রতিবেদনকে ঢালাওভাবে ‘পত্রিকার কাটিংনির্ভর’ বলে আখ্যা দেওয়া মূল বিষয়কে এড়িয়ে যাওয়ার একটি অযৌক্তিক প্রচেষ্টা।

বিবৃতিতে প্রশ্ন তুলে বলা হয়, দেশের জনপ্রতিনিধি, সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নিজেদের কার্যক্রম প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সে বিবেচনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে সামগ্রিকভাবে অবমূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই।

পুলিশের প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে টিআইবি বলেছে, পুলিশ কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনে তাদের মূল পর্যবেক্ষণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক-এসব বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেনি। তবে অতীত সরকারের মেয়াদের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণের যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে, তা উক্ত গবেষণার পরিধির বাইরে। ফলে সে বিষয়ে মন্তব্য করা টিআইবির জন্য যৌক্তিক নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।


জাতীয় এর আরও খবর