img

সৌরবিদ্যুতে জোর ডিএনসিসির: সড়কবাতি জ্বলছে সূর্যের আলোয়

প্রকাশিত :  ১৩:৫১, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সৌরবিদ্যুতে জোর ডিএনসিসির: সড়কবাতি জ্বলছে সূর্যের আলোয়

দিনের সূর্যালোক থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতে রাতে আলোকিত হচ্ছে রাজধানীর উত্তরা ও ভাষানটেকের কয়েকটি সড়ক। দৈনন্দিন নাগরিক সেবায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির এমন ব্যবহার সফল হওয়ায় নগরীর অন্যান্য সড়কেও সৌরবিদ্যুতচালিত বাতি স্থাপনের পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অধীন উত্তরার তিনটি সড়কে স্থাপিত ২৬০টি বাতি আট বছরে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ ইউনিট গ্রিড বিদ্যুৎ ব্যবহার বাঁচিয়েছে। ওই বিদ্যুতের আর্থিক মূল্য প্রায় ৯৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা। যদিও কাছাকাছি সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সোলার বেইজড সড়কবাতি প্রকল্প গ্রহণ করে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ হিসাবে জানা গেছে, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যা না করায় ওই উদ্যোগটি ব্যর্থ হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ডিএনসিসির হিসাবটি সৌরশক্তিকে নগরসেবায় আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনা সামনে এনেছে। সড়ক আলোকিত রাখার পাশাপাশি বিদ্যুতের প্রচলিত উৎসের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ার ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম  বলেন, যেসব সড়ক পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পায়, সেসব সড়কে সৌরভিত্তিক (সোলার বেইজড) সড়কবাতি সম্প্রসারণ করলে সফলতা মিলবে। ডিএনসিসির এমন অনেক সড়ক রয়েছে সেসব সড়কে সৌরভিত্তিক সড়কবাতি সম্প্রসারণের চিন্তাভাবনা চলছে।

তিনি বলেন, ঢাকায় ধুলা একটা সমস্যা হলেও সঠিক পরিচর্যায় তার মধ্যেও সৌরভিত্তিক সড়কবাতির ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরার তিনটি রোডে সফলতা মিলেছে। নতুন করে ভাষানটেকে সৌরবাতি স্থাপন করা হয়েছে। সেখানেও সফলতা পাওয়া গেছে। এ কারণে এর সম্প্রসারণ করার চিন্তাভাবনা করছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমান সরকারও সোলারের সম্প্রসারণ দেখতে চায়। এর সুবিধা হলো খরচ কম এবং পরিবেশবান্ধব।

নথির তথ্য অনুযায়ী, উত্তরার শাহজালাল অ্যাভিনিউ, গরীবে নেওয়াজ অ্যাভিনিউ ও গাউসুল আজম অ্যাভিনিউতে ১৩০টি খুঁটিতে মোট ২৬০টি সৌর সড়কবাতি রয়েছে। প্রতিটি বাতির ক্ষমতা ৯০ ওয়াট। প্রতিটির জন্য ২৫০ ওয়াটের সৌর প্যানেল ধরা হয়েছে। সব প্যানেলের মোট স্থাপিত ক্ষমতা ৬৫ কিলোওয়াট।

আরও জানা যায়, জুলাই ২০১৮ থেকে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এসব বাতি প্রতিদিন গড়ে ১২ ঘণ্টা জ্বলেছে ধরে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের হিসাব করা হয়েছে। এছাড়া এ সময়ে ৫২৭ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কম হয়েছে।

এই সংখ্যাগুলো ডিএনসিসির অনুমানভিত্তিক হিসাব। বাতির সংখ্যা, ক্ষমতা ও দৈনিক ব্যবহারের সময় ধরে তা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর্থিক মূল্য নির্ধারণে ২০২৬ সালের জুনের প্রতি ইউনিট ১১ টাকা ৪৬ পয়সা দর ধরে করা হয়েছে। ফলে ৯৭ লাখ টাকা হচ্ছে ওই দর অনুযায়ী গ্রিড বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আনুমানিক মূল্য।

সরেজমিন দেখা গেছে, উত্তরার উল্লেখিত তিনটি সড়ক সৌরবিদ্যুতে আলোকিত রয়েছে। সাধারণ সড়কবাতি, এলইডি সড়কবাতির চেয়ে কোনো অংশে কম নয় এই আলো। ডিএনসিসির সংশ্লিষ্টরা জানান, এই সাফল্য থেকে বোঝা যায় ঢাকায় সোলার বেইজড সড়কবাতি পরিচালনা সম্ভব। বিশেষ করে যেসব সড়কে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো মিলবে।

এদিকে উত্তরায় সফলতা পাওয়ার পর ভাষানটেকে সৌরভিত্তিক সড়কবাতি স্থাপন করেছে ডিএনসিসি। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল ভাষানটেক বস্তিতে ৪৫০টি সৌরবিদ্যুৎচালিত এলইডি সড়কবাতি উদ্বোধন করে ডিএনসিসি। সরু রাস্তা ও গলিতে রাতে চলাচল সহজ করা এবং নাগরিক নিরাপত্তা বাড়ানো এই উদ্যোগের লক্ষ্য। এতে প্রায় দেড় লাখ বাসিন্দা উপকৃত হবেন।


জাতীয় এর আরও খবর

img

সৌদিতে দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছে আরও ২০ বাংলাদেশি, সাজার তথ্য চাইল বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১৪:২০, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি ২২ বাংলাদেশির নামের পাশে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ উল্লেখ থাকলেও তাঁদের কার কী শাস্তি হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। কারও কারাদণ্ডের মেয়াদ কিংবা মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় বিষয়টি জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

এই ২২ জনের মধ্যে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারও ছিলেন। সম্প্রতি তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর অন্য বন্দীদের পরিণতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাকি ২০ জনের কী সাজা হয়েছে, তা জানতে গত ১৯ অক্টোবর সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জেদ্দা শাখায় চিঠি পাঠায় কনস্যুলেট।
বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের দণ্ডিত নাগরিকদের কনস্যুলার সুবিধা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২ হাজার ৪৬১ বাংলাদেশি বন্দীর একটি তালিকা পাঠায়। জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কর্মপরিধির আওতাধীন কারাগারগুলোতে থাকা এসব বন্দীর কারও বিচার শেষ হয়েছে, আবার কারও মামলা চলছে। তালিকা পর্যালোচনা করে কনস্যুলেট দেখতে পায়, কয়েকজনের ‘অবস্থা’ কলামে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ লেখা থাকলেও ‘রায়ের সারসংক্ষেপ’ কলামে কোনো তথ্য নেই। তাদের শাস্তির ধরন বা মেয়াদও উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে ১৯ অক্টোবর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা অঞ্চল শাখার কাছে পাঠানো চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত রায়ের সারসংক্ষেপ পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়। কনস্যুলেট বলেছে, কনস্যুলার দায়িত্ব পালনের জন্য এসব তথ্য প্রয়োজন। চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত নয় পৃষ্ঠার তালিকা পর্যালোচনা করে এমন ২২ জনের তথ্য পাওয়া গেছে।

কনস্যুলেটের সূত্র অনুযায়ী, এই ২২ জনের মধ্যে আটজন হত্যা মামলায়, পাঁচজন মাদক পাচারের মামলায় এবং পাঁচজন ‘ব্যক্তিগত অধিকার’–সংক্রান্ত মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। এ ছাড়া দুজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘনের, একজনের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের এবং একজনের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের মামলা রয়েছে।

বন্দীদের মধ্যে ছয়জন জেদ্দার জাহবান কারাগারে, ছয়জন শুমাইসি কারাগারে এবং চারজন জেদ্দা জেনারেল কারাগারে রয়েছেন। অন্য ছয়জন নাজরান, খামিস, আল-বাহা, হাদ্দাহ ও জেদ্দার নারী কারাগারে আছেন।
‘ব্যক্তিগত অধিকার’–সংক্রান্ত মামলার পাঁচ বন্দীর সবাই শুমাইসি কারাগারে রয়েছেন। সাধারণত এ ধরনের মামলা ব্যক্তিগত দাবি বা ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত হলেও মামলার নথি ছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মামলার ধরন দেখে কারও সাজা অনুমান করা সম্ভব নয়। সৌদি আরবে হত্যা মামলায় কিসাসের বিধান অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। তবে রক্তপণ বা কারাদণ্ডের মাধ্যমেও মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে। ফলে তালিকায় থাকা কারও মৃত্যুদণ্ড হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলার মতো তথ্য কনস্যুলেটের কাছে নেই।

নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা রায়ের বিস্তারিত তথ্য জানার গুরুত্ব সামনে এনেছে। কোনো বন্দীর রায়ের সারসংক্ষেপ না থাকলে তাঁর আপিলের সুযোগ, আইনজীবী নিয়োগ কিংবা রক্তপণ ও ক্ষমার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দেশে থাকা তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো চিঠিতে কনস্যুলেট জানিয়েছে, দণ্ডিত বাংলাদেশিদের সাজার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নাগরিকদের উন্নত কনস্যুলার সেবা দেওয়া এবং নিজস্ব তথ্যভান্ডার হালনাগাদ রাখার অংশ।
এ ছাড়া ১৯ অক্টোবর পাঠানো আরেকটি চিঠিতে ২ হাজার ৪৬১ বন্দীকে পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করে তাদের বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কনস্যুলেট। এর মধ্যে রয়েছে সাজা শেষ হওয়া বন্দীদের দ্রুত মুক্তি ও দেশে ফেরত পাঠানো, ভালো আচরণ করা বন্দীদের রাজকীয় ক্ষমার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, প্রথমবার আটক ও ছোট অপরাধে আটক ব্যক্তিদের অবশিষ্ট সাজা মওকুফ এবং বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি।

আরও দুজন বাংলাদেশির বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে কনস্যুলেট। তাদের পরিবারের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করলেও কেন এবং কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারকে জানানো হয়নি।
এসব চিঠির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাব এখনো পাওয়া যায়নি।

জাতীয় এর আরও খবর