img

সচিবালয় কবে যাবে নতুন জায়গায়, বর্তমান স্থাপনায় কী হবে

প্রকাশিত :  ০৫:৪১, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সচিবালয় কবে যাবে নতুন জায়গায়, বর্তমান স্থাপনায় কী হবে

রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে বাংলাদেশ সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় স্থাপন করা হবে।

২০২৯ সালে নতুন জায়গায় অফিস শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যখন সচিবালয় সরিয়ে নেওয়া হবে তখন পুরোনো ঢাকায় অবস্থিত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং অধস্তন আদালত সচিবালয়ের বর্তমান জায়গায় স্থানান্তর করা হতে পরে। যদিও বিষয়টি এখনো ঠিক হয়নি।

গতকাল রোববার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এর আগে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরদিনই সচিবালয় স্থানান্তরের একটি প্রকল্প বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করতে পরিকল্পনা কমিশনকে চিঠি দেয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এখন মন্ত্রিসভায় এই প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়ার মাধ্যমে কাজটি আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছেন, মূল বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে আরও কিছু পরীক্ষা–নিরীক্ষার কাজ এগিয়ে নিতে। ২০২৯ সালের মধ্যে এটি করার প্রচেষ্টা রয়েছে। এখন ব্যয়ের প্রাক্কলন চলছে।

৩১ দশমিক ৫৮ একর জায়গায় হবে নতুন সচিবালয়

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে আবদুল গনি রোডে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ১৭ দশমিক ৫৭ একর জায়গায় ১৩টি ভবন আছে। এর মধ্যে আটটি ভবন স্বাধীনতার আগে নির্মাণ করা হয়েছে। সচিবালয়ের পুরোনো ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবন ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালে, ৫ নম্বর ভবনটি ১৯৪৭ সালে নির্মিত। এগুলো ভূমিকম্প সহনীয় হিসেবে নির্মিত হয়নি। ঢাকা শহর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থাপনা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া ভবনগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলেছে, ভবনগুলোতে পর্যাপ্তসংখ্যক ওয়াশ-ব্লক নেই। ধারণক্ষমতার বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যবহার করায় স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যমান বাংলাদেশ সচিবালয়ে মোট অফিসের জায়গা প্রায় ১৮ দশমিক ৭৬ লাখ বর্গফুট। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত অফিস জায়গার চাহিদা এবং সচিবালয় চত্বরের বাইরে অবস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের স্থান সংকুলানের জন্য আরও প্রায় ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি অফিস জায়গা প্রয়োজন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলছে, এ বিষয়ে একনেক সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে লুই আই কানের মহাপরিকল্পনা (মাস্টার প্ল্যান) অনুযায়ী ঢাকার শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থাপনের লক্ষ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর ধারণাগত স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন করে। এ নকশা অনুযায়ী শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠের প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জায়গায় মোট প্রায় ৩৩ দশমিক ১৬ লাখ বর্গফুট জায়গা–সংবলিত তিনটি বেজমেন্টসহ (২০০টি ভূ-উপরিস্থ পার্কিংসহ ৩,৮০০টি গাড়ি পার্কিং) ১৪টি ১২ তলা ভবন (মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি মাল্টিপারপাস হল, একটি ক্যাফেটেরিয়া, একটি ডাকঘর ইত্যাদি) নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প এলাকায় প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গায় সবুজায়ন ও জলাধারের সংস্থান রাখা হয়েছে।

বর্তমান জায়গায় আসতে পারে ডিসি অফিস ও অধস্তন আদালত

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সচিবালয় সরানো হলে বর্তমান জায়গায় কী হবে। জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ভবিষ্যতে ভালো কিছু হতে পারে। পুরোনো ঢাকায় প্রশাসনিক ও বিচার (জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও অধস্তন আদালত) কাজ হয়। সেগুলো আসতে পারে বা অন্যান্য আরও কিছু অফিস এখানে আসতে পারে। তবে ঠিক কী হবে, তা এখনই বলতে পারছেন না।


জাতীয় এর আরও খবর

img

কক্সবাজারে সড়কে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে ডাকাতি, ৫০-৬০ যানবাহনে লুটপাট

প্রকাশিত :  ১৮:০৯, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কের হিমছড়ি ঢালায় একই দিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে চলন্ত অটোরিকশার যাত্রীদের সর্বস্ব লুট করে ডাকাত দল। পরে দুপুরে একই স্থানে একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাসহ একাধিক পথচারীর ওপর হামলা চালিয়ে ডাকাতি করা হয়।

ডাকাতদের কবলে পড়ে অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন। প্রকাশ্যে এমন ডাকাতির ঘটনায় সড়কটিতে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে রামু উপজেলার ঈদগড় এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাওয়ার পথে হিমছড়ি ঢালা এলাকায় প্রথম ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা ডাকাত দল গাড়িটির গতি রোধ করে তারেককে জিম্মি করে তার মুঠোফোন ও নগদ টাকাসহ সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে নিজের জীবন বাঁচাতে চলন্ত অটোরিকশা থেকেই লাফ দিয়ে কোনোমতে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন তিনি।

প্রথম ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে ঠিক একই স্থানে দ্বিতীয় দফায় হানা দেয় সশস্ত্র ডাকাতরা। এ সময় ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা ‘মুক্তি’-র ঈদগড় শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল হাকিমসহ কয়েকজন পথচারীর পথ আটকে অস্ত্রের মুখে তাদের কাছ থেকে মুঠোফোন, নগদ অর্থসহ সর্বস্ব লুটে নিয়ে দ্রুত পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যায় চক্রটি।

ডাকাতদের মারধরে আহত দুই মোটরসাইকেল আরোহীডাকাতদের মারধরে আহত দুই মোটরসাইকেল আরোহী

ঘটনার খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম সিফাতুল মাজদার জানান, স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতকারী ও বনদস্যু চক্র এই অপকর্ম ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ ইতিমধ্যে পাহাড়ি এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর শুষ্ক ও শীত মৌসুমে ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কে ডাকাতদের উপদ্রব অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এ সময়ে পাহাড়ি কলাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কেনাবেচা এবং চকরিয়া ও কক্সবাজার থেকে পাইকারি পণ্য আনার সুবাদে সড়কে ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ নিয়ে যাতায়াত বাড়ে, আর সেই সুযোগটিই নেয় অপরাধীরা। তবে এবার শীত পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে লুটপাট শুরু হওয়ায় পাহাড়বেষ্টিত এ অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সড়কে যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবিলম্বে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জাতীয় এর আরও খবর