img

ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৫:৫৫, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মের মূল শিক্ষা। মানবতার কল্যাণও ধর্মগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার জন্য জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার-রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার-নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার।

আগামীকাল (শনিবার) ‘শারদীয় দুর্গাপূজা’ উপলক্ষে আজ (শুক্রবার) দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন। এতে তিনি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের হিন্দু সম্প্রদায় তথা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, হিন্দু ধর্মমতে জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসেন এবং ভক্তদের কল্যাণ সাধন করে শত্রুর বিনাশ ও সৃষ্টিকে লালন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের এই আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্যকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ প্রতিটি গোষ্ঠী-গোত্র-সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে যার যার ধর্ম পালন করছে এবং করবে। এটিই বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সৌন্দর্য। এভাবে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের বিভিন্ন ধর্ম-গোত্র-সম্প্রদায়ের মধ্যকার পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ভ্রাতৃত্ব।

তিনি বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর এবার বাংলাদেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। শুরু হয়েছে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমূলক, নিরাপদ, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের অঙ্গীকার। সৌহার্দ্য সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক আমাদের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই ও বোনেরা- আপনারা উৎসাহ উদ্দীপনা সহকারে, নিশ্চিন্তে, নিরাপদে সারা দেশে উৎসব আনন্দ উদযাপন করুন। আপনাদেরকে আবারও শুভেচ্ছা।’

জাতীয় এর আরও খবর

img

বিএডিসি’র প্রবিধানমালা সংশোধনে বৈষম্যমূলক কোটা প্রস্তাব: দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও তীব্র ক্ষোভ

প্রকাশিত :  ১১:৫৬, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:১৮, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) নতুন খসড়া প্রবিধানমালা প্রণয়নের জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রস্তাবিত বিধান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সহকারী প্রকৌশলী পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে শাখাভিত্তিক অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোটা আরোপের পেছনে এই কমিটির বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

বিএডিসির প্রকাশিত অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, বিএডিসি কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৯০ এবং বিএডিসি আইন, ২০১৮ পর্যালোচনা করে নতুন খসড়া প্রবিধানমালা প্রস্তুতের জন্য সদস্য পরিচালক (অর্থ)-কে আহ্বায়ক করে ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে সচিব, প্রধান (মনিটরিং), হিসাব নিয়ন্ত্রক, প্রধান প্রকৌশলী (সেচ), প্রধান সমন্বয়কারী (গবেষণা সেল), উপপরিচালক (আইন) এবং সদস্য সচিব হিসেবে যুগোপপরিচালক (সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। খসড়া প্রবিধানমালা প্রণয়নে এই কমিটির ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা হলেও তারা মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও সমতার নীতি উপেক্ষা করে বৈষম্যমূলক কোটা প্রস্তাব করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।  

১৯৯০ সালের প্রচলিত প্রবিধানমালার সঙ্গে প্রস্তাবিত ২০২৬ সালের প্রবিধানমালার তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, আগে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কৃষি, পুর (সিভিল), পানি সম্পদ, যন্ত্র ও তড়িৎ প্রকৌশলের জন্য কোনো শাখাভিত্তিক কোটা ছিল না। সব শাখার দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রাধারীরা সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ পেতেন।  

অথচ খসড়া প্রবিধানমালা প্রণয়ন কমিটি নতুন প্রস্তাবে কৃষি প্রকৌশলে ৪৫% এবং পুরকৌশলে ৩০% কোটার সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে, পানি সম্পদ, যন্ত্র ও তড়িৎ প্রকৌশলের মতো তিনটি স্বতন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল ডিসিপ্লিনকে একত্রে মাত্র ২৫% কোটায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।  

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কমিটিতে সমন্বিত পর্যালোচনার অভাব এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের একপেশে মনোভাবের কারণেই এ ধরনের সুযোগের অসম বণ্টন তৈরি হয়েছে। বিএডিসির বহুমাত্রিক কার্যক্রমে প্রতিটি প্রকৌশল শাখারই নিজস্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনটি ভিন্ন শাখাকে একসাথে মাত্র ২৫% কোটা দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতাকে সংকুচিত করবে, যা প্রতিষ্ঠানের ভারসাম্যপূর্ণ জনবল কাঠামো এবং ভবিষ্যতে পদোন্নতির ধারাবাহিকতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।  

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও কোটা সংস্কারের মূল ভাবনার সঙ্গে কমিটির এই প্রস্তাব সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা। তাঁদের মতে, প্রবিধানমালা প্রণয়ন কমিটি বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং অযৌক্তিক বিশেষ সুবিধার পথ তৈরি করেছে।  

এ অবস্থায় প্রবিধানমালা প্রণয়ন কমিটির প্রস্তাবিত ৪৫%/৩০%/২৫% কোটা বণ্টনের বিতর্কিত সুপারিশটি অবিলম্বে বাতিল ও পুনর্বিবেচনার জোর দাবি উঠেছে। ১৯৯০ সালের প্রবিধানমালার মতো নির্দিষ্ট কোটা ব্যতিরেকে সব প্রকৌশল ডিসিপ্লিনের যোগ্য প্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা, সমতা ও বৈষম্যহীন নিয়োগনীতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতীয় এর আরও খবর